Mark Zuckerberg

তিনদিনের ‘ডেডলাইন’ দিয়েছিল কেন্দ্র, শিশু যৌননিগ্রহ থেকে ডিপফেকে ক্ষমা চাইলেন জুকারবার্গ!

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করায় ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে মেটা কর্তা মার্ক জুকারবার্গকে। ক্ষমা চাওয়ার জন্য মেটাকে তিনদিনের চূড়ান্ত সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৫, ২০২৬, ১৮:২১

options
link
তিনদিনের ‘ডেডলাইন’ দিয়েছিল কেন্দ্র, শিশু যৌননিগ্রহ থেকে ডিপফেকে ক্ষমা চাইলেন জুকারবার্গ!
ক্ষমা চাওয়ার জন্য মেটাকে তিনদিনের সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। ফাইল চিত্র।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভিডিও ডিলিট করায় ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে মেটা কর্তা মার্ক জুকারবার্গকে। ক্ষমা চাওয়ার জন্য মেটাকে তিনদিনের চূড়ান্ত সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছিল কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত ভারত সরকারের চাপে নতিস্বীকার করলেন সংস্থার প্রধান। ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার নানা সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ‘চাইল্ড পর্নে’র মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন মেটাকর্তা মার্ক জুকারবার্গ (Mark Zuckerberg)। সূত্রের খবর, এর পাশপাশি মোদির ভিডও সরানোর বিষয়ে প্রযুক্তি-প্রক্রিয়ার ত্রুটির কথাও বলা হয়েছে।

Advertisement

২৩ জুলাই জেন-জি পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একটি সেলফি ভিডিও বানান। ফেসবুক থেকে সেই ভিডিও গায়েব হওয়ার পর তুমুল বিতর্ক হয়। ওই ঘটনায় তড়িঘড়ি ক্ষমা চায় মেটা। যদিও সোমবার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সংসদীয় কমিটির বৈঠকের পর কমিটি প্রধান নিশীকান্ত দুবের সাফ জানান, এমন ঘটনায় ‘মেটা’র ক্ষমা প্রার্থনা যথেষ্ট নয়, ঘটনার দায় নিতে হবে তাদের। সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়াও প্রয়োজন। কেন্দ্রের হুঁশিয়ারিতে অস্বস্তিতে পড়ে মেটা। উল্লেখ্য, ভারত মেটার বৃহত্তম বাজার। এখানে কোটি কোটি মানুষ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন।

Advertisement

মোদির ভিডিও সরানোর বিষয়ে মার্কিন সোশাল মিডিয়া জায়ান্ট সংস্থাটির সাফাই— এই ঘটনার জন্য একটি কারিগরি ত্রুটি দায়ী। তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এই ব্যাখ্যাকে ‘অপর্যাপ্ত’ বলে মনে করেছে। যদিও সংস্থাটি জানায়, ‘ভুলবশত’ ওই বিষয়বস্তু (কন্টেন্ট) সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। পরে তা প্ল্যাটফর্মে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

Advertisement

সূত্রের খবর, কেন্দ্রের নির্দেশ মতো বুধবার মেটার প্রতিনিধিদল তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে। বৈঠকে সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে শিশু-যৌন নিপীড়নমূলক বিষয়বস্তু রোধে মেটার ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তোল হয় সরকারের তরফে। এই বিষয়ে যে সরকার উদ্বিগ্ন তাও জানানো হয়। মেটার কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন, “নির্দিষ্ট ধরনের কনটেন্ট বুস্ট করার” জন্য বিপুল অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। সূত্র জানিয়েছে, প্রচুর অবৈধ বিষয়বস্তু প্রচারের বিষয়টি মেটা স্বীকার করেছে এবং মেটার কর্মকর্তাদের আবারও এই বিষয়ে তলব করা হবে। এদিন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব এস কৃষ্ণানের সঙ্গে বৈঠক করেন মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স অফিসার জোয়েল কাপলান এবং অন্য আধিকারিকরা। এই বৈঠক চলে ৪৫ মিনিট।

প্রসঙ্গত, এর আগে নিশিকান্ত দুবে বলেন, ১৪০ কোটি মানুষের প্রতিনিধি আমাদের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর পোস্ট করা ভিডিও সরিয়ে দেওয়া মানে গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ করা। যারা এই ভিডিও সরিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করতে হবে মেটাকে। ক্ষমা চাইতে হবে মার্ক জুকারবার্গকে। যদি এগুলো না হয় তাহলে সেফ হারবার ক্লজ কেড়ে নেওয়া হবে মেটার থেকে। মামলাও দায়ের হবে মেটার বিরুদ্ধে। আপাতত কেন্দ্রের তরফ থেকে মেটাকে তিনদিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জুকারবার্গ ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা না চাইলে কেড়ে নেওয়া হতে পারে সেফ হারবার ক্লজ। এই সেফ হারবার ক্লজটা ঠিক কী? 

আইটি অ্যাক্টের ৭৯ ধারায় মেটার মতো সংস্থাগুলিকে কিছু রক্ষাকবচ দেওয়া হয়। তৃতীয় পক্ষের পোস্ট করা কন্টেন্টের আইনি দায় থাকে না তাদের। অর্থাৎ ইউজারদের পোস্ট নিয়ে সমস্যা থাকলেও সেটার আঁচ মেটা পর্যন্ত পৌঁছয় না। এবার কেন্দ্র এই রক্ষাকবচ প্রত্যাহার করে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, ইনস্টাগ্রাম-সহ নানা সোশাল মিডিয়া চাইল্ড পর্নের মতো নানা আপত্তিকর কন্টেন্ট আপলোড করা হয়েছে। সেই দায়ও এবার মেটার ঘাড়ে পড়বে। তাহলে ভারতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশাল মিডিয়া চালানো কঠিন হয়ে পড়বে মেটার পক্ষে। তাহলে কি ভারতে এবার বন্ধ হয়ে যাবে জনপ্রিয় সোশাল মিডিয়াগুলি? এই আশঙ্কার মধ্যেই ক্ষমা চাইলেন মেটা কর্ণধার মার্ক জুকারবার্গ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.