West Bengal Assembly Election 2026

ভোটের আগে আজব কাণ্ড, নিজের প্রতীক ভুললেন নির্দল প্রার্থীরা!

এমনই আজব কাণ্ডকারখানা নির্দল প্রার্থীদের ঘিরে। ২৯৪ টি বিধানসভায় হাজার গণ্ডা ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী। লড়ছেন নানাবিধ চিহ্নে।

Advertisement
অভিরূপ দাস
অভিরূপ দাস

শেষ আপডেট: এপ্রিল ২৭, ২০২৬, ১৭:২১

options
link
ভোটের আগে আজব কাণ্ড, নিজের প্রতীক ভুললেন নির্দল প্রার্থীরা!
সিঙ্গুরের প্রার্থী অরূপ দাস, সোনারপুর উত্তরের প্রার্থী দিব্যেন্দু ঈশার।

আজ বাদে কাল ভোট। এর মধ্যে ভুলে গেছেন কোন প্রতীকে লড়ছেন! নিছক কথার কথা নয়। তিন সত্যি! প্রতীক জিজ্ঞেস করতে ঘেমে নেয়ে অস্থির একগুচ্ছ নির্দল প্রার্থীরা। চুল ছিড়ছেন কেউ। কেউ খাচ্ছেন জল।

Advertisement

কোন প্রতীকে লড়ছেন? সোনারপুর উত্তর বিধানসভায় নির্দল প্রার্থী দিব্যেন্দু ইশারের সপাট জবাব, “উফফ! অত মনে থাকে। একটু অপেক্ষা করুন।” আলমারি থেকে কাগজপত্র বের করে অবশেষে শান্তি। নির্দল প্রার্থীর গলায় উচ্ছাস, “মনে পড়েছে। আমার প্রতীক হচ্ছে মাইক। ভাগ্যিস জিজ্ঞেস করেছিলেন ভুলেই গিয়েছিলাম।” ভুলে গেলেন! “এই প্রথম লড়ছি তো। এমনটা হতেই পারে।” জানিয়েছেন দিব্যেন্দু। বলেছেন, “ইচ্ছে হয়েছে তাই লড়ছি। এটা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার।”

Advertisement

আপনি কোন প্রতীকে লড়ছেন? সিঙ্গুর বিধানসভার নির্দল প্রার্থী অরূপ দাস আবার রীতিমতো বিরক্ত। “মনে নেই দাদা। ওসব আমার ছেলে জানে।” নির্বাচনে দাঁড়িয়ে প্রতীক ভুলে গেলেন? লোককে তাহলে বলছেন কি? খেঁকিয়ে ওঠেন অরূপবাবু। “বলছি না দাদা। ছেলে বলেছিল তাই দাঁড়িয়েছিলাম। আপনি পারলে ওর সঙ্গে কথা বলুন।”

Advertisement

এমনই আজব কাণ্ডকারখানা নির্দল প্রার্থীদের ঘিরে। ২৯৪ টি বিধানসভায় হাজার গণ্ডা ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী। লড়ছেন নানাবিধ চিহ্নে। তৃণমূলের জোড়াফুল, সিপিএমের কাস্তে হাতুড়ি, বিজেপির পদ্মফুল, কংগ্রেসের হাত চেনে সকলে। তাছাড়াও রয়েছে একগুচ্ছ ফ্রি সিম্বল। নির্দল প্রার্থীরা ভোটে দাড়ালে তাদের দেওয়া হয় তালিকা। সেখান থেকে তারা পছন্দ করেন। ওই কেন্দ্রে ওই প্রতীক আর কেউ না নিয়ে থাকলে অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন। এভাবেই কারও চিহ্ন নারকেল গাছ, কারও তালগাছ কারও বা মাইক কিম্বা টর্চ। সুস্মিতা মাইতি মান্না যেমন। তিনিও লড়ছেন সোনারপুর উত্তর থেকে। তাঁর প্রতীক নারকেল গাছ। হঠাৎ এই প্রতীক কেন?

এমনই আজব কাণ্ডকারখানা নির্দল প্রার্থীদের ঘিরে। ২৯৪ টি বিধানসভায় হাজার গণ্ডা ইন্ডিপেন্ডেন্ট প্রার্থী। লড়ছেন নানাবিধ চিহ্নে। তৃণমূলের জোড়াফুল, সিপিএমের কাস্তে হাতুড়ি, বিজেপির পদ্মফুল, কংগ্রেসের হাত চেনে সকলে। তাছাড়াও রয়েছে একগুচ্ছ ফ্রি সিম্বল। নির্দল প্রার্থীরা ভোটে দাড়ালে তাদের দেওয়া হয় তালিকা। সেখান থেকে তারা পছন্দ করেন। ওই কেন্দ্রে ওই প্রতীক আর কেউ না নিয়ে থাকলে অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন।

“গাছ ভালোবাসি তো। বাড়ির ছাদে লাগিয়েছি বোগানভেলিয়া, কুমরো, বেগুন।” সুস্মীতাদেবীর কথায়, “সবুজ ধ্বংস হচ্ছে। আমি গাছ ভালোবাসি। তাই জন্যই নারকেল গাছ প্রতীক বেছে নিয়েছি। তাতে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তারকেশ্বরে দিতি ভট্টাচার্য্য লড়ছেন তালগাছ চিহ্নে। তাঁরও বক্তব্য, “মানুষের জন্য কিছু করতে চাই। তাই লড়ছি নির্বাচনে।” তবে কারও কাছে নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রতীক-ই আবার ভোটে দাড়ানো উদ্দেশ্য। সাতগাছিয়া বিধানসভার নির্দল প্রার্থী সঞ্জয় প্রামানিকের প্রতীক আপেল! হঠাৎ আপেল বেছে নিলেন? “রোজ একটা করে আপেল সবার খাওয়া উচিৎ। আপেলের যা দাম। গরীব মানুষ খাবে কি করে? আমি ক্ষমতায় এলে আপেলের দাম কমাবো।” চটজলদি জবাব সঞ্জয়বাবুর। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.