Tsai Ing-wen

লালচিনের মাথাব্যথার কারণ তাইওয়ানের ‘লৌহমানবী’, কে এই মহিলা?

জনগণের কাছে তিনিই তাইওয়ানের 'গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল'।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২২, ১৫:০২

options
link
লালচিনের মাথাব্যথার কারণ তাইওয়ানের ‘লৌহমানবী’, কে এই মহিলা?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল দেশ: লালচিনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কমিউনিস্ট দেশটির শত হুমকি সত্ত্বেও এক ইঞ্চি জমি ছাড়বেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। জনগণের কাছে তিনিই তাইওয়ানের ‘গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’। তাঁর নাম সাই ইং-ওয়েন। চিয়াং কাই-সেকের দেশের রাশ আপাতত তাঁরই হাতে।

Advertisement

সম্প্রতি মার্কিন স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির তাইওয়ান সফর ঘিরে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে উত্তেজনা চরমে। আর দুই মহাশক্তির লড়াইয়ে নিজের অবস্থানে অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং-ওয়েন। তাঁর স্পষ্ট কথা, দেশের স্বাধীনতার জন্য চিনের সঙ্গে শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই চলবে। আর এহেন মনোভাবের জন্য বেজিংয়ের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন তিনি। কে এই ‘লৌহমানবী’? ১৯৫৬ সালে দক্ষিণ তাইওয়ানে জন্ম হয় সাইর। মাত্র ১১ বছর বয়সেই রাজধানী তাইপেই চলে আসেন তিনি। স্কুলজীবন শেষে তাইওয়ান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক হন সাই। ১৯৮০ সালে আমেরিকার করোনেল ইউনিভার্সিটি থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে লন্ডন স্কুল অফ ইকোনোমিক্স অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে ডক্টরেট পান তিনি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: তাইওয়ানের উপর একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা চাপাল চিন, তলব মার্কিন রাষ্ট্রদূতকেও]

সাই ইং-ওয়েনের (Tsai Ing-wen) রাজনৈতিক জীবনও নানা চাপানউতোরে ভরা। ২০১৬ সালে তাইওয়ানের প্রথম মহিলা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেন তিনি। তাঁরই আমলে সমকামী বিবাহকে স্বীকৃতি দেয় তাইওয়ান। শুধু সমাজ সংস্কার নয়, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই সাইয়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চিনা আগ্রাসনের মুখে কোনও আপসে না গিয়ে আমেরিকার সঙ্গে একের পর এক সামরিক চুক্তি করে গিয়েছেন প্রেসিডেন্ট সাই। চিন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বারবার হুমকি সত্ত্বেও দেশের সাবমেরিন বাহিনীকে মজবুত করে লালফৌজের নৌবাহিনীকে কড়া টক্কর দিতে তৈরি হয়েছেন তিনি। ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তাইওয়ান সফরে আসেন তৎকালীন মার্কিন স্বাস্থ্যসচিব আলেক্স আজার। সেবারও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল চিন। কিন্তু তাতে মোটেও দমে যাননি সাই। চিনের সঙ্গে সংঘাতের আবহেই ২০২০ সালে ফের ক্ষমতায় আসেন সাই। আবারও মসনদে বসে চিন বিরোধী অবস্থান আরও মজবুত করেন তিনি। মঙ্গলবার মার্কিন স্পিকার পেলোসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চিনকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে প্রেসিডেন্ট সাই বলেন, “গণতন্ত্রের রক্ষায় আমরা সবসময় লড়াই চালিয়ে যাব।”

Advertisement

উল্লেখ্য, চিনা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে মঙ্গলবার রাতে মালয়েশিয়া থেকে তাইওয়ান পৌঁছন আমেরিকার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি। তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ চিন সাগরে ঢুকে পড়ে আমেরিকার যুদ্ধবিমানের বহর। পেলোসির নেতৃত্বে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি দলকে নিরাপত্তা দিতে জাপানের বিমানঘাঁটি থেকে ওড়ে আমেরিকার বিমানবাহিনীর ১৩টি যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রন। এদিকে, চিনা বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র হুয়া চুনইয়ং মঙ্গলবারও পেলোসির সফর নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওয়াশিংটনকে। তিনি বলেন, “এর বড় মূল্য দিতে হবে।” ১৯৯৭ সালের পরে এই প্রথম আমেরিকার কোনও শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিক তাইওয়ান সফরে গেলেন। আর তা নিয়েই আপত্তি তুলেছে শি জিনপিং সরকার।

[আরও পড়ুন: আমেরিকাকে জওয়াহিরির গোপন ডেরার সন্ধান দিয়েছে তালিবানই! বাড়ছে গুঞ্জন]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন