FIFA World Cup 2026 Gaza screening

বিশ্বকাপ দেখাতে চেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের, ইজরায়েলি হানায় নিহত সমাজকর্মী

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় বিশেষ আয়োজন করেছিলেন মিশরীয় মহম্মদ আল ওয়াহিদি। তিনি মিশর সরকারের একটি সমাজসেবী সংস্থার কর্মী ছিলেন। চেয়েছিলেন শিশুরা খেলা দেখুক।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১০, ২০২৬, ১১:৪৮

options
link
বিশ্বকাপ দেখাতে চেয়েছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার শিশুদের, ইজরায়েলি হানায় নিহত সমাজকর্মী
ওয়াহিদির উপর মিসাইল হানায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মিশর সরকার।

মর্মান্তিক বললেও বোধহয় কম বলা হয়। গত মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা এবং মিশরের মধ্যে বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ ছিল। ম্যাচটি দেখার জন্য যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় একাধিক জায়গায় বিশেষ আয়োজন করেছিলেন মিশরীয় মহম্মদ আল ওয়াহিদি। তিনি মিশর সরকারের একটি সমাজসেবী সংস্থার কর্মী ছিলেন। চেয়েছিলেন শিশুরা খেলা দেখুক। কিন্তু খেলা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে ইজরায়েলের মিসাইল হানায় মৃত্যু হয় ওয়াহিদির। খেলা দেখা আর তাঁর হয়নি।

Advertisement

কোনও সন্ত্রাসবাদী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত না থাকা সত্ত্বেও ওয়াহিদির উপর মিসাইল হানায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে মিশর সরকার। এই হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। যাঁদের মধ্যে রয়েছে দুইজন শিশু। সংবাদংস্থাকে দেওয়া এক বিবৃতিতে শিফা হাসপাতালের ডিরেক্টর মহম্মদ আবু সেলমিয়া বলেছেন, “ওয়াহিদি একটি গাড়িতে চড়ে গাজা শহরের প্রান্তে অবস্থিত তেল হাওয়া জেলায় যাচ্ছিলেন। সেখানেই হাজার খানেক মানুষের সঙ্গে তাঁর খেলা দেখার কথা ছিল। কিন্তু মিসাইলটি সরাসরি গাড়িটির উপর আঘাত হানে। গাড়ির চালক বেঁচে গেলেও ওয়াহিদি এবং গাড়িটির সামনে থাকা দুই শিশুর মৃত্যু হয়।”

Advertisement

দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওয়াহিদির খুড়তুতো ভাই আবেদ আল খালেক বলেছেন, “পরিবারের একটি অনুষ্ঠানে আমরা উপস্থিত হয়েছিলাম। হঠাৎই বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পাই। আমাদের জানানো হয়েছিল, আল-মাগরিবী স্ট্রিটে একটি গাড়িতে ধাক্কা লেগেছে। আমরা যখন সেখানে পৌঁছই ততক্ষণে মেডিক্যাল টিম একটি শিশু ও অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ সরিয়ে নিয়েছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় আরও এক যুবক মাটিতে পড়েছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক ব্যক্তি জানিয়েছিলেন, আমার এক আত্মীয় গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁর অবস্থাও অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।”

Advertisement

উল্লেখ্য, গাজা ভুখণ্ডে সেই ২০২৩ সাল থেকে ইজরায়েল এবং হামাসের সংঘর্ষ চলছে। প্যালেস্টাইন ফুটবল সংস্থার দাবি, গত ৩ বছরে ওই সংঘর্ষে সে দেশের হাজার হাজার ক্রীড়াবিদের মৃত্যু হয়েছে। সপ্তাহখানেক আগেই প্রাণ হারান প্যালেস্টাইনের ফুটবলার সালিম আল-আশকার। ৩২ বছর বয়সি ওই গোলরক্ষক মাস পাঁচেক আগেই বিয়ে করেন। তাঁর স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বাড়িতে জ্বালানির সংকট মেটাতে রান্নার গ্যাসের খোঁজে বাইরে বেরিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু আর ঘরে ফেরা হয়নি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.