পরম্পরা মূল বৈশিষ্ট্য রেলশহর খড়গপুরের খড়িদা বাজার এলাকার মিত্র পরিবারের দুর্গাপুজোর। প্রয়াত জমিদার সন্তোষ মিত্রের হাত ধরে বাড়ির উঠোনে ১৯৩৩ সালে নির্মাণ করা হয় মাতৃমণ্ডপ। আর পরের বছর ১৯৩৪ সালে শুরু হয় দুর্গাপূজা। এবার পুজোটি ৯৩ বছরে পা দিল। আজও সেখানেই পুজো হচ্ছে। একচালায় তৈরি প্রতিমা পুজো সেই বছর থেকে শুরু হয়। যা আজও হয়ে চলেছে। শুধু তাই নয় সেই বছর নিমকাঠ দিয়ে তৈরি করা কাঠামোতই মায়ের পুজো হয়ে আসছে। পরিবারের সদস্য তথা অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক আধিকারিক স্বপন মিত্র বললেন ” সেই সময় পুরীর রথযাত্রার রথ তৈরির মিস্ত্রীরা রংহীন এই কাঠামো তৈরি করেছিলেন নিম কাঠ দিয়ে। সেই কাঠামোতে আজও পুজো হয়ে আসছে। সামান্য মেরামতি ছাড়া আর কোনওরকম পরিবর্তন করা হয়নি।”
এই পরিবারের পুজোয় আধুনিকতার ছোঁয়া এখনও পর্যন্ত লাগে নি। ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনেই গোটা পুজো আবর্তিত হয়। ঢাকি থেকে শুরু করে পুরোহিত-সহ যাবতীয় কার্যকলাপ পুরনো ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনেই চলে আসছে। সেই শুরু থেকেই ঢাকির দল আসছে বংশ পরম্পরায় খড়গপুর গ্ৰামীণ এলাকার খেমাশুলি থেকে। কালন্দি পরিবারের ঢাকিরা বংশ পরম্পরায় জমিদার মিত্র পরিবারের ঢাক বাজিয়ে আসছেন। মেদিনীপুর থেকে বংশ পরম্পরায় পুরোহিত আসেন। তার সাথে দশমীর বিকালে প্রতিমা বিসর্জনের সময় আদিবাসীদের কাঁধে চেপে শহরের একাংশ এলাকা পরিক্রমা করে খড়িদা মন্দিরতলা পুকুরে প্রতিমা বিসর্জনের ঐতিহ্য একেবারে শুরু থেকেই।
আরও পড়ুন:
এই ব্যাপারে পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য স্বপন মিত্র বললেন “খড়গপুর শহরের লালডেঙ্গা এলাকা থেকে আদিবাসীদের একটি দল পরিবার সহ দশমীর সকালেই চলে আসেন। ওঁদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০ জন পুরুষ এই মূর্তি সহ কাঠামো কাঁধে চাপিয়ে শহরের একাংশ পরিক্রমা করেন। তারপর খড়িদা মন্দিরতলা পুকুরে গিয়ে কাঠামো সহ মূর্তি বিসর্জন করা হয়।” পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন বিসর্জনের পর এই কাঠামো সারা রাত পুকুরে থাকে। পরেরদিন একাদশীর সকালে ওই আদিবাসীরা কাঠামোটি জল থেকে তুলে বাড়িতে পৌছে দিয়ে যান। এই পরিবারের মূর্তি ভাসানো হয় জলের দিকে মুখ রেখে। জানালেন স্বপনবাবু। তাঁর দাবি গোটা দেশে মূর্তি ভাসানোর এই বৈশিষ্ট্য আর কোথাও নেই। এই পরিবারে সন্ধিপুজোর ঠিক আগে ও পরে আতসবাজি ফাটানোর রেওয়াজ আজও পালন করা হয়। স্বপনবাবু জানালেন পুজোর সময় দেশের ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সমস্ত আত্মীয় স্বজন বাড়িতে চলে আসেন। একসঙ্গে পাত পেড়ে খাওয়া দাওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একজোট বিরোধীরা, অপসারণের দাবিতে এবার সংসদের দু’কক্ষেই ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব!
-
দুধের তৈরি না হলে বলা যাবে না ‘পনির’, ভেজালের রমরমা রুখতে কড়া নিয়মের পথে কেন্দ্র
-
পুজোয় বাঙালির পাতে পড়বে না পদ্মার ইলিশ! রুপোলি শস্য রপ্তানিতে মেলেনি ছাড়পত্র
-
SIR-এ বাদ, ট্রাইব্যুনালেও ওঠেনি নাম, হতাশায় চরম সিদ্ধান্ত কালনার যুবকের!
-
নাম জড়ায় ভূপেশ বাঘেল, রণবীর কাপুরদের! গ্রেপ্তার সেই মহাদেব বেটিং অ্যাপের কিংপিং