Mohun Bagan

ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে কেন মোহনবাগানে? মুখ খুললেন সায়ন, ডার্বির ভেন্যুও চূড়ান্তের পথে 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে এবার কলকাতা লিগে জাতীয় সঙ্গীত 'জন গণ মন' এবং রাষ্ট্রগান 'বন্দে মাতরম'– দুই-ই রাখা হয়েছে।

প্রসূন বিশ্বাস
প্রসূন বিশ্বাস

শেষ আপডেট: জুলাই ১২, ২০২৬, ২৩:৪৯

options
link
ইস্টবেঙ্গল ছেড়ে কেন মোহনবাগানে? মুখ খুললেন সায়ন, ডার্বির ভেন্যুও চূড়ান্তের পথে 
পাঠচক্রের বিরুদ্ধে নামার আগে অনুশীলনে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, দীপেন্দু বিশ্বাসরা। ছবি মোহনবাগান।

পাখির চোখ কলকাতা লিগ। ঘরোয়া মঞ্চে শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়েই সোমবার অভিযান শুরু করবে মোহনবাগান। প্রতিপক্ষ পাঠচক্র। কোচ বাস্তব রায়ের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী বঙ্গব্রিগেড নিয়ে নামবে সবুজ-মেরুন। ম্যাচের চব্বিশ ঘণ্টা আগে অধিনায়ক ঘোষণা করে দিল গোষ্ঠ পাল সরণির ক্লাব। তবে সেখানেও রয়েছে বড় চমক। একজন নন, কলকাতা প্রিমিয়ার লিগে চারজনের কাঁধে থাকবে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব। অন্যদিকে, দলবদল নিয়ে মুখ খুলেছেন সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাছাড়াও ডার্বির ভেন্যুও চূড়ান্ত হওয়ার পথে। 

Advertisement

এই গুরুদায়িত্ব সামলাবেন কিয়ান নাসিরি, অভিষেক সূর্যবংশী, সুহেল ভাট ও দীপেন্দু বিশ্বাস। লিগের প্রথম ম্যাচে নামার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোহনবাগানের হেডস্যর বাস্তব রায় এবং ফুটবলার সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। সবুজ-মেরুন কোচ বলেন, “আমাদের চার অধিনায়ক বাছা হয়েছে। লম্বা লিগ। কিয়ান, সুহেল, অভিষেক ও দীপেন্দু। এরা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে নেতৃত্ব দেবে। মূল ক্যাপ্টেন কিয়ান। অনেকেই এবার সিনিয়র দল থেকে কলকাতা লিগের দলে এসেছে। তাই আমাদের দল শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু সেটা এখনও খাতায়কলমে। দলের শক্তি কতটা বেড়েছে, তার উত্তর পাওয়া যাবে মাঠে। আমরা সেরা দল সেটা তো মাঠেই প্রমাণ করতে হবে।”

Advertisement

লিগের প্রথম ম্যাচে নামার আগে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মোহনবাগানের হেডস্যর বাস্তব রায় এবং ফুটবলার সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রতিপক্ষ পাঠচক্রকে নিয়ে তিনি বলেন, “ওদের সম্পর্কে আলাদা করে তথ্য পাইনি। তবে লিগের প্রথম ম্যাচ। আমাদের সাবধানে শুরু করতে হবে।” এতদিন কলকাতা লিগকে মূল দলের সাপ্লাই লাইন হিসাবে ব্যবহার করা হত। এই বছর ব্যতিক্রম। সিনিয়র দলের একঝাঁক তারকা কলকাতা লিগের দলে। বাস্তবের মন্তব্য, “সিনিয়র দলের অনেকেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেনি টানা দুই ম্যাচ। ওদের তো ম্যাচ টাইম দিতে হবে। তাই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে ওদের। অবশেষে লিগ শুরু হচ্ছে। এটাই বড় ব্যাপার।”

Advertisement

নতুন মরশুমে মোহনবাগানের জার্সিতে খেলবেন গত মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। লাল-হলুদ ছেড়ে কেন সবুজ-মেরুনে এলেন, এর জন্য কি বাড়তি চাপ রয়েছে? এর উত্তরে তিনি বলেন, “চাপের কোনও ব্যাপার নেই। এটা আমার প্রফেশন। এমন তো হয়েই থাকেই। কেউ ইস্টবেঙ্গল থেকে মোহনবাগানে যায়, কেউ মোহনবাগান (Mohun Bagan) থেকে ইস্টবেঙ্গলে। এটা খুবই স্বাভাবিক। আমাকে ভালো খেলতে হবে। লক্ষ্য থাকবে বেশি বেশি গোল করা। অ্যাসিস্ট করা। দলকে জেতানো। আগেও কলকাতা লিগে চার-পাঁচটা গোল করেছি। এবারও সেই পরিসংখ্যানকে ছাপিয়ে যেতে চাই। সিএফএলে ভালো খেলে সিনিয়র দলে যাতে জায়গা করে নিতে পারি, সেই লক্ষ্য থাকবে।” নতুন সতীর্থদের কেমন লাগছে? সায়নের কথায়, “ওদের আমি আগে থেকেই চিনতাম। এখানে এসে আরও ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে।” পাশাপাশি মোহনবাগানের সিনিয়র দলের অধিনায়ক শুভাশিস বোসের পরামর্শ পেয়েছেন বলেও জানান ২৩ বছরের ফুটবলার।

নতুন সতীর্থদের কেমন লাগছে? সায়নের কথায়, “ওদের আমি আগে থেকেই চিনতাম। এখানে এসে আরও ভালো বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছে।”

ডায়মন্ড হারবার এফসি এবং শ্রীভূমি এফসি এবার কলকাতা লিগে অংশ নিচ্ছে না। ফলে দুই গ্রুপে সমান সংখ্যক ম্যাচ নিশ্চিত করতে লটারির করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত। তাছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, ডায়মন্ড হারবার এফসি ও শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনও উত্তর না দেওয়ায় তাদের বাদ দিয়েই কলকাতা ফুটবল লিগ শুরু করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “শুনতে পাচ্ছিলাম ডায়মন্ড হারবার ও শ্রীভূমি এবার দল করছে না। ওরা বৈঠকেও আসেনি। চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছিলাম, খেলবে কি না। খেললে ৩০ জুনের মধ্যে জানাতে বলেছিলাম। কিন্তু ওদের তরফ থেকে কোনও উত্তর পাইনি। তাই ওদের বাদ দিয়েই লিগ শুরু করেছি।” অনির্বাণ আরও জানান, দুই দল না খেলায় নতুন করে লটারি করে গ্রুপ বিন্যাস করতে হয়েছে। তাঁর কথায়, “ওরা জানায়নি বলেই আমাদের আবার লটারি করে নতুন করে গ্রুপ বানিয়ে লিগ শুরু করতে হয়েছে। আমরা সমস্ত ক্লাবকে ডেকেছিলাম। তাদের মতামত নিয়েই লটারি হয়। একদিকে দু’টি দল খেলছে না। অন্যদিকে সব দল খেলছে। তাই একটি নন-প্লেয়িং দলকে উলটো গ্রুপে নিয়ে গিয়ে একটি প্লেয়িং দলকে ওই গ্রুপে পাঠানো হয়েছে, যাতে দুই গ্রুপেই সমান সংখ্যক ম্যাচ হয়।”

উল্লেখ্য, মাসখানেক আগে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানিয়েছিলেন, ডায়মন্ড হারবার এফসির গঠন ও কার্যকলাপ নিয়ে সরকারের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। সেই অভিযোগগুলির ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে সুরুচি সংঘ লিগে খেলবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। পাশাপাশি, নির্ধারিত সময়ে লিগ শুরুর জন্য সহযোগিতা করায় রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ডাঃ ইন্দ্রনীল খাঁকে ধন্যবাদ জানান অনির্বাণ। 

এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশিকা মেনে এবার কলকাতা লিগে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং রাষ্ট্রগান ‘বন্দে মাতরম’– দুই-ই রাখা হয়েছে। ডার্বির ভেন্যু নিয়ে অনির্বাণ দত্ত বলেন, “আমরা বারাসত স্টেডিয়ামে ডার্বি আয়োজনের চেষ্টা করছি। গতবার কল্যাণীতে খুব ভালো ডার্বি হয়েছিল। তবে বারাসত শহরের কাছাকাছি হওয়ায় দর্শকদের মাঠে পৌঁছনো সহজ হবে। স্টেডিয়ামটিও নতুন করে সেজে উঠেছে। সম্ভব হলে বারাসতেই ডার্বি হবে, না হলে কল্যাণী তো রয়েছেই।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.