হিমালয়ে হাহাকার
Nepal Flood

বানের ধ্বংসলীলায় নেপালজুড়ে হাহাকার! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, এখনও নিখোঁজ ৩০০ ভারতীয়

বুধবার সকাল থেকেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ক্ষীণতোয়া ভোটেকোশি নদী মুহূর্তে খ্যাপা ষাঁড়ের গতিতে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে আশপাশে থাকা ঘরবাড়ি, সেতু, জনবসতি, নগর সভ্যতার সমস্ত চিহ্ন। আরও একবার ভয়াবহ ধ্বংস ও হাহাকারের মুখে গৌতম বুদ্ধর দেশ।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২৭, ২০২৬, ১৩:০৭

options
link
বানের ধ্বংসলীলায় নেপালজুড়ে হাহাকার! মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২, এখনও নিখোঁজ ৩০০ ভারতীয়
খ্যাপা ষাঁড়ের মতো জলস্রোতে তছনছ নেপাল। ছবি: ফাইল ছবি।

এ যেন পাহাড়ে সুনামি। ডাইনোসরের মতো একের পর এক বিরাট জলের ঢেউ গ্রাস করল গোটা জনপদকে। প্রকৃতির এই ভয়াবহ প্রলয়লীলার ছবি সচরাচর দেখা যায় না। রৌদ্রজ্জ্বল সকালে আচমকা এইরকম ভয়াবহ সর্বগ্রাসী জলের স্রোত খ্যাপা ষাঁড়ের মতো পাহাড়ের উপর থেকে যে গর্জন করতে করতে নেমে আসবে তা আঁচ করেননি বাসিন্দারা।

Advertisement

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে বুধবার সকালের এই ভয়ঙ্কর হড়পা বানে (Nepal Flash Flood) মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে তা গভীর রাত পর্যন্তও আন্দাজ করা যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালে পর্যন্ত নেপাল সরকার ১৬২টি দেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে। নিখোঁজ অন্তত ৭৫০। নেপালি বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, এর মধ্যে ৩০০ জন ভারতীয়। কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রী কলকাতার ৩২ জনের একটি দলের খোঁজ নেই। তামিলনাডুর ৩৭ পর্যটকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নেপালের বিদেশমন্ত্রী শিশির খানাল জানিয়েছেন, বুধবার সকাল ৮.৩৭মিনিটে তিব্বত সীমান্তে ভূমিকম্প হয়। এরপরই তুষারধস ঘটে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে ভোটেকোশী নদী দিয়ে হড়পা বান নেমে এসে প্রলয় ঘটায়। সম্পূর্ণ ধংসপ্রাপ্ত তিব্বত সীমান্তের নেপালি শহর রাসুয়াগাঢ়ি। নদীর দুপারে আনুমানিক ৫০ হাজার বাসিন্দার এই জনপদটি প্রায় নিশ্চিহ্ন। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে নেপালি সেনা।

Advertisement
Nepal flash floods sweep away homes and bridges
বিধ্বস্ত নেপালে চলছে উদ্ধারকাজ। ছবি: এফপি।

বুধবার সকাল থেকেই ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে ক্ষীণতোয়া ভোটেকোশী নদী মুহূর্তে খ্যাপা ষাঁড়ের গতিতে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে আশপাশে থাকা ঘরবাড়ি, সেতু, জনবসতি, নগর সভ্যতার সমস্ত চিহ্ন। আরও একবার ভয়াবহ ধ্বংস ও হাহাকারের মুখে গৌতম বুদ্ধর দেশ। আগস্ট-সেপ্টেম্বরে কৈলাস মানস সরোবর দর্শনে যেতে বড় সংখ্যক মানুষ যাত্রা শুরু করেন নেপাল থেকেই। বেসরকারি সংস্থাগুলি মূলত নেপাল থেকেই যাত্রা শুরু করে। সেই সমস্ত সংস্থার সঙ্গে যাত্রা করা পূণ্যার্থীদের একটা বড় অংশই বুধবারের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে। শেষ পাওয়া খবরেও তাঁদের অবস্থা ও অবস্থান পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। কারণ, হড়পা বানে ধ্বংস হওয়া এলাকায় যোগাযোগ করতে পারছে না মানস সরোবর যাত্রার দায়িত্বে থাকা পর্যটন সংস্থাগুলিও।

Advertisement
Nepal flash flood devastation leaves widespread destruction
কালো কাদার নিচে চাপা পড়েছে ঘরবাড়ি। ছবি: এএফপি।

কিন্তু কীভাবে নামল এই ভয়ংকর হড়পা বান? প্রাথমিক উপগ্রহ চিত্র থেকে কিছুটা ধারণা মিলেছে। তবে বিস্তারিত কোনও রিপোর্ট এখনও প্রকাশ করেনি কাঠমান্ডু। যদিও নেপালের বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ ‘এনডিআরআরএমএ’ সূত্রে জানা যাচ্ছে, দুর্যোগের শুরু উত্তরে তিব্বত অঞ্চলে। চিন-নেপাল সীমান্তবর্তী রাসুয়াগাঢ়ি অঞ্চলের একটি হিমবাহ ভেঙে যায়। যার নেপথ্যে রয়েছে একটি কম্পন। ৪.৪ রিখটার অভিঘাতের একটি কম্পনের হিমবাহ ভেঙেছে বলে অনুমান এনডিআরআরএমএ-র। ভেঙে যাওয়া সেই বিশাল হিমবাহই প্রাথমিকভাবে আটকে দেয় লেহন্ডে খোলা নদীর গতিপথ। পরে সেই গলে যাওয়া তুষার রাশি নেমে আসে নদীর বুকে যা ভীমগতিতে নেমে আসে নদী বেয়ে। ভাসিয়ে নিয়ে যায় পথ আটকানো প্রতিটি তৃণকণাও। প্রথমে লেহন্ডে খোলা, পরে সেখান থেকেই জল-কাদার স্রোত বয়ে চলে ভোটেকোশী নদীতে। যাত্রাপথে সেই স্রোতই ক্রমে বাড়তে থাকে কলেবরে, যা ধ্বংসাত্মক রূপ নেয় রাসুয়া জেলার জনপদে। গ্রামের পর গ্রাম চলে যায় জলের নিচে। কালো কাদার নিচে চাপা পড়েছে ঘরবাড়ি। তার নিচে ঠিক কত প্রাণ শ্বাসরুদ্ধ হয়েছে তার স্পষ্ট কোনও হদিশ মেলেনি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.