Iran-US

পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের পরের পদক্ষেপ কী? মার্কিন চুক্তির পরও উঠছে প্রশ্ন

প্রশ্ন উঠছে, তা হল-ইরানে পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কেমন বা সে দেশে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায়, কতটা রয়েছে, তা দেখতে পরমাণু পর্যবেক্ষকদের কি ইরান তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬, ১৪:৫৩

options
link
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের পরের পদক্ষেপ কী? মার্কিন চুক্তির পরও উঠছে প্রশ্ন
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরানের পরের পদক্ষেপ কী?

যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিবাদ-বিতন্ডার সূত্রপাত, সেই সংক্রান্ত আলোচনার সূত্রেই যে বহু-প্রতীক্ষিত ইরান-আমেরিকা শান্তি চুক্তি হয়েছে, তা এতক্ষণে জলের মতো পরিষ্কার। সমঝোতা চুক্তিতে (মউ) এরই উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিতও করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কিন্তু যে বিষয়টি এখনও ঘোলাটে, যা নিয়ে এখনও প্রশ্ন উঠছে, তা হল-ইরানে পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান পরিস্থিতি ঠিক কেমন বা সে দেশে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায়, কতটা রয়েছে, তা দেখতে পরমাণু পর্যবেক্ষকদের কি ইরান তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে?

Advertisement

ভান্সের যদিও দাবি, তেহরান অনুমতি দেবে। দিতে বাধ্য। কারণ ওয়াশিংটন আর তেহরানের মধ্যে যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, তার অন্যতম প্রধান ভিত্তিই হল পরমাণু বিষয়ক। সে কথা দেড় পাতার মউয়ে লেখাও আছে। শুধু লেখাই নয়। ভান্স বলেছেন, ইরান নাকি সম্মত হয়েছে যে তারা পরমাণু পর্যবেক্ষকদের তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেবে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের মতে, যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভাণ্ডার দেখার অনুমতি দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থা এবং আমেরিকাকে। আর এ কাজে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবে ইরান।

Advertisement

ভান্স বলেছেন, ইরান নাকি সম্মত হয়েছে যে তারা পরমাণু পর্যবেক্ষকদের তাদের দেশে প্রবেশ করতে দেবে।

কিন্তু বিষয়টা যে মোটেই এত সহজ নয়, তা মানছেন মার্কিন প্রশাসনের অন্দরে অনেকেই। অনেকেই এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের পাল্টা যুক্তি, যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইরান-আমেরিকা টানাপোড়েনের শুরু, সেটা এত সহজে মিটিয়ে ফেলবে ইরান?

Advertisement

উল্লেখ্য, ইরান-আমেরিকা শান্তির লক্ষ্যে সম্প্রতি ১৪টি বিষয়ের উপর ভার্চুয়ালি একটি মউ স্বাক্ষর হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ইরান, লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যের বাকি অংশে যুদ্ধ বন্ধ হবে। নতুন করে কোনও যুদ্ধ হবে না সেই গ্যারান্টি দেবে ইজরায়েল ও আমেরিকা। হরমুজ থেকে অবরোধ তুলবে আমেরিকা। ইরানও হরমুজ খুলে দেবে। সরবে ইরানের জাহাজের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা। ইরানের বাজেয়াপ্ত ২৪ মিলিয়ন ডলার ফেরানো হবে। ইরানের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলা হবে। ৩০ দিনের মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে সেনা প্রত্যাহার। তবে চুক্তির একেবারে শেষ অংশে ঠাঁই পেয়েছে ইউরেনিয়াম প্রসঙ্গ। যেখানে বলা রয়েছে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে তারা পরমাণু অস্ত্র তৈরি করবে না। এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সেই আলোচনার মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত হবে ওই বোমার উপকরণের ভবিষ্যৎ কী হবে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.