পাহাড়ে লোকসভায় জিতেছে বিজেপি। এবারও বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। কিন্তু পাহাড়ে প্রচার, দলীয় পতাকা, ফেস্টুন লাগাতে বিজেপির কর্মীদের পাওয়া যাচ্ছে না? গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সমর্থকরাই বইছেন পদ্ম পতাকা! এমন ছবিই দার্জিলিংয়ের বেশ কিছু এলাকায় দেখা যাচ্ছে। আর এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সহায় হয়েছেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো বিমল গুরুং। ভোট প্রচারে বিজেপির আসনেও মাঠ ভরাতে ভরসা তিনি!
এই বিষয়ে আরও খবর
কার্শিয়াং থেকে কালিম্পং একই ছবি ধরা দিয়েছে। দলীয় প্রার্থীর প্রচারে সাংসদ রাজু বিস্তা থাকছেন বটে। কিন্তু তাঁকেও গুরুং বাহিনীকে সন্তুষ্ট রাখতে ‘জয় গোর্খা’ ধ্বনি তুলেই বক্তব্য রাখতে হচ্ছে।উপায় কী?এবার যে অজয় এডওয়ার্ড নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট (আইজিজেএফ) ‘পরিবর্তন’-এর ডাক দিয়ে ভোটের সমীকরণ পালটে দিতে চেষ্টা করছে। কার্শিয়াং আসনে অজয় এডওয়ার্ডের দলের প্রার্থী হয়েছেন আইনজীবী বন্দনা রাই। অজয় দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে নজরকাড়া মিছিল, রোড-শো করে কর্মী সমর্থকদের মধ্যে স্লোগান বেধে দিয়েছেন ‘লেটস গো কার্শিয়াং, লেটস ভোট ফর পরিবর্তন’।

অজয়ের তৈরি ওই স্লোগান কি চাপে ফেলেছে বিমল গুরুংকে? ওই স্লোগান সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বিশেষত, নতুন প্রজন্ম ‘লেটস গো কার্শিয়াং, লেটস ভোট ফর পরিবর্তন’ স্লোগান দিতে গিয়ে যেভাবে ‘আত্মহারা’ হয়ে পড়ছে, তাই নিয়ে বেশ চিন্তিত গেরুয়া শিবির! তাই কালবিলম্ব না করে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গুরুং দলের কর্মীদের পদ্ম প্রতীকের ঝান্ডা হাতে রাস্তায় নামিয়েছেন। বিজেপির প্রার্থীর সোনম লামার সমর্থনে প্রচার শুরু করেছেন৷ তেমনই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।
শুক্রবারও বিমল গুরুং র্যালিতে নেতৃত্ব দেন। জ্বালাময়ী বক্তব্যও রাখেন। তবে লক্ষ্যণীয়, গুরুং ‘বন্ধু’ অজয় এবং তাঁর দলের প্রার্থীকে কৌশলে কোনও আক্রমণ করছেন না। সব সময়ের জন্য তাঁর নিশানায় থাকছেন অনীত থাপা নেতৃত্বাধীন ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার প্রার্থী অমর লামা। গুরুং বলেন, ‘‘জিটিএ নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন অমর লামা। সেই রিজেক্টেড মানুষকেই প্রার্থী করেছে ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চা। কিন্তু আমাদের জোটপ্রার্থী ভূমিপুত্র এবং স্থানীয়। আমরা জয়ী হচ্ছি। ১৯৮৬ সাল থেকে আমি নির্বাচনে হারিনি। এবারও হারব না। গতবার বিজেপির সঙ্গে জোট হয়নি। ভুল হয়েছিল। কিন্তু এবার একসঙ্গে লড়ছি। ভালো ফল হবে।”
গুরুং আরও বলেন, “অজয় এডওয়ার্ড জোটে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হয়নি। ওরাও লড়বে। আমরাও লড়ব। তবে কালিম্পং ছাড়া দুই আসনে আমাদের সহজ জয় হবে।’’ বস্তুত পাহাড়ের তিনটি আসনের দুটিতে বিজেপি প্রার্থী দিলেও তারা বিমল গুরুংয়ের ভরসাতেই চলছেন! প্রচারের কর্মসূচি গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতৃত্ব ঠিক করে দিচ্ছেন। কিন্তু গুরুং এড়িয়ে গেলেও অজয় এডওয়ার্ড ছেড়ে কথা বলছেন না। তিনি বিজেপির পাশাপাশি অনীত থাপার দলের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রচার করছেন।
এই বিষয়ে আরও খবর
সর্বশেষ খবর
-
এবার পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি, তোলাবাজির অভিযোগ, পুলিশের দ্বারস্থ বধূ
-
‘খুব বাঁচা বেঁচেছি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ’, রচনার সুরবদলের পরই কেন একথা বললেন মনোরঞ্জন?
-
আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধেও চুনকাম! ১০৫০ দিন পর সিরিজ হার ভারতের, কেন খেলানো হল না বৈভবকে?
-
‘তোলাবাজি’র অর্থে মেয়ে-স্বামীর নামে সম্পত্তি, নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন! তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ
-
অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে গ্রুপ থেকে বিদায়, বিশ্বকাপে স্বপ্নভঙ্গ ভারতের মেয়েদের



