কুলদীপের কামালে দলে ফেরার রাস্তা কঠিন হল অশ্বিন, জাদেজাদের!

এমনটাই মনে করছেন হরভজন সিং।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৭, ১৪:১১

options
link
কুলদীপের কামালে দলে ফেরার রাস্তা কঠিন হল অশ্বিন, জাদেজাদের!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ওয়ানডেতে তৃতীয় ভারতীয় এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পঞ্চম ভারতীয় হিসেবে হ্যাটট্রিক করেছেন। মহেন্দ্র সিং ধোনি বা বিরাট কোহলি নন, পাদপ্রদীপের আলোয় আপাত আনকোরা কুলদীপ যাদব নামে এক তরুণ তুর্কি। ২০০১ সালে এই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই হ্যাটট্রিক করেছিলেন কোনও এক তরুণ অখ্যাত স্পিনার হরভজন সিং। আর তার ১৬ বছর পর ফের এক স্পিনারের হাতে বিপর্যস্ত অজি বাহিনী। যদিও স্টিভ ওয়া-র ওই দলের সঙ্গে, স্টিভ স্মিথের এই দলের আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তবে তাতেও কমছে না কুলদীপের কৃতিত্ব।আর কুলদীপের কামালেই অশ্বিন, জাদেজার দলে ফেরার রাস্তা যে কঠিন হল এমনটাই মনে করছেন হরভজন সিং।

Advertisement

ভারত বরাবরই স্পিনারদের স্বর্গরাজ্য। প্রসন্ন থেকে কুম্বলে হয়ে হরভজন- প্রতি পর্বেই কোনও না কোনও কিংবদন্তির দেখা মিলেছে। এই সময়েও অশ্বিন, জাদেজারা ভারতের সাফল্যের অন্যতম কান্ডারি। কিন্তু ভারতীয় ক্রিকেটে অশ্বিনদেরও নেক্সট জেনারেশন যে তৈরি হয়ে গিয়েছে তা কুলদীপ, চাহালকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে। সুতরাং দলের দুই স্পিনার যখন ভাল পারফর্ম করেন, তাঁদের বসিয়ে দিয়ে অন্যদের ফেরানোর সিদ্ধান্ত বেশ কঠিন। এমনটাই মনে করছেন হরভজন। সিরিজের বাকি ম্যাচগুলি অবশ্য পড়ে রয়েছে। সেখানে কুলদীপ, চাহালরা কতটা সফল হবেন, তাইই ঠিক করে দেবে আগামীর অঙ্ক। তবে দুজনেই যদি সাফল্য পান, সেক্ষেত্রে হরভজনের অনুমানই সঠিক। দলে ফেরার রাস্তা একটু কঠিনই হবে জাদেজা, অশ্বিনের কাছে।

Advertisement

 

Advertisement

[সীমান্তে পাক সেনার হামলা, ৭০০ বাসিন্দাকে সরালেন জওয়ানরা]

এদিকে ছেলের এই সাফল্যে গর্বিত তাঁর মা-বাবাও। তবে প্রথমে কিন্তু বেশ হতাশই হয়ে পড়েছিলেন তাঁরা।দাদার সাফল্যে খুশি গোটা পরিবার, ম্যাচের পর সংবাদসংস্থা এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানান কুলদীপ যাদবের ছোট বোন অনুষ্কা সিং যাদব। ‘আমরা এই মুহূর্তটির জন্য বহুদিন ধরেই অপেক্ষা করে ছিলাম। আমার দাদা খুব ভালও খেলেছে, তাই খুব খুশি হয়েছি। হ্যাঁ, প্রথমে হয়ত ভাল বল করতে পারেনি, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস ছিল এই ম্যাচে ও দুর্দান্ত কোনও পারফরম্যান্স উপহার দেবে।’ প্রথম দিকে কুলদীপের বোলিং ভাল না হওয়ায় চিন্তায় ছিলেন তাঁর মা ঊষা যাদব। এমনকী পরে পুজো করতেও বসেন তিনি। শেষপর্যন্ত ছেলে সাফল্য অর্জন করায় খুশি তিনিও। বলেন, ‘মা হিসেবে এই দিনটি আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের। প্রথমদিকে কুলদীপ উইকেট না পাওয়ায় কিছুটা চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। এরপর আর খেলাই দেখিনি। ছেলের জন্য প্রার্থনা করতে বসেছিলাম। আমি যা প্রার্থনা করেছি ও সেটাই করেছে।’ একই সুর কুলদীপের বাবার রাম সিংয়ের গলাতেও। তাঁর কথায়, ‘আমিও প্রথমে হতাশ হয়ে পড়েছিলাম, পরে অবশ্য খুশিই হয়েছি। প্রতি ম্যাচেই প্রথম ২-৩ ওভারে সাফল্য পেয়ে যায় কুলদীপ। কিন্তু আজ ওকে লড়াই করতে হয়েছে।’ কুলদীপের সাফল্যে খুশি তাঁর পাড়া-প্রতিবেশী-বন্ধুরাও। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় থেকে শুরু করে ইডেনে হ্যাটট্রিককারী কপিল দেব, হরভজন সিং-রা।

[বিরাটের চওড়া ব্যাট আর কুলদীপের হ্যাটট্রিকে ইডেনে ছারখার অজিবাহিনী]

এদিকে যাঁকে নিয়ে এত হইচই সেই ‘চায়নাম্যান’ বোলার কুলদীপ যাদব কী বলছেন? ম্যাচের শেষে সতীর্থ ভুবনেশ্বর কুমারের সঙ্গে কথা প্রসঙ্গে কুলদীপ বলে দিলেন, ইডেন তাঁর কাছে কার্যত হোম গ্রাউন্ড। কারণ কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে চার বছর খেলেছেন। তাই সেখানকার বাইশ গজে নামার আগে স্পেশাল কিছু করে দেখানোর খিদেটা বেড়ে গিয়েছিল অনেকটা। গত আইপিএলেও নাটদের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। এবার সিনিয়র দলের হয়েও বাজিমাত। ইডেন বলেই কী অ্যাডভান্টেজ বেশি ছিল? ভুবির প্রশ্নের জবাবে কুলদীপ বলে দেন, “সত্যিই তাই। এই মাঠে চার বছর খেলেছি। জানি উইকেটের চরিত্র, সমর্থকদের আবেগ। এখানে নামার আগে তাই স্পেশাল কিছু করে দেখানোর খিদে ছিল। হ্যাটট্রিক করে সেটা সুদে-আসলে পুষিয়ে দিয়েছি।” সিনিয়র দলের হয়ে প্রথম হ্যাটট্রিক। এর আগে অনূর্ধ্ব ১৯ দলে খেলার সময় করেছিলেন। কিন্তু দুই স্তরের ফারাক যে আসমান-জমিন। পরপর দুই উইকেট নেওয়ার পর মাথায় কী ঘুরছিল? কুলদীপ বলে দেন, “জানতাম নতুন ব্যাটসম্যানকে সমস্যায় ফেলতে হলে বল উলটো দিকে ঘোরাতে হবে। সেটাই করেছি। মাহি ভাই ক্যাচটা দারুণ নিয়েছে। রাতটা স্পেশাল হয়েই থাকল।”

[এই কাজটি করলেই সরকারি কর্মীরা পাবেন টানা ১৬ দিনের ছুটি!]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.