Mamata Banerjee

ভবানীপুরের স্ট্রংরুম পাহারায় মমতা, দুর্যোগ মাথায় শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে তৃণমূলনেত্রী

বৃহস্পতিবার বিকেলেই ইভিএম পাহারা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারচুপির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন।

Advertisement
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়
ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: মে ১, ২০২৬, ১৩:১২

options
link
ভবানীপুরের স্ট্রংরুম পাহারায় মমতা, দুর্যোগ মাথায় শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে তৃণমূলনেত্রী
ভোটের ফল নিয়ে আদালতে যাওয়ার ভাবনা মমতার। ফাইল ছবি

ভিডিওবার্তায় বৃহস্পতিবার বিকেলেই ইভিএম পাহারা দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারচুপির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন। স্ট্রংরুমে কড়া নজরদারির নির্দেশও দিয়েছিলেন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে ভবানীপুরের স্ট্রংরুমে তৃণমূলনেত্রী। এদিকে রাত যত বাড়ছে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে শাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বর। বাইরে প্রবল অশান্তি তৃণমূল ও বিজেপির। পরিস্থিতি আয়ত্তে আনার চেষ্টায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। শাখাওয়াত মেমোরিয়াল চত্বরে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা।

Advertisement

এদিকে, এদিন সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে অবস্থান বিক্ষোভে শামিল হন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ, শ্যামপুকুরের প্রার্থী শশী পাঁজা ও জোড়াসাঁকোর প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায়। ওই স্ট্রংরুমের ভিতরে সন্দেহজনক গতিবিধির অভিযোগ তোলেন তাঁরা। তৃণমূল প্রার্থীদের অভিযোগ, “লাইভ স্ট্রিমিংয়ে দেখা যাচ্ছে ভিতরে কাজ হচ্ছে। হাতে হাতে ব্যালট ঘুরছে ভিতরে। অথচ সিইও বলছেন, ভিতরে কিছু হচ্ছে না। যদি পোস্টাল ব্যালটের কাজই হয়। তবে সেগুলি কোথা থেকে এল?”

Advertisement

এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, “সাড়ে তিনটে পর্যন্ত স্ট্রংরুমের সামনে দলীয় কর্মী-সমর্থকরা ছিলেন। তাঁদের বিকেলের দিকে সরিয়ে দেওয়া হয়। মাঝে আচমকা ই-মেল পাঠিয়ে জানানো হয় বিকেল চারটের সময় ফের খোলা হবে স্ট্রংরুম। আমরা তখন দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করি। জিজ্ঞেস করি, তোমরা আছো? তাঁরা জানান, চলে গিয়েছেন। তখন আমরা দু’জনে দৌড়ে আসি। এখন আমাদের ঢুকতে দিচ্ছে না। নিমন্ত্রণ করছে বিজেপিকে।” কুণালের প্রশ্ন, “আমাদের ই-মেল করা হলে কেন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না?”

Advertisement

শশী পাঁজাও বলেন, “স্ট্রংরুম অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তা খুললে অবশ্যই প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে জানাতে হবে। কেন জানানো হল না?” তৃণমূল প্রার্থীদের অবস্থান বিক্ষোভের খবর পাওয়ামাত্রই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের স্ট্রংরুমে পৌঁছন ডিইও স্মিতা পাণ্ডে। তাঁর উপস্থিতিতে স্ট্রংরুমের ভিতরে ঢোকেন শশী-কুণাল। তা শুনে আবার ক্ষুব্ধ হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। কেন তাঁরা ভিতরে ঢুকলেন, সে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে গেরুয়া শিবির। এককথায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্ট্রংরুমের বাইরে তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের একপ্রস্থ বচসাও হয়। এরপর রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ কুণাল ঘোষ জানান, কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা হয়েছে তাদের। তৃণমূলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে কাউকে স্ট্রংরুমে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলেই আশ্বাস কমিশনের। আর তারপরই ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কুণাল ঘোষের। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের জায়গা ফাঁকা করে দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।  এদিকে, এই খবর পাওয়ার পর ভবানীপুরের স্ট্রংরুম শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে যাওয়ার সিদ্ধান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.