Netaji Subhas Chandra Bose

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাডমিন্টন, গোষ্ঠ পালের খেলা দেখতে ছদ্মবেশ নেতাজির! রইল সুভাষচন্দ্রর ক্রীড়াপ্রীতির গল্প

কোনও দিন দুপুর তিনটের সময় খেলা শুরু হত। ততক্ষণ ব্যাডমিন্টন খেলা চলত, যতক্ষণ না সন্ধ্যার অন্ধকার শাটলকক অদৃশ্য না হয়ে যায়। কম করে ৮-৯টা সেট না খেলে নেতাজি খুশি হতেন না।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৯:০৭

options
link
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাডমিন্টন, গোষ্ঠ পালের খেলা দেখতে ছদ্মবেশ নেতাজির! রইল সুভাষচন্দ্রর ক্রীড়াপ্রীতির গল্প
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ফাইল ছবি

তিনি আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের চিরপ্রণম্য নেতা। তাঁকে ভয় পেত ইংরেজ সরকারও। আজও দেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর (Netaji Subhas Chandra Bose) নাম। কিন্তু জানেন কি, খেলার মাঠের সঙ্গেও অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক ছিল নেতাজির? যিনি এত বড় সৈন্যবাহিনীর নেতা, তাঁকে তো শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতেই হয়! নেতাজির ফিট থাকার মূল মন্ত্র ছিল ব্যাডমিন্টন খেলা। এখানেই শেষ নয়, ফুটবলের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল সুভাষচন্দ্র বসুর। তাঁর ১২৯ তম জন্মবার্ষিকীতে ফিরে দেখা নেতাজির ক্রীড়াপ্রীতির গল্প।

Advertisement

১৯৪৩ সালে আজাদ হিন্দ ফৌজের পূর্ণ দায়িত্ব নেতাজির হাতে আসে। দেশের স্বাধীনতা স্বপ্নকে বাস্তব করে তুলতে তাঁর সক্রিয়তা শুরু হয়। ব্রিটিশ সেনার গোয়েন্দা কর্মকর্তা হিউ টয় তাঁর বই ‘দ্য স্প্রিঞ্জিং টাইগার সুভাষ চন্দ্র বোস’ বইয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা লিখেছেন। তার সঙ্গে আছে নেতাজির ক্রীড়াপ্রেমের কথা। ওই গ্রন্থে হিউ লিখেছেন, “তিনি যখন খুশি সৈনিকদের সঙ্গে খেতে চলে যেতেন। নিজের ঘরের দরজা সবার জন্য খোলা থাকত। সবার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতেন। তাঁদেরকে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য আমন্ত্রণ করতেন। ব্যাডমিন্টন ছিল তাঁর রোজকার ব্যায়ামের মতো। সবাইকে তিনি সমান চোখে দেখতেন। সহযোদ্ধা মনে করতেন।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তিনি যখন খুশি সৈনিকদের সঙ্গে খেতে চলে যেতেন। নিজের ঘরের দরজা সবার জন্য খোলা থাকত। সবার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতেন। তাঁদেরকে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য আমন্ত্রণ করতেনি। ব্যাডমিন্টন ছিল তাঁর রোজকার ব্যায়ামের মতো। সবাইকে তিনি সমান চোখে দেখতেন। সহযোদ্ধা মনে করতেন।

ব্যাডমিন্টন খেলার প্রবল নেশা ছিল নেতাজির। যখন খেলতেন, খেলেই যেতেন। আজাদ হিন্দ ফৌজের যোদ্ধা সুব্বিয়ার আপ্পাদুরাই আয়ার তাঁর ‘আনটু হিম আ উইটনেস’ গ্রন্থে বিস্তারিত বিবরণ লিখেছেন। তাঁর বর্ণনা, “যখন তিনি ব্যাডমিন্টন খেলতেন, আমি বলতাম তিন-চার সেটে খেলা থামিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি থামতেন না। কম করে ৮-৯টা সেট না খেলে তিনি খুশি হতেন না।” হয়তো কোনও দিন দুপুর তিনটের সময় খেলার ডাক পড়ত। ততক্ষণ ব্যাডমিন্টন খেলা চলত, যতক্ষণ না সন্ধ্যার অন্ধকার শাটলকক অদৃশ্য না হয়ে যায়।

Advertisement

যখন তিনি ব্যাডমিন্টন খেলতেন, আমি বলতাম তিন-চার সেটে খেলা থামিয়ে দিতে। কিন্তু তিনি থামতেন না। কম করে ৮-৯টা সেট না খেলে তিনি খুশি হতেন না।

এ তো গেল ব্যাডমিন্টনের কথা। এবার বলা যাক, তাঁর ফুটবলপ্রীতির কথা। ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি গোষ্ঠ পালের ভক্ত ছিলেন তিনি। ‘চিনের প্রাচীর’ নামে খ্যাত ফুটবলারের জীবনী গ্রন্থ ‘ফুটবলের মহানায়ক গোষ্ঠ পাল’ গ্রন্থে তাঁর উল্লেখ আছে। গ্রন্থকার জয়ন্ত দত্ত লিখেছেন, মোহনবাগানের কিংবদন্তি ডিফেন্ডারের ভক্ত ছিলেন নেতাজি। ওই গ্রন্থের এক জায়গায় তিনি লিখছেন, “শুধু রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ নয়, গোষ্ঠবাবুর ভক্ত ছিলেন সেদিন গোটা ভারতের প্রায় সমস্ত উচ্চস্থানীয় সর্বস্তরের সেরা ব্যক্তিরা। এই বাংলার বরেণ্য নেতা দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, বারীন ঘোষ প্রমুখ রাষ্ট্র নায়কেরা ছিলেন গোষ্ঠবাবুর ভক্ত।” শোনা যায়, একবার ছদ্মবেশে গোষ্ঠ পালের খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। তবে দু’জনের কখনও আলাপ হয়নি। কিন্তু গোষ্ঠ পালও যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ছিলেন নেতাজি সম্পর্কে। একজন ফুটবল মাঠে গোরাদের আক্রমণ ঠেকাতেন। আরেকজন দেশের মাটি থেকে ইংরেজ বিতাড়নে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন