Iran

নেই মজুতের স্থান, উৎপাদিত তেল সমুদ্রে ফেলছে ইরান! আমেরিকার হরমুজ চালে সমুদ্র-সংকট

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজে আমেরিকার অবরোধের ফলে কোনও ট্যাঙ্কারই পারস্য উপসাগর ছাড়তে পারছে না। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরেও প্রবেশ করতে পারছে কোনও ট্যাঙ্কার। ফলে ইরানের খার্গ দ্বীপে যতটা তেল উৎপাদিত হচ্ছে, তার প্রায় কিছুই রপ্তানি করতে পারছে না তেহরান। তাই ফুরিয়ে যাচ্ছে তেল মজুতের স্থান।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মে ১০, ২০২৬, ১৮:৪৪

options
link
নেই মজুতের স্থান, উৎপাদিত তেল সমুদ্রে ফেলছে ইরান! আমেরিকার হরমুজ চালে সমুদ্র-সংকট
ছবি: এআই দ্বারা নির্মিত।

ইরানের ‘প্রাণভোমরা’ হল খার্গ দ্বীপ। দৈনিক প্রায় ৩ লক্ষ ব্যারেল তেল এখানে উৎপাদিত হয়। এই দ্বীপ থেকেই ইরানের মূল ভূখণ্ডে পরিবাহিত হয় তেল। কিন্তু আমেরিকার হরমুজ অবরোধের চালে এখন ভয়ংকর সমস্যার মুখে ইরান। শুধু তা-ই নয়, মার্কিন এই  পদক্ষেপের ফলে দেখা দিয়েছে সমুদ্র সংকটও।

Advertisement

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজে আমেরিকার অবরোধের ফলে কোনও ট্যাঙ্কারই পারস্য উপসাগর ছাড়তে পারছে না। অন্যদিকে, ইরানের বন্দরেও প্রবেশ করতে পারছে কোনও ট্যাঙ্কার। ফলে ইরানের খার্গ দ্বীপে যতটা তেল উৎপাদিত হচ্ছে, তার প্রায় কিছুই রপ্তানি করতে পারছে না তেহরান। তাই ফুরিয়ে যাচ্ছে তেল মজুতের স্থান। সম্প্রতি একটি উপগ্রহ চিত্রে ইরানের খার্গ দ্বীপের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনালের কাছে সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় বড় কালো ছোপ দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত মজুত স্থান না থাকায় হাজার হাজার ব্যারেল তেল সমুদ্রে ফেলে দিচ্ছে ইরান। সমুদ্রপৃষ্ঠে কালো ছোপগুলি তেল ছাড়া আর কিছুই নয়।  

Advertisement
উপগ্রহ চিত্রে ইরানের খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনালের কাছে বড় বড় কালো ছোপ। ছবি: এক্স।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান যদি সত্যিই উদ্বৃত্ত তেল সমুদ্রে ফেলে, তাহলে ভয়ংকর সমুদ্র সংকট তৈরি হবে। যার প্রভাব পড়তে পারে গোটা বিশ্বে। তাঁদের দাবি, এর নেতিবাচক প্রভাব শুধুমাত্র উপসাগরীয় দেশের উপকূলীয় অংশে বসবাসকারী জনবসতির উপরই যে পড়তে পারে, তা নয়। ঘটনায় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে ওই এলাকার সামুদ্রিক প্রাণীকুলও। পরিবেশগত বিপর্যয় যেমন অচিরেই ঘটতে পারে এবং তার ফলে সমস্যায় পড়তে পারেন হাজার হাজার মানুষ, তেমনই মাছ থেকে শুরু করে কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি-সহ একগুচ্ছ সামুদ্রিক প্রাণীর জীবন সংকটে পড়তে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা, এই তেল নিষ্কাশন করে, সমুদ্রের জল পরিশোধন করার পদ্ধতি অত্যন্ত কঠিন এবং জটিল।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সমস্যা মেটাতে তেল উৎপাদন স্থগিত রেখে তেল কূপগুলি কি বন্ধ রাখতে পারে ইরান?

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, সমস্যা মেটাতে তেল উৎপাদন স্থগিত রেখে তেল কূপগুলি কি বন্ধ রাখতে পারে ইরান? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তেল কূপ বন্ধ করা মোটেই সহজ নয়। উৎপাদন থামলে তেলের স্তরের চাপ কমে যায়, যার ফলে সেখানে জল ঢুকে পড়তে পারে। এতে ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়াও, ইরানে যে তেল উত্তোলিত হয়, তা ভারী ধরনের। এটির রূপ ঘন এবং আঠালো। দীর্ঘ সময় ধরে এই তেল স্থির অবস্থায় থাকলে তা জমাট বেঁধে কঠিন হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে তেল কূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। একবার যদি এই তেল কূপ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে উৎপাদন পুনরায় শুরু করা অত্যন্ত কঠিন। লেগে যেতে পারে কয়েক বছর। তাছাড়া উৎপাদন ক্ষমতাও হ্রাস পায়। এর ফলে ইরান বছরে প্রায় কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.