ব্রাজিলের ফুটবল সমর্থকদের জন্য এর থেকে ভালো খবর আর হতেই পারে না। এদিন নিউ জার্সির ব্রাজিলের প্র্যাকটিস শিবির থেকে যে খবরটা ভেসে এল, তা জেনে যারপরনাই আনন্দিত হয়ে উঠবেন সারাবিশ্বে ছড়িয়ে থাকা ব্রাজিল সমর্থকরা। এদিন সকালের ট্রেনিং থেকে যে ছবিটা ভেসে এল, তার চেয়ে আরামদায়ক ফ্রেম এই মুহূর্তে ব্রাজিল ফুটবলের জন্য আর কিছু হতে পারত না! শুক্রবার হাইতি ম্যাচ। গ্রুপ ‘সি’-এর দ্বিতীয় যুদ্ধের আগে বুধবার যখন কার্লো আন্সেলোত্তি তাঁর ২৬ জন ফুটবলার নিয়ে প্র্যাকটিস করতে নামলেন, সকলের চোখ তখন একজনের দিকেই। আর তাঁর নাম, নেইমার (Neymar) দ্য সিলভা স্যান্টোস জুনিয়র।
এই বিষয়ে আরও খবর
শুরুতে দলের সব ফুটবলারদের সঙ্গে গা ঘামানো। আর তারপরেই সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ট্রেনিংয়ে নেমে পড়লেন নেইমার। এক লহমায় যেন বদলে গেল পুরো শিবিরের আবহাওয়া। এক মাস পরে মঙ্গলবারও তিনি প্র্যাকটিসে নেমেছিলেন। কিন্তু পুরোটাই একা। মাঠের বাইরে বল নিয়ে একা একা অনুশীলন। সেই শুরু। কিন্তু এদিন একেবারে দলের সঙ্গে প্র্যাকটিসে নেমে পড়লেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। আর এই দৃশ্য দেখে হাততালি দিয়ে উঠলেন প্র্যাকটিসে থাকা সতীর্থ ফুটবলাররা। সতীর্থদের সেই ভালোবাসা আর খুনসুটিতে ভেসে নেইমার যখন প্র্যাকটিস শেষে বের হলেন, তখন চোট-আঘাতের সব মেঘ কেটে গিয়ে সেখানে শুধুই হাসিমুখ। একেই তো বলে ড্রেসিংরুমের আসল কেমিস্ট্রি!
শুরুতে দলের সব ফুটবলারদের সঙ্গে গা ঘামানো। আর তারপরেই সতীর্থদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ট্রেনিংয়ে নেমে পড়লেন নেইমার। এক লহমায় যেন বদলে গেল পুরো শিবিরের আবহাওয়া।
অথচ এই ক’দিন আগেও পরিস্থিতি এমন ছিল না। সোমবারও নেইমারকে কাটাতে হয়েছিল ল্যাবরেটরির স্ক্যানারের নিচে। মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখতে উদগ্রীব ছিলেন খোদ আন্সেলোত্তিও। মঙ্গলবারে একমাস পরে প্রথমবারের জন্য মাঠে নেমে শুধু সোজা লাইনে দৌড়েছিলেন। কিন্তু বুধবারে দেখা গেল আসল ম্যাজিক। এবার আর সোজা দৌড় নয়, গতি বাড়িয়ে হঠাৎ থামা কিংবা চকিতে দিক পরিবর্তন, যে ড্রিবলিংয়ের চাবুকে বিশ্ব কাঁপে, তার প্রাথমিক মহড়াটা সেরে নিলেন।
হিসেব কষলে দেখা যাবে, স্যান্টোসের হয়ে কুরিতিবার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া সেই অভিশপ্ত ম্যাচে যখন ডান পায়ের কাফে চোট পেয়েছিলেন, আজ ঠিক তার একমাস পূর্ণ হল। একমাস পর বল পায়ে নেইমারকে দেখে গ্যালারিতে আশার আলো চকমক করতেই পারে, কিন্তু থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এখনই আবেগে ভাসতে রাজি নয়। আন্সেলোত্তি ভীষণ বাস্তববাদী। তাড়াহুড়ো করে নেইমারের বিশ্বকাপটা (FIFA World Cup 2026) নষ্ট করতে চান না।
হিসেব কষলে দেখা যাবে, স্যান্টোসের হয়ে কুরিতিবার বিরুদ্ধে ৩-০ গোলে হেরে যাওয়া সেই অভিশপ্ত ম্যাচে যখন ডান পায়ের কাফে চোট পেয়েছিলেন, আজ ঠিক তার একমাস পূর্ণ হল।
এই কয়েকদিন নেইমার শুধু চোট সারানোর প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকেননি। জিম, রিহ্যাব সেন্টারে ঘাম ঝরিয়েছেন যাতে পেশির জোর কমে না যায়। এখন মাঠে নামিয়ে তাঁর এনডিওরেন্স বাড়ানোর পরীক্ষাটা নেওয়া হচ্ছে। তাঁকে ছাড়া হাইতি ম্যাচে ব্রাজিলের পরিকল্পনাটা কেমন হবে? যা জানা যাচ্ছে, তাতে পরিষ্কার ৪-২-৪ কিংবা ৪-৪-২-এর একটা ফর্মেশনের ইঙ্গিত রয়েছে। মরক্কো ম্যাচে ওই ম্যাড়মেড়ে ড্রয়ের পর প্রথম একাদশে যে বড়সড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বৃহস্পতিবার আরও একটা প্র্যাকটিস সেশন পাওয়া যাবে। সেখানেই চূড়ান্ত হবে রণকৌশল।
তবে হাইতি ম্যাচের স্ট্র্যাটেজি যাই হোক, বুধবারের সেরা হেডলাইন ওই একটা নামই। হ্যাঁ, প্রথম ১০ মিনিট পর নেইমার আবার মূল দল থেকে আলাদা হয়ে নিজের চোট সারানোর একক লড়াইয়ে ফিরে গিয়েছিলেন। অলৌকিক কিছু না ঘটলে এখনও বলা যায়, হাইতির বিরুদ্ধে তাঁর মাঠে নামার সম্ভাবনা, শূন্য। ম্যাচ ফিটনেস পেতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। কিন্তু ওই যে দশটা মিনিট তিনি মাঠে থাকলেন, তাতেই যেন গোটা সেলেকাও শিবিরে অক্সিজেন সরবরাহ হয়ে গেল। নেইমার খেলছেন না, কিন্তু তিনি আছেন। এই অনুভূতিটাই তো ট্রফি জয়ের সরণিতে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় টনিক! আর আজকের দলের সঙ্গে প্র্যাকটিসে নেমে পড়া। এটাই তো সবচেয়ে বড় খবর।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বন্যায় কাঁদছে অসম! এখনও ক্ষতিগ্রস্ত লক্ষাধিক মানুষ, ১১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি জলমগ্ন, মৃত ১০০
-
পরমাণু চুক্তি নিয়ে সুর নরম, ইরান হরমুজে খুলে দিলেই নিষ্ফলা যুদ্ধে ইতি টানবেন ট্রাম্প!
-
মোটা মাইনের চাকরির টোপ দিয়ে কলকাতার যুবকদের উজবেকিস্তানে ‘পাচার’, তারপর…
-
রাজারহাটের অভিজাত আবাসনে পানীয় জলদূষণ! অসুস্থ বহু বাসিন্দা, তুমুল উত্তেজনা এলাকায়
-
অটো চালিয়ে অসুস্থকে বিনামূল্যে পৌঁছে দেন হাসপাতালে, ভাইরাল গভীর রাতের ‘শেরনি’



