নব্যেন্দু হাজরা: পঞ্জিকামতে এই দেশে খুব একটা পুজো হয় না। হয় উইকএন্ড দেখে। যে কারণে কলকাতায় শুরুর আগেই একাধিক জায়গায় পুজো শুরু হয়ে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়ায়। সিডনি, মেলবোর্ন, ব্রিসবেন, অ্যাডিলেডে এখন একেবারে ফেস্টিভ মুড। পঞ্জিকা মতে ২ অক্টোবর দুর্গাপুজোর (Durga Puja 2022) সপ্তমী। কিন্তু ক্যাঙারুর দেশে বেশিরভাগ জায়গাতেই পুজো কোথাও শুরু হয়ে যাচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর, কোথাও ১ অক্টোবর। আবার কোথাও পুজো ৮ অক্টোবর। মূলত দু’দিনের পুজো বেশিরভাগ জায়গাতেই। ওখানকার উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, পঞ্জিকামতে পুজো এই দেশে খুব একটা হয় না। মূলত সপ্তাহান্তে ছুটির দিন দেখে সেই অনুযায়ী হয় পুজো। মন্ত্রপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি যেমন হয়, তেমনই চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে ফ্যাশন শো, খাওয়া-দাওয়া সবকিছুই।
অস্ট্রেলিয়া মানে আমরা বুঝি শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা, স্টিভ ওয়াকে। কিন্তু সেই দেশেও যে বছর বছর সাড়ম্বরে দুর্গাপুজো হয়, সেকথা আমরা ক’জন জানি! এবছর নতুন করে পুজো শুরু হচ্ছে তাসমানিয়াতে। কথা হচ্ছিল সেই পুজোর আয়োজক ইন্দ্রনীল হালদারের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘‘অস্ট্রেলিয়াতে প্রায় শ’খানেক পুজো হয়। প্রচুর বাঙালি পরিবার রয়েছে এখানে। পুজোতে খুব আনন্দও করে তাঁরা। কিন্তু সেভাবে প্রচার পায় না। শুধু সিডনিতেই হয় ২০টা পুজো। একইরকমভাবে মেলবোর্ন, ব্রিসবেনেও প্রচুর পুজো। পঞ্জিকা মেনে পুজো শুরুর আগেই উৎসব শুরু হয়ে যাচ্ছে এখানে। মেলবোর্ন অ্যাসোসিয়েশনের পুজো যেমন শুরু হয়ে যাচ্ছে ৩০ সেপ্টেম্বর। তেমনই আবার বেঙ্গলি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অফ ক্যানবেরার পুজো হবে ৮ এবং ৯ অক্টোবর। তখনই হবে মায়ের পায়ে পুষ্পাঞ্জলি থেকে সিঁদুরখেলা সবকিছু। অথচ কলকাতায় তখন পুজো শেষ।
[আরও পড়ুন: কেমন আছেন পার্থ, কল্যাণময়? নিজাম প্যালেসে গিয়ে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করলেন ২ চিকিৎসক ]
বেঙ্গলি অ্যাসোসিয়েশন অফ নিউ সাউথ ওয়েলসের পুজো এবার শুরু হচ্ছে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে। এই পুজো শুরু হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সেই থেকে প্রতিবছরই সাড়ম্বরে পুজো হয়ে আসছে। তবে নিয়ম মেনে পুজো হচ্ছে আগমনি অস্ট্রেলিয়া আইএনসি-তে। সেখানে ২ অক্টোবর সপ্তমীতে পুজো শুরু এবং শেষ দশমীতে গিয়ে।
বাঙালি রীতি মেনেই হবে পুজো। তবে পুজো দু’দিনের হোক বা চারদিনের। পঞ্জিকা মতে হোক বা ছুটির দিন দেখে, দশমীর সিঁদুর খেলার রেওয়াজ আছে সর্বত্র।
রয়্যাল বেঙ্গল ক্লাব তাসমানিয়াতে এবার কুমোরটুলি থেকে গিয়েছে প্রতিমা। গিয়েছে গঙ্গাজল থেকে গঙ্গামাটি সবকিছু। অন্যান্য জায়গাতেও যে পুজো হয়, সেখানেও প্রতিমা যায় কলকাতা থেকেই। সিডনির হার্বার ব্রিজের বাসিন্দা ইন্দ্রনীলবাবু বলেন, ‘‘এই দেশে বাঙালি প্রথম এসেছিল ১৭৯৭ সালে। তারপর থেকেই বছরের পর বছর ধরে বাঙালির সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলেছে এই দেশে। অস্ট্রেলিয়ার সব প্রান্তেই রয়েছে অজস্র বাঙালি পরিবার। তাঁরাই পুজোয় প্রচুর আনন্দ করেন।’’
[আরও পড়ুন: পুজোর পরই নয়া জনসংযোগ কর্মসূচি তৃণমূলের! রুটিন মেনে জেলায় জেলায় যাবেন রাজ্য নেতারা ]
সর্বশেষ খবর
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!
-
মেট্রোপলিটান এলাকার বেআইনি নির্মাণে নজর, উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের তলব হাই কোর্টের