Mao

মাওয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লব বড় ‘বিপর্যয়’, প্লেনামে বলছে চিনা কমিউনিস্টরা

জিনপিংয়ের বাবা শি জংজুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মাওয়ের নির্দেশেই।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ডিসেম্বর ৩, ২০২১, ১৯:৪৩

options
link
মাওয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লব বড় ‘বিপর্যয়’, প্লেনামে বলছে চিনা কমিউনিস্টরা

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আধুনিক ‘বাজারমুখী’ চিনে ব্রাত্য মাওয়ের মতবাদ। গত শতকের ছয়ের দশকে চিনে ধনতান্ত্রিক শক্তি ও প্রতিবিপ্লবীদের বিরুদ্ধে প্রবাদপ্রতিম মাও জে দংয়ের লড়াইকে কার্যত প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল তাঁরই দল। দলের ষষ্ঠ প্লেনামে ‘সাংস্কৃতিক বিপ্লব’কে বড় ‘বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে পেশ হওয়া এক বিস্ময়কর প্রস্তাবে সিলমোহর দিল চিনা কমিউনিস্ট পার্টি (CPC) বলে খবর।

Advertisement

[আরও পড়ুন: ছ’টি যুদ্ধ লড়তে প্রস্তুত হচ্ছে চিন, তৈরি থাকতে হবে ভারতকেও]

হংকং পোস্ট সূত্রে খবর, চলতি বছর সিপিসি’র ষষ্ঠ প্লেনামে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, মাওয়ের সাংস্কৃতিক বিপ্লব অন্যতম বড় ভুল ছিল। দশ বছরের ডামাডোলের জন্য মাওকেই দায়ী করেছে কমিউনিস্ট পার্টি। চিনা সাম্যবাদীদের প্রাণপুরুষ মাওয়ের ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে প্লেনামে ‘ভুল সিদ্ধান্ত’ বলে দেগে দেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শাসন নিরঙ্কুশ করতে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, ইতিহাস লেখাটা যে জরুরি, সেটা অবশ্য শি জিনপিং নিজের জীবন দিয়ে জানেন। কারণ, একদা মাওয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির উজ্জ্বলতম তারকা শি জংজুনকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় জেল খাটতে হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, মাও-বিরোধী ইতিহাস লিখতে মদত দেওয়া।

Advertisement

উল্লেখ্য, মাও-কে ‘সুপ্রিম লিডার’ বা অবিসংবাদী নেতা রূপে তুলে ধরে চিনা কমিউনিস্ট পার্টির বিখ্যাত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালে আর সাংস্কৃতিক বিপ্লবের হিংসাদীর্ণ দিনগুলোর পরে দেং জিয়াও পিং তাঁর নতুন রাস্তায় হাঁটার ঘোষণাপত্রকে পাস করিয়ে নিয়েছিলেন ১৯৮১ সালে। ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ বা ‘বিবিসি’-র মতো সংবাদমাধ্যম সেসব ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে বেজিংয়ে শেষ হওয়া প্লেনামের যে তুলনা করছে, তার একটাই কারণ। সবকিছুর উপরে এমন শি জিনপিংয়ের অমোঘ সিলমোহর।

Advertisement

এই প্রসঙ্গে সাংবাদিক সুমন ভট্টাচার্য লিখেছেন, চিনা কমিউনিস্ট পার্টির ১০০ বছর উপলক্ষে যে-ইতিহাস লেখা হচ্ছে, সেই ইতিহাস নিয়ে প্লেনামে বর্তমান শাসক শি জিনপিংকে মাও সে তুং এবং দেং জিয়াও পিংয়ের তুলনীয় মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, দলের ১০০ বছরের ইতিহাস লিখতে গিয়ে কমিউনিস্ট চিনের প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তি নেতা মাও জে দং এবং মাও-পরবর্তী জমানায় যিনি দেশকে ‘বাজার অর্থনীতি’-তে দীক্ষিত করলেন, সেই দেং জিয়াও পিংয়ের মতো ‘আইকনিক’ নেতার সমান গুরুত্ব দেওয়া হল শি জিনপিংকে।

[আরও পড়ুন: ছ’টি যুদ্ধ লড়তে প্রস্তুত হচ্ছে চিন, তৈরি থাকতে হবে ভারতকেও]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.