ডোপিং নিয়ে একের পর এক বিতর্কে বিদ্ধ ছিল ভারতের ভারোত্তোলক দল। এমনিতেই ডোপিং নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে ভারতের কোটা কমেছে। তবে সমালোচনাকে দূরে সরিয়ে রবিবার চলতি কমনওয়েলথ গেমসে ভারোত্তোলন ইভেন্টের শুরুটা দারুণ করে ভারত। রুপোর পদক এনে দেন ঋষিকান্ত সিং। এরপর সকলের নজর ছিল মীরাবাঈ চানুর দিকে। গ্লাসগোয় ৪৮ কেজি বিভাগে সোনা জিতে ইতিহাস লিখলেন। অলিম্পিকে রুপো জয়ী এই তারকার ঝুলিতে এখন টানা তিনটি কমনওয়েলথের সোনার পদক।
আরও পড়ুন:
এই ইভেন্টে চারটি রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সি ভারতীয় তারকা।
স্ন্যাচ ইভেন্টে ৮২ কেজি ওজন দিয়ে শুরু করেন তিনি। যা এই ক্যাটাগরির সবার চেয়ে বেশি ছিল। কিন্তু প্রথম প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হন। তবে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় সফলভাবে ৮২ কেজি ভার তোলেন। তৃতীয় চেষ্টায় ৮৫ কেজি তুলে কমনওয়েলথ রেকর্ড গড়েন। সেই মুহূর্তেই পরিষ্কার হয়ে যায়, টানা তৃতীয় কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জেতা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। কারণ এরপর নজরে ছিল ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তিনি ১০৫ কেজি ওজন তুলতে পারেন কি না।
The Gold Saga begins 🥇
AdvertisementMirabai Chanu wins the first gold medal for India in the #CWG2026 in Women’s 49Kg Weightlifting.
She has become India’s first weightlifter to score a hat-trick of Gold Medals in the Commonwealth Games.
Her unwavering dedication and commitment to the… pic.twitter.com/5lpwLFqvb5— Anurag Thakur (@ianuragthakur) July 26, 2026
প্রথম প্রচেষ্টাতেই তাঁর সামনে সোনা জয়ের সুযোগ ছিল। যদিও ব্যর্থ হন। কিন্তু দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ভুল শুধরে নিয়ে অন্যবদ্য প্রত্যাবর্তন করেন চানু। সব মিলিয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুললেন মণিপুরের ভূমিকন্যা। যা সোনার পদকের জন্য যথেষ্ট। ২০১৮ গোল্ড কোস্ট, ২০২২ বার্মিংহ্যামের পর গ্লাসগো কমনওয়েথ গেমসেও সোনা জিতলেন চানু। তাছাড়া ২০১৪ সালে নিজের প্রথম কমনওয়েলথ গেমসেও রুপো জিতেছিলেন। অর্থাৎ, টানা চারবার এই প্রতিযোগিতায় ভারতকে পদক এনে দিলেন তিনি।
এই ইভেন্টে চারটি রেকর্ড নিজের নামে করে নিয়েছেন ৩১ বছর বয়সি ভারতীয় তারকা। প্রথমে স্ন্যাচে ৮২ কেজি ওজন তুলে কমনওয়েলথে নতুন রেকর্ড গড়েন। এরপর ৮৫ কেজি তুলে নিজের সেই রেকর্ডই ভাঙেন। পরে ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ১০৫ কেজি ওজন তুলেও নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। সব মিলিয়ে ১৯০ কেজি ওজন তুলে মোট ওজনের বিভাগেও তিনি নতুন কমনওয়েলথ রেকর্ড নিজের নামে লিখে নেন। ৪৮ কেজি বিভাগে রুপো জিতলেন নাইজেরিয়ার রুথ আসুকো নিয়ং (১৬৮ কেজি)। মালয়েশিয়ার আইরিন জেন হেনরি (১৬৭ কেজি)-র নামে ব্রোঞ্জ। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন চানু। পদক জিতে পোডিয়ামে জাতীয় সঙ্গীতের সময় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি ভারতের সোনার মেয়ে।
পদক জিতে তিনি বলেন, “মা এবং কোচ বিজয় স্যরকে দেওয়া আবার সোনা জেতার প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি।”
গ্লাসগোয় ইতিহাস গড়ে চানু বলেন, “আমার পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট। টানা তৃতীয়বার কমনওয়েলথ গেমসে সোনার পদক জিততে পেরে গর্বিত। জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা এবং জাতীয় সঙ্গীত বাজতে শোনা অত্যন্ত আবেগের মুহূর্ত। তখনই মনে হয়েছিল, মা এবং কোচ বিজয় স্যরকে দেওয়া আবার সোনা জেতার প্রতিশ্রুতি রাখতে পেরেছি।” এই সাফল্যের জন্য কোচ বিজয়, সাপোর্ট স্টাফ, ওয়েটলিফটিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া, ক্রীড়া মন্ত্রক, স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, আইওএস, দেশের সকল সমর্থককেও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মীরা। তাঁর সংযোজন, “আমার মা ও পরিবারের সদস্যরা সবসময় আমার জন্য প্রার্থনা করেন। তাঁদের আশীর্বাদই আমাকে দেশের জন্য সেরাটা দেওয়ার শক্তি জোগায়।”
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ