Sergio Lobera

তারকাদের ইগো নিয়ন্ত্রণই লোবেরার মূল কাজ, ‘অ্যাটাকিং ফুটবলে’ ডার্বিজয়ের ছক মোহনবাগান কোচের!

সবুজ-মেরুমের এই কোচের চেয়ারে আগে যে তিনজন কোচ বসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম হাবাস। আরেকজন মোলিনা এবং তৃতীয় কোচের নাম ফেরান্দো। তিনজনেই মোহনবাগানের ট্রফি জয়ী কোচ। লোবেরা শুরুতেই 'চাপ' নামক শব্দটাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬, ২১:০৫

options
link
তারকাদের ইগো নিয়ন্ত্রণই লোবেরার মূল কাজ, ‘অ্যাটাকিং ফুটবলে’ ডার্বিজয়ের ছক মোহনবাগান কোচের!
মোহনবাগান কোচ সের্জিও লোবেরা। ছবি: মোহনবাগান সোশাল মিডিয়া

মোহনবাগান কোচের চেয়ারে বসা যে কতটা চাপের, সেটা যে নতুন কোচ, তিনিই একমাত্র তাঁর অভিজ্ঞতা বলতে পারবেন। কারণ, সবুজ-মেরুমের এই কোচের চেয়ারে আগে যে তিনজন কোচ বসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজনের নাম হাবাস। আরেকজন মোলিনা এবং তৃতীয় কোচের নাম ফেরান্দো। তথ্য বলছে, কারও বেশি। কারও কম। কিন্তু তিনজনেই মোহনবাগানের ট্রফি জয়ী কোচ। ফলে এখন যিনি বসবেন, তিনি যে পাহাড় প্রমাণ চাপ নিয়ে কোচের চেয়ারে বসবেন একথা বলাই বাহুল্য। কিন্তু লোবেরা (Sergio Lobera) অন্য ধাতুতে গড়া। ফলে সবুজ মেরুনে মাস খানেক প্র্যাকটিস করার পর এদিন যখন প্রথমবার যখন সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ খুললেন, শুরুতেই ‘চাপ’ নামক শব্দটাকে মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দিলেন।

Advertisement

কলকাতার তপ্ত দুপুরে তিনি যখন সাংবাদিক সম্মেলনে এলেন, পরনে সেই পরিচিত ধবধবে সাদা টিশার্ট। তাঁকে ঘিরে ততক্ষণে মোহনবাগানের সবুজ-মেরুন সমর্থকদের প্রত্যাশার পারদ চড়চড় করে বেড়েছে। আর হবেন না-ই বা কেন? যিনি কোচের হটসিটে বসেছেন, তিনি আর কেউ নন-বার্সেলোনার লা মাসিয়ায় কিশোর লিওনেল মেসির প্রথম জীবনের কোচেদের মধ্যে একজন। ফুটবল দুনিয়ায় যাঁর কোচিং দর্শন গড়ে উঠেছে পেপ গুয়ার্দিওলার ঘরানায়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

কিন্তু কলকাতা তো বার্সেলোনা নয়! এখানে সাফল্য না থাকলে মুহূর্তেই রাজমুকুট ধুলোয় মেশে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের একের পর এক বাউন্সারের মুখে দাঁড়িয়ে স্প্যানিশ কোচ বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু মাঠের ট্যাকটিশিয়ান নন, বরং স্নায়ুর লড়াইয়েও পোড়খাওয়া এক যোদ্ধা।

Advertisement

গত পাঁচ বছরে মোহনবাগান মানেই ট্রফি। সেই সাফল্যের সরণিতে পা রাখা কি চাপের? উত্তরটা এল বেশ সরাসরি-“আমি জানি আমি কোথায় দাঁড়িয়ে। এটা একটা জয়ী দল। এখানে অজুহাতের জায়গা নেই।” আগের কোচদের জুতোয় পা গলানোকে তিনি দেখছেন এক দারুণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে। তাঁর সাফ কথা, “ট্রফি জেতাই লক্ষ্য। আর মোহনবাগানের মতো ক্লাবে সেই অস্ত্রগুলো আমার হাতে আছে।” মোহনবাগান ড্রেসিংরুমে তারকায় ঠাসা। এই তারকাদের ইগে সামলাতে গিয়েই সমস্যায় পড়েছিলেন মোলিনা। ড্রেসিংরুেম এত বড় বড় নাম সামলানো কি সত্যিই কঠিন? কোচের ঠোঁটে আলগা হাসি লোবেরার, “এই সমস্যা যে কোনও কোচের জন্য দারুণ ব্যাপার। চমৎকার একটা সমস্যা! ১১ জন ভালো প্লেয়ার থাকার চেয়ে ২০ জন বিশ্বমানের প্লেয়ার থাকা যে কোনও কোচের জন্য আশীর্বাদ।”

কলকাতা তো বার্সেলোনা নয়! এখানে সাফল্য না থাকলে মুহূর্তেই রাজমুকুট ধুলোয় মেশে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের একের পর এক বাউন্সারের মুখে দাঁড়িয়ে স্প্যানিশ কোচ বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু মাঠের ট্যাকটিশিয়ান নন, বরং স্নায়ুর লড়াইয়েও পোড়খাওয়া এক যোদ্ধা।

তবে এটাও কিন্তু ঠিক, টেকনিক বা ট্যাকটিকসের চেয়েও তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন ড্রেসিংরুমের এই ‘ইগো’ সামলানোয়। ২৫ বছরের কোচিং অভিজ্ঞতার বুলি খুলে জানালেন, “ফুটবল একটা যৌথ লড়াই। কোন ফুটবলার, ক’মিনিট খেলল সেটা বড় কথা নয়, দলের জন্য কে কী দিল সেটাই আমার বা মোহনবাগানের জন্য আসল।”

কিন্তু ৩ মে তো ডার্বি। ট্রফি জিতুক আর না জিতুক। সমর্থকদের দৃষ্টি তো সব সময় সেই ডার্বির দিকে। যে কারণে ক্রীড়াসূচি প্রকাশের আগে থেকে সমর্থকদের আগ্রহ থাকে ডার্বির দিন। নিয়ে। লোবেরা বললেন, “কোচ হিসেবে এটা একটা ম্যাচ মাত্র।” কিন্তু পরক্ষণেই পেশাদার কোচের তকমা ছেড়ে স্বীকার করলেন- “আমি জানি সমর্থকদের কাছে ডার্বি জয়ের মাহাত্ম্য কী। আমরা মানুষকে আনন্দ দিতে এসেছি।” তবে চাপের সংজ্ঞায় তাঁর দর্শন একদম আলাদা। কোচ হিসেবে চাপে পড়তে পারেন, এরকমটা স্বীকারই করছেন না। বরং তার কাছে চাপ এর সংজ্ঞা আরও কঠিন। আরও বাস্তব।

বলছিলেন, “যে মানুষটা হাসপাতালের লড়াই বা পেটের খিদে মেটানোর জন্য লড়াই করছে, সেটা হচ্ছে আসল চাপ। সেটাই হচ্ছে আসল লড়াই। সেই লড়াইটাই হচ্ছে আসল ‘প্রেসার’।” আর ফুটবলটা হচ্ছে লোবেরার কাছে প্যাশন, যা দিয়ে তিনি গ্যালারিতে হাসি ফোটাতে চান। সাংবাদিক সম্মেলনের শেষের দিকে অবধারিতভাবে উঠে এল সেই জাদুকরের নাম- লিওনেল মেসি। “ছোট্ট ছেলেটা যখন প্রথম বলটা টাচ করেছিল, তখনই বুঝেছিলাম ও আলাদা,” স্মৃতিচারণয় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোচ লোবেরা। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর প্রতি শ্রদ্ধা থাকলেও তাঁর হৃদয়ে শুধুই লিও। আর সেই সাদা শার্ট আর টি শার্ট? ছ বছর ধরে যা তাঁর ট্রেডমার্ক। কোনো কুসংস্কার? মৃদু হেসে জানালেন, “আমি এটাকে কুসংস্কার বলতে চাই না, তবে হ্যাঁ, এটাই আমার একমাত্র বিশেষত্ব। যদিও জেতার জন্য ভালো ফুটবলটাই আসল। কোনও সংস্কার সেখানে কাজ করে না।”

সাংবাদিক সম্মেলনের শেষের দিকে অবধারিতভাবে উঠে এল সেই জাদুকরের নাম- লিওনেল মেসি। “ছোট্ট ছেলেটা যখন প্রথম বলটা টাচ করেছিল, তখনই বুঝেছিলাম ও আলাদা,” স্মৃতিচারণয় আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোচ লোবেরা।

এবারের আইএসএলের সঙ্গে অন্যান্যবারের আইএসএলকে মেলালে হবে না। এবার আবহটা সম্পূর্ণই আলাদা। সময়ের চাপে ছোট হয়ে এসেছে আইএসএল। ফলে লোবেরা মনে করছেন, কিছু ভুল করলে তা সংশোধন করে ফিরে আসার সুযোগ খুবই কম। কিন্তু বাগানের বর্তমান কোচের পকেটেও একাধিক সাফল্য। মুম্বইকে ডাবল দিয়েছেন, ওড়িশাকে ইতিহাস চিনিয়েছেন। এবার মিশন কলকাতা। বাগান জনতাকে তিনি এদিন কথা দিলেন ‘অ্যাটাকিং ফুটবল’ আর ৯০ মিনিটের বিনোদনের। লোবেরার অ্যাটাকিং ফুটবলের হাত ধরে মোহনবাগানে কি এবার স্প্যানিশ তিকিতাকার সুবাস বয়ে আসবে? লোবেরা তো সেই চ্যালেঞ্জটাই নিলেন এদিন প্রথম সাংবাদিক সম্মলেন থেকে। তবে একই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, চোটের জন্য আশিস রাইকে ছাড়াই তাঁকে ম্যাচ জেতার পরিকল্পনা করতে হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন