ভারতীয় রাজনীতির পরিসরে সৌজন্য অতি স্বাভাবিক এবং সুলভ, এমন কথা বলা কঠিন। বারবার অসৌজন্যতা ছবি উঠে এসেছে। যদিও রাজনীতিতে সৌজন্যতা যে একেবারে উঠে যায়নি, তা বারবার প্রমাণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার ভোটযুদ্ধেও (Bengal Election 2026) সেই সৌজন্যতার নজির তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তীর। হুগলির পান্ডুয়া বিধানসভা কেন্দ্রে এবার তৃণমূল প্রার্থী তিনি। নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে সিপিএম প্রার্থীকে দেখেই এগিয়ে যান সমীর চক্রবর্তী। ‘দাদা’ বলে ডাক দেন সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেনও। শুধু তাই নয়, হাতে হাত মিলিয়ে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করলেন তাঁরা। পরস্পর বিরোধী, ভোটের ময়দানে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী! এরপরেও দুজনের সৌজন্যতায় মুগ্ধ পান্ডুয়ার জামনা গ্রামের বাসিন্দারা। ইতিমধ্যে দুজনের ছবি সমাজমাধ্যমে ভাইরাল।
এই বিষয়ে আরও খবর
জানা যায়, পাণ্ডুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী (বুয়া) পান্ডুয়ায় গাড়ি নিয়ে জনসংযোগ করছিলেন। সেই সময় ওই এলাকারই একটি জায়গায় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন পাণ্ডুয়া কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন। আর তাঁকে দেখা মাত্রই গাড়ি থামিয়ে দেন তৃণমূল প্রার্থী। ‘দাদা’ বলে ডেকে ওঠেন আমজাদও। আর সেই মুহূর্তে গাড়ি থেকে নেমে আমজাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন সমীর চক্রবর্তী। শুধু তাই নয়, দুজনকে বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতেও দেখা যায়। ভোটের ময়দানে হেভিওয়েট দুই প্রার্থীর পুরনো সখ্য আঁচ করতে পেরেই কর্মী সমর্থকরা সমীর এবং আমজাদকে একসঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ করেন। আর তাতে কেউ কোনও আপত্তিও করেননি। আর তা বুঝতেই সঙ্গে সঙ্গে ‘বিরল’ মুহূর্তকে ক্যামেরাবন্দি করে ফেলেন। আর সেই ছবি সমাজমাধ্যমে এখন ভাইরাল।

পাণ্ডুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সমীর চক্রবর্তী (বুয়া) পান্ডুয়ায় গাড়ি নিয়ে জনসংযোগ করছিলেন। সেই সময় ওই এলাকারই একটি জায়গায় কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন পাণ্ডুয়া কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী আমজাদ হোসেন। আর তাঁকে দেখা মাত্রই গাড়ি থামিয়ে দেন তৃণমূল প্রার্থী। ‘দাদা’ বলে ডেকে ওঠেন আমজাদও। আর সেই মুহূর্তে গাড়ি থেকে নেমে আমজাদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন সমীর চক্রবর্তী।
সমীর চক্রবর্তী বলেন, ”২০১৬ সালে বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় যাওয়ার পরে অন্যদের মতো সিপিএম বিধায়ক আমজাদ হোসেনের সঙ্গে পরিচয় হয়। মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করেছি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের থেকে বন্ধু আমজাদ আমার কাছে বড় হয়ে উঠেছে। তাই, বাংলার সংস্কৃতি ও পরম্পরা মেনেই সৌজন্য বিনিময় করেছি আমরা।” তৃণমূল প্রার্থীর কথায়, ভোটের (Bengal Election 2026) আদর্শ এবং নীতি আলাদা। অন্যদিকে আমজাদ হোসেন জানান, ”বাঁকুড়া থেকে এবার পান্ডুয়ায় লড়াই করছেন। আমাদের কাছে অতিথি দেবতার সমান। সেই বিশ্বাস থেকেই সমীরদার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। এটাই রাজনৈতিক ভদ্রতা।” ‘দাদা’ ডাকা প্রসঙ্গে সিপিএম প্রার্থী বলেন, ”সমীরদা বয়সে বড় আমার থেকে। তাই দাদা বলে ডেকেছি।”
আমজাদ হোসেন এবং সমীর চক্রবর্তী দুজনেই রাজনীতিতে দুই মেরুর হলেও তাঁদের মধ্যে রয়েছে একাধিক সামঞ্জস্য! দীর্ঘদিনের লড়াকু সৈনিক। গত ২০১৬ সালে বাঁকুড়ার তালডাংড়া বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে ভোটের ময়দানে নামেন সমীর চক্রবর্তী। তাঁর কাছে হেরে যান বাঁকুড়ার দাপুটে সিপিএম নেতা অমিয় পাত্র। প্রায় ১৪ হাজার ভোটে পরাজিত হন তিনি। অন্যদিকে পাণ্ডুয়া থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন আমজাদ। ২০১১ সালের পালাবদলের পরেও পান্ডুয়া থেকে জয় পান তিনি। জয় পেয়েছিলেন ২০১৬ সালেও। যদিও ২০২১ সালে হারতে হয় আমজাদকে। এই প্রেক্ষাপটে দুই রাজনৈতিক কারবারি ফের একবার ভোটের ময়দানে।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
বর্ষাকে ‘সোয়্যাগে’ স্বাগত সলমনের, পানভেলের খেত থেকেই বিতর্কিত ‘মাতৃভূমি’ নিয়ে বড় ঘোষণা!
-
ডায়াবেটিসে কি সত্যিই বাড়ে ক্যানসারের ঝুঁকি? ব্যাখ্যা দিলেন বিশেষজ্ঞ
-
গম্ভীরের বদলে টিম ইন্ডিয়ার কোচের পদে লক্ষ্মণ, সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলল বিসিসিআই
-
আরও ৯ তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগ, ভাঙার মুখে বারাসত পুর বোর্ড!
-
ভারত-ইন্দোনেশিয়া সম্পর্কের সূত্র রামায়ণ-মহাভারতের ঐতিহ্যে, জাকার্তার সংসদে বক্তৃতা মোদির



