United Nation

স্বাধীন তিব্বতের দাবি! রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী যুবক

তিব্বতে চিনের অধিগ্রহণ ও জোর করে তিব্বতে ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইনের' প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলেন। যে আইনের উদ্দেশ্য চিনের বিভিন্ন জাতির মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১১:৫৫

options
link
স্বাধীন তিব্বতের দাবি! রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী যুবক
নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তর। ফাইল ছবি

হাতে তিব্বতের পতাকা। নিউ ইয়র্কে রাষ্ট্রসংঘের সদর দপ্তরের সামনে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মঘাতী হলেন এক যুবক। ভয়ংকর এই তথ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, চিনা আগ্রাসনের প্রতিবাদে এবং স্বাধীন তিব্বতের দাবিতে এই কাণ্ড ঘটান ওই যুবক। জানা যাচ্ছে, গায়ে আগুন দেওয়ার পর তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি।

Advertisement

নিউইয়র্ক পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে পুলিশের কাছে একটি ফোন আসে। সেখানে বলা হয়, ফার্স্ট অ্যাভিনিউ ও ৪২তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলে এক ব্যক্তি গায়ে আগুন ধরিয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মঘাতী হওয়ার সময় ওই যুবকের হাতে তিব্বতের একটি পতাকা ছিল। এই ঘটনায় রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র বলেন, ‘মর্মান্তিক এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। মৃত ব্যক্তির প্রতিবারের প্রতি আমরা সমবেদনা জানাচ্ছি।’

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মঘাতী হওয়ার সময় ওই যুবকের হাতে তিব্বতের একটি পতাকা ছিল।

সূত্রের খবর, মৃত ওই যুবকের নাম ওই যুবকের নাম লবগা রাংজেন। তিনি তিব্বতপন্থী আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন ফর তিব্বতের সভাপতি তেনচো গিয়াতসো নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাংজেন তিব্বতে চিনের অধিগ্রহণ ও জোর করে তিব্বতে ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’ বা ‘এথনিক ইউনিটি অ্যান্ড প্রোগ্রেস’ আইনের প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলেন। যে আইনের উদ্দেশ্য চিনের বিভিন্ন জাতির মধ্যে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলা। তবে অভিযোগ, এই আইনের বলে দেশের ভিন্ন সংস্কৃতিকে দুরমুশ করে একটি সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেওয়াই এই আইনের লক্ষ্য। দাবি করা হয়, এ আইন উইঘুর মুসলিম ও তিব্বতিদের মতো সংখ্যালঘুদের অধিকারকে আরও খর্ব করবে। বারবার এই ইস্যুতে রাষ্ট্রসংঘে সরব হয়েছেন তিব্বতিরা, তবে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Advertisement

উল্লেখ্য, দীর্ঘ বছর ধরে তিব্বতে নজর ছিল চিনের। ভারত স্বাধীন হওয়ার ১৯৫০ সালে তিব্বতকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য অংশ দাবি করে সেখানে সেনা পাঠায় চিন। ১৯৫৯ সালে চিনের সেনা তিব্বতের বিদ্রোহ দমন করে সেখানকার দখল নেয়। এই অবস্থায় তিব্বতের রাজধানী লাসা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন তিব্বতি আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা। শান্তিপূর্ণভাবে চিন-তিব্বত বিরোধের সমাধান এবং তিব্বতের স্বায়ত্তশাসনের দাবি দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করে আসছেন তিনি।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.