Amit Shah

১৭৭ বলেছিলেন শুভেন্দু, ৭ কমিয়ে সত্তরে নামালেন শাহ! ভোটের সাতসতেরোয় বুকে বল পাচ্ছে না বিজেপি?

দিনকয়েক আগে ভোটে ১৭৭ আসনে জিতবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কীভাবে এমন অদ্ভুত আসন সংখ্যা বেঁধে দিচ্ছেন শুভেন্দু, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২, ২০২৬, ১৪:২০

options
link
১৭৭ বলেছিলেন শুভেন্দু, ৭ কমিয়ে সত্তরে নামালেন শাহ! ভোটের সাতসতেরোয় বুকে বল পাচ্ছে না বিজেপি?
ভবানীপুরে রোড শো অমিত শাহের। ছবি: কৌশিক দত্ত

দিনকয়েক আগে ভোটে (West Bengal Assembly Election) ১৭৭ আসনে জিতবেন বলে আশাপ্রকাশ করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। কীভাবে এমন অদ্ভুত আসন সংখ্যা বেঁধে দিচ্ছেন শুভেন্দু, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশন যেহেতু বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে চলছে, তা-ই সম্ভবত এমন নির্দিষ্ট করে আসন সংখ্য়া বেঁধে দিতে পেরেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী। এই চাপানউতোর মাঝে বৃহস্পতিবার হাজরার সভা থেকে ভোটের মুখে টার্গেট সাত আসন কমিয়ে দিলেন অমিত শাহ (Amit Shah)। দলীয় নেতাকর্মী-সহ বাংলাবাসীর কাছে তাঁর আর্জি, ১৭০ আসনে জেতাতেই হবে বিজেপিকে। শাহের ঘোষণার পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তবে কি মনোবল ভাঙছে বিজেপির।

Advertisement

অমিত শাহ বলেন, “এবার বাংলায় ১৭০ আসন হবে। তবেই পরিবর্তন হবে। আমার কাছে অবশ্য শর্টকাট আছে। ভবানীপুরের ১টি আসন হারাতে পারলেই বাংলায় পরিবর্তন হবে।”

এদিন অমিত শাহ বলেন, “এবার বাংলায় ১৭০ আসন হবে। তবেই পরিবর্তন হবে। আমার কাছে অবশ্য শর্টকাট আছে। ভবানীপুরের ১টি আসন হারাতে পারলেই বাংলায় পরিবর্তন হবে।” শুভেন্দুর দুই জায়গা থেকে ভোটে লড়ার প্রসঙ্গে শাহ আরও বলেন, “শুভেন্দুজি শুধু নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম ভবানীপুর থেকেও আপনাকে লড়তে হবে। মমতার ঘরে গিয়ে হারাতে হবে। এবার ভবানীপুরে হারবেন মমতা। গোটা বাংলায় হারবে তৃণমূল।”

Advertisement

আরও একবার ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যুতে জোরাল সওয়াল করেন শাহ। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ তোলাবাজি, গুন্ডারাজ, নারী নিরাপত্তাহীনতায় ত্রস্ত। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জনবিন্যাস বদলে গিয়েছি। চাকরিহীনতা, দুর্নীতির জন্য বাংলা ত্রস্ত। বাংলার মানুষ তাই পরিবর্তন চায়। অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে খুঁজে রাজ্যের বাইরে বের করব। সোনার বাংলা গড়তে চাই। পরিবর্তনের জন্য তৎপর গোটা বাংলা। বিজেপি সরকারই আসতে চলেছে।” বঙ্গবাসীর কাছে শাহের আর্জি, “বাংলার কোণায় কোণায় একটাই আওয়াজ সরকার বদলে দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে টাটা, বাই বাই করে দিন।”

Advertisement

পালটা কুণাল ঘোষ বলেন, “২০২১ সালে বলেছিল ২০০। পেয়েছে ৭৭। কমতে কমতে বর্তমানে ৬০। এবার শুরু করেছে ১৭০ দিয়ে। সেই অনুপাতে কমাতে কমাতে যান। সুতরাং অমিত শাহরা এখনই স্বীকার করে নিচ্ছেন গোহারা হারতে চলেছে বিজেপি। অমিত শাহ জেনে রাখুন, ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দু’টি আসনেই হারবে।”

পালটা তৃণমূলের অন্যতম রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “২০২১ সালে বলেছিল ২০০। পেয়েছে ৭৭। কমতে কমতে বর্তমানে ৬০। এবার শুরু করেছে ১৭০ দিয়ে। সেই অনুপাতে কমাতে কমাতে যান। সুতরাং অমিত শাহরা এখনই স্বীকার করে নিচ্ছেন গোহারা হারতে চলেছে বিজেপি। অমিত শাহ জেনে রাখুন, ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম দু’টি আসনেই হারবে।”

বলে রাখা ভালো, গত কয়েকটি নির্বাচনে মোটেও ভালো ফল করেনি বিজেপি। একে তো ঘরোয়া কোন্দল। তার উপর আবার দক্ষ সংগঠকের অভাব। তার ফলে দিন দিন বঙ্গ বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি যেন তলানিতে ঢেকেছে। এই পরিস্থিতিতে সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। ছাব্বিশের ভোট যেন বিজেপির কাছে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচের মতো। প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। তার ফলে বিজেপির ভিতরকার ‘অন্তঃসার শূন্যতা’ই যেন প্রকাশ্যে এসেছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই দলীয় কর্মী-সমর্থকরা সন্দিহান। রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আর সে কথা গেরুয়া শিবিরের শীর্ষনেতৃত্ব জানে বলেই একধাক্কায় শাহ সাত আসনের টার্গেট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.