যুদ্ধের ঘনঘটা
Iran

‘প্রতিবেশীদের উপর আর হামলা নয়’, আচমকা সুর নরম ইরানের, কূটনৈতিক চাল?

সংবাদমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, "দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। যদি ইরান সরাসরি তাদের দ্বারা আক্রান্ত না হয়, তাহলে তেহরানও আর হামলা চালাবে না।"

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ৭, ২০২৬, ১৬:২০

options
link
‘প্রতিবেশীদের উপর আর হামলা নয়’, আচমকা সুর নরম ইরানের, কূটনৈতিক চাল?
ইরানের প্রত্যাঘাতে লন্ডভন্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্য। ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের প্রত্যাঘাতে লন্ডভন্ড গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এই পরিস্থিতিতে আচমকা সুর নরম করল তেহরান। শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়ে দিলেন, প্রতিবেশীগুলির উপর আর নতুন করে হামলা চালানো হবে না। কিন্তু হঠাৎ কেন ঢোঁক গিলল ইরান? বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে কূটনৈতিক চাল।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেন, “দেশের অস্থায়ী নেতৃত্ব পরিষদ প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির উপর নতুন করে হামলা না চালানোর সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছে। যদি ইরান সরাসরি তাদের দ্বারা আক্রান্ত না হয়, তাহলে তেহরানও আর হামলা চালাবে না।” এরপরই প্রতিবেশীদেশগুলির কাছে তিনি ক্ষমা চান। বলেন, “অন্য দেশগুলিকে আক্রমণ করার আমাদের কোনও ইচ্ছা নেই। সাম্প্রতিক হামলার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলির কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।” তবে পেজেশকিয়ান সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান আত্মসমর্পণ করবে না।

Advertisement

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলার পর প্রত্যাঘাত শুরু করে ইরান। প্রাথমিকভাবে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছিল ইরান। কিন্তু তারপর গোটা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বেপরোয়া আক্রমণ শুরু করেছে তেহরান। ইরাকের পাশাপাশি প্রতিবেশী কুয়েত, সৌদি আরব, আরব আমিরশাহী, বাহরিন, ওমান, জর্ডনে নির্বিচারে হামলা চালাচ্ছিল তেহরান। এসবের মাঝেই আবার সৌদি আরব পালটা হামলার হুঁশিয়ারি দেয়।

Advertisement

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মুসলিম বিশ্বে ‘একঘরে’ হয়ে পড়েছে ইরান। আরব এবং মুসলিম দেশগুলি থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাচ্ছে না তেহরান। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, বাহরিন-সহ অনেক বহু মুসলিম দেশই চায় না ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েলের যুদ্ধের আঁচ তাদের রাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ুক। তাই তারা কৌশলগতভাবে দূরত্ব বজায় রাখছে। শুধু তা-ই নয়, অনেক মুসলিম দেশের সঙ্গে আমেরিকা এবং ও পশ্চিমের দেশগুলির সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। তাই তারা সরাসরি ইরানকে সমর্থন করতে নারাজ। অন্যদিকে, শিয়া-সুন্নি বিভাজন আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
ইরান প্রধানত ‘শিয়া রাষ্ট্র’। কিন্তু বেশিরভাগ আরব দেশই আবার সুন্নি প্রধান। এর জেরে ইরানের সঙ্গে আরব দেশগুলির সাম্প্রদায়িক বিভাজন রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ‘একঘরে’ ইরান চাইছে মুসলিম বিশ্বকে পাশে পেতে। এই জন্যই আচমকা তারা সুর নরম করল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.