West Bengal Assembly Election

ভোট আছে, গাড়ি-বাড়ি চাই! কমিশন চাইলেই নিতে পারে আপনার ‘সম্পত্তি’, কী বলছে আইন?

সাধারণ মানুষ মানে আপনার, আমার ক্ষেত্রে কি এইভাবেই মাত্র একটা ইকুইজিশন ধরিয়ে তা নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন কমিশন? আমরা কী করতে পারি? আইন কী বলছে?

Advertisement
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১৫:৩০

options
link
ভোট আছে, গাড়ি-বাড়ি চাই! কমিশন চাইলেই নিতে পারে আপনার ‘সম্পত্তি’, কী বলছে আইন?

মাঝরাস্তা। সিগন্যালে দাঁড়িছে অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিকের গাড়ি। নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) কাজে তাঁর গাড়ি লাগবে অ্যাকুইজিশন ধরাল পুলিশ। তারপরের কাণ্ডের ভিডিওতে তোলপাড় সোশাল মিডিয়ায়। পক্ষে-বিপক্ষে একাধিক মন্তব্য। অভিনেতা অরিত্র পরিচিত মুখ। তাঁকে আইনি সাহায্য করার অনেকে আছেন। কিন্তু ভোট আছে, গাড়ি, বাড়ি চাই, বলে সাধারণ মানুষ মানে আপনার, আমার ক্ষেত্রে কি এইভাবেই মাত্র একটা অ্যাকুইজিশন ধরিয়ে তা নিয়ে নিতে পারে নির্বাচন কমিশন? আমরা কী করতে পারি? আইন কী বলছে?

Advertisement

১৯৫১-এর জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬০ ধারা। তা প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন কোনও গাড়ি, জায়গা বা বাড়ি নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি দিতে না চান, সেক্ষেত্রে কী করা যাবে?

১৯৫১-এর জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ১৬০ ধারা। তা প্রয়োগ করে নির্বাচন কমিশন কোনও গাড়ি, জায়গা বা বাড়ি নির্বাচনের জন্য ব্যবহার করতে পারে। কী বলা হয়েছে এই আইনে? কোনও ব্যক্তিগত বাড়ি বা জায়গায় ভোটকেন্দ্র করতে গেলে বা ব্যালট বাক্স রাখার জন্য একটি লিখিত নির্দেশ জারি করতে পারে সরকার (ভোট ঘোষণা হওয়ার পর, পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশন দেখে, তাই বলাই যায় নির্বাচন কমিশন)। সেক্ষেত্রে সেই অ্যাকুইজিশন বা নির্দেশ জারি করতে হবে। সেখানে কতদিনের জন্য সেই জায়গা বা বাড়ি ব্যবহার করা হবে, কী কাজে ব্যবহার করা হবে তা উল্লেখ থাকতে হবে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

তেমনভাবেই কোনও ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট বাক্স নিয়ে আসা-যাওয়া। নির্বাচন (WB Assembly Election 2026) চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশকর্মীদের যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে, কোনও গাড়ি, জলযান বা পশু (ঘোড়া গাড়ি) প্রয়োজন হয় বা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তবে সরকার (নির্বাচন কমিশন) লিখিত আদেশের মাধ্যমে ক্ষেত্র অনুযায়ী যানবাহন, জলযান বা পশু অধিগ্রহণ করতে পারে। শর্ত হচ্ছে, ওই অধিগ্রহণের বিষয়ে মালিককে প্রয়োজনীয় অ্যাকুইজিশন দিতে হবে। তবে কোনও প্রার্থী বা তাঁর প্রতিনিধিরা কিংবা নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও যানবাহন, জলযান বা পশু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অধিগ্রহণ করা যায় না। এই আইনে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, এইগুলি অধিগ্রহণের আগে জমি বা গাড়ির মালিককে আগে থেকে নির্দেশিকা দিতে হবে। এবং যে সময়কালের জন্য় অধিগ্রহণ করা হবে বলে জানানো হবে তা যেন কোনওভাবে পরিবর্তন না হয়।

Advertisement

কলকাতা হাই কোর্টের আইনজীবী সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “নির্বাচনের সময় কোনও জায়গা প্রয়োজন হলে অ্যাকুইজেশন দিয়ে তা নিতেই পারে কমিশন। কোনও যানবাহন বা পশুচালিত যানবাহনের প্রয়োজন হয় সেটিও অধিগ্রহণ করতে পারে।” কিন্তু সাধারণ মানুষ যদি দিতে না চান, সেক্ষেত্রে কী করা যাবে?

আইনজীবী সুজয়ের কথায়, “একটি পুরনো রায়ে বলা আছে, আছে কলকাতা হাই কোর্টের লোগো লাগানো কোনও গাড়ি নেওয়া যাবে না। সেটি বিচারপতি, আইনজীবীর হতে পারে। জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স নেওয়া হয় না। চিকিৎসকদের গাড়িও নেওয়া হয় না। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কোনও ছোট গাড়ি হলে কমিশন নেয় না। কিন্তু তাছাড়া কোনও রাস্তা নেই।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.