Ratna Chatterjee

শুধু সূর্য নয়, রত্নাও পূর্ব থেকে পশ্চিমে

বেহালার কাছে তিনি সূর্যের মতো। আগে বেহালা পূর্বে ছিলেন, এবার পশ্চিমে। আলো-রোদ-হাওয়া নিয়ে তিনি হাজির বেহালার পাড়ায় পাড়ায়। তবে তাঁর বাসস্থান ছিল পশ্চিমেই। এখন রাজনৈতিক গড়ও তাই। এমনকী, নিজের ওয়ার্ডের কাউন্সিলারও তো তিনিই।

নিরাপদ কর
নিরাপদ কর

শেষ আপডেট: মার্চ ২৫, ২০২৬, ১৮:৪৪

options
link
শুধু সূর্য নয়, রত্নাও পূর্ব থেকে পশ্চিমে
ক্যারিকেচার: স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়

মাটিতে বসে পড়েছেন। এক হাত দেওয়ালে। আরেক হাতে রংয়ের কৌটো থেকে গুলে নিচ্ছেন রং। করছেনটা কী! দেওয়ালে তৃণমূলের প্রতীক আঁকছেন। না, তিনি তৃণমূলের আম-রাজনৈতিক কর্মী নন। তিনি খোদ প্রার্থী, ’২১ সালের ভোটে বেহালা পূর্ব থেকে তিনি জিতেছিলেন বিজেপির সেলেব্রিটি প্রার্থী পায়েল সরকারের বিপক্ষে। কে না জানে, ভোটের প্রচারে সেলেবরা জনসংযোগের ব্যাপারে গোটা ১০ নাম্বার বেশিই পেয়ে থাকেন। গ্ল্যামারের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ কাজ করে। কিন্তু তা সত্ত্বেও রত্না চট্টোপাধ্যায় (Ratna Chatterjee) স্রেফ জনসংযোগের জোরে উড়িয়ে দিয়েছিলেন বিপক্ষ শিবিরদের।

Advertisement

সকলেই জানেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় আইনত তাঁর স্বামী। বঙ্গমহলে শোভন-বৈশাখীর প্রেম-পরিণয় নিয়ে যে-পরিমাণ পরচর্চার উদ্‌গীরণ দেখা যায়, তাতে রত্না চট্টোপাধ্যায় যে মেজাজ হারাবেন– তা তো স্বাভাবিকই। বারেবারে মিডিয়াও তাঁর কাছে দৌড়বে লাখো লাখো ভিউ কামাতে। অন্যদিকে শোভন-বৈশাখীর যুথবদ্ধ ছবি-ভিডিওকে ঘিরেও দর্শকদের ক্লিক বিস্ফোরণ কিছু কম নয়।

বেহালার কাছে তিনি সূর্যের মতো। আগে বেহালা পূর্বে ছিলেন, এবার পশ্চিমে। আলো-রোদ-হাওয়া নিয়ে তিনি হাজির বেহালার পাড়ায় পাড়ায়। তবে তাঁর বাসস্থান ছিল পশ্চিমেই। এখন রাজনৈতিক গড়ও তাই। এমনকী, নিজের ওয়ার্ডের কাউন্সিলারও তো তিনিই। ফলে এবার প্রচারাভিযানে তেতেপুড়ে বেহালার এসপার-ওসপার করতে হবে না তাঁকে।

Advertisement

১৮ তারিখ, বেলাতেই সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বেহালার রাস্তায় নেমে পড়েছেন রত্না। রাজনীতির ব্যাপারে তাঁর ‘লেট’ হয় না। গতবারের জয়ের পর রত্না চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে সমর্থকদের উদ্দাম নাচ, আনন্দময় দিন তিনিও ফিরে পেতে চাইবেন, নিঃসন্দেহে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ভরসা যেমন, উল্টোদিক থেকে তাঁর প্রতিও তৃণমূল সুপ্রিমোর বিশ্বাস জোরদার।

Advertisement

এত আত্মবিশ্বাসের মধ্যে যা লুকিয়ে থাকে, তা একটি ব্যক্তিগত গল্প। গল্প হলেও সত্যি। বাংলার রাজনৈতিক বৃত্তে হোক, বা সাধারণ জনগণের কাছে তা ‘চটুল’ সংবাদ ছাড়া বিশেষ কিছুই না। সকলেই জানেন, শোভন চট্টোপাধ্যায় আইনত তাঁর স্বামী। বঙ্গমহলে শোভন-বৈশাখীর প্রেম-পরিণয় নিয়ে যে-পরিমাণ পরচর্চার উদ্‌গীরণ দেখা যায়, তাতে রত্না চট্টোপাধ্যায় যে মেজাজ হারাবেন– তা তো স্বাভাবিকই। বারেবারে মিডিয়াও তাঁর কাছে দৌড়বে লাখো লাখো ভিউ কামাতে। অন্যদিকে শোভন-বৈশাখীর যুথবদ্ধ ছবি-ভিডিওকে ঘিরেও দর্শকদের ক্লিক বিস্ফোরণ কিছু কম নয়।

এসবের মাঝেই, নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে সরে গিয়ে, তিনি দলের হয়ে নেমেছেন। একবার নয়, বারবারই। ব্যক্তিগত সংকটের ঊর্ধ্বে গিয়ে যে দলের কাজ এমন নিষ্ঠায় উতরে দিতে পারেন, হয়ে উঠতে পারেন জনহিতকর নেতা– তাঁকেই তো ‘স্কিপার’ বলব আমরা, তাই না?

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.