Pakistan

পাক তরুণের লেখাই ‘স্ফূলিঙ্গ’! নেপাল, বাংলাদেশের পরে এবার জেন জি বিপ্লব পাকিস্তানে?

জোরাইন নিজামানি হয়ে উঠবেন পাকিস্তানের 'ইয়ুথ আইকন'!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৬, ২০২৬, ১৭:৪৪

options
link
পাক তরুণের লেখাই ‘স্ফূলিঙ্গ’! নেপাল, বাংলাদেশের পরে এবার জেন জি বিপ্লব পাকিস্তানে?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাংলাদেশ ও নেপালের পর পাকিস্তানেও কি এবার জেন জি বিপ্লব শুরু হবে? সম্প্রতি পাকিস্তানি এক গবেষক পড়ুয়ার একটি লেখা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে নেট দুনিয়ায়। দ্রুত সেই লেখাটি সরিয়েও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মনে করা হচ্ছে, এই লেখা অচিরেই স্ফূলিঙ্গ হয়ে উঠে দ্রোহের আগুন জ্বালাতে পারে প্রতিবেশী দেশটিতে। আর তা যদি হয়, জোরাইন নিজামানি নামের তরুণ হয়ে উঠবেন পাকিস্তানের ‘ইয়ুথ আইকন’।

Advertisement

‘ইট ইজ ওভার’ তথা ‘এটা শেষ হয়ে গিয়েছে’ শীর্ষক লেখাটি প্রকাশিত হয়েছিল নতুন বছরের প্রথম দিনে। পাকিস্তানি দৈনিক ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এ প্রকাশিত লেখাটি ওয়েবসাইট থেকে নামিয়ে নেওয়া হলেও সংবাদপত্রটির পাতার স্ক্রিনশট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেখানে জোরাইন পরিষ্কার করে দিয়েছেন কীভাবে পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে প্রশাসনের দূরত্ব বাড়ছে। তবে লেখাটিতে তিনি আলাদা করে পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকারের নামোল্লেখ করেননি। তাঁকে লিখতে দেখা গিয়েছে, ‘ক্ষমতায় থাকা বয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের ব্যাপারটা শেষ হয়ে গিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে আপনারা যা গছাবার চেষ্টা করছেন, তার সে সব কিছুই নিচ্ছে না। স্কুল-কলেজে দেশপ্রেম প্রচারের জন্য আপনারা যতই আলোচনা সভা ও সেমিনারের আয়োজন করুন না কেন, তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না। যখন সমান সুযোগ, উন্নত পরিকাঠামো এবং কার্যকর ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে, তখন দেশপ্রেম স্বাভাবিকভাবেই আসে।’

Advertisement

পাশাপাশি তিনি আরও লেখেন, ‘জেন জি চায় দ্রুততর ইন্টারনেট, যারা ক্ষমতায় থাকে তারা চায় মজবুত ফায়ারওয়াল। জেন জি চায় সস্তা স্মার্টফোন, ক্ষমতাবানরা চায় স্মার্টফোনে কর বসাতে। জেন জি চায় ফ্রিলান্সিংয়ে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হোক। ক্ষমতাবানরা মেয়াদ বাড়াতেই আগ্রহী।’

তাঁর মতে ‘তরুণ মন, জেন জি আলফা ঠিক জানে কী ঘটছে! তাঁদের কাছে রাষ্ট্রের দেশপ্রেমের দৃষ্টিভঙ্গি বিক্রি করার ক্রমাগত প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, তারা ঠিক দেখতে পাচ্ছে… জনসাধারণকে যতটা সম্ভব নিরক্ষর রাখার জন্য আপনার সর্বোত্তম প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, আপনারা ব্যর্থ হয়েছেন।’ জোরাইনের এমন লেখায় অনুপ্রাণিত হয়েছেন বহু পাকিস্তানি। অনেকেই স্বীকার করেছেন, একদম সঠিক কথাই বলেছেন তিনি। বকলমে সেনা শাসন চলতে থাকা পাকিস্তানে গণতন্ত্র শিকেয় উঠেছে। অন্যায়ভাবে ইমরানকে জেলবন্দি করা সংবিধান বদলে সেনা প্রধান আসিফ মুনিরকে বিপুল ক্ষমতা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ সেখানকার জনতা। সোশাল মিডিয়ায় সেই বিদ্রোহের আঁচ স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন শাহবাজরা। এই পরিস্থিতিতে জোরাইনের লেখাটি যেন ‘অনুঘটক’ হয়ে উঠছে। আগামিদিনে সত্যিই পাকিস্তানে তরুণের বিপ্লব জোরদার হয়ে ওঠে কিনা সেটাই এখন দেখার।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.