Pakistan

পরমাণু শক্তিধর যুদ্ধজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা! বারে বারে ফাঁস পাক নৌসেনা কর্তাদের কুকীর্তি

২০১৪ সালে লেফটেন্যান্ট জিশান রফিক ও ওয়াইস জাখরানি নামের দুই পাক নৌসেনার মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল এই ষড়যন্ত্র। এরা দু'জনেই ছিলেন সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দার চর।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ১৭:১২

options
link
পরমাণু শক্তিধর যুদ্ধজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা! বারে বারে ফাঁস পাক নৌসেনা কর্তাদের কুকীর্তি
প্রতীকী ছবি।

উত্তর আরব সাগরে ভারতের রণতরীর সঙ্গে পাক যুদ্ধজাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় হুলস্থুল পড়ে গিয়েছে। কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে নয়াদিল্লি। দুই দেশের কূটনৈতিক সংঘাত চরম আকার নিয়েছে। তবে পাক সেনা আধিকারিকদের এই কুকীর্তি এই প্রথমবার নয়। ১২ বছর আগে জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে নিজেদের নৌজাহাজ ছিনতাই করে মার্কিন জাহাজে হামলার ছক কষেছিল পাক আধিকারিকরা। সম্প্রতি ভারতীয় জাহাজে হামলার পর সামনে এল অতীতের সেই কুকর্ম। যদিও শেষ পর্যন্ত জঙ্গি ও কিছু আধিকারিকদের মিলিত সেই ষড়যন্ত্র বানচাল হয়। স্টিভ কলের লেখা বই ‘ডিরেক্টরেট এস’-এ উঠে এসেছে সেই ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের কথা।

Advertisement

২০১৪ সালে লেফটেন্যান্ট জিশান রফিক ও ওয়াইস জাখরানি নামের দুই পাক নৌসেনার মস্তিষ্কপ্রসূত ছিল এই ষড়যন্ত্র। এরা দু’জনেই ছিলেন সন্ত্রাসী সংগঠন আল কায়দার চর। সেই সময় পাকিস্তান নৌবাহিনীর সবচেয়ে অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ ছিল ‘পিএনএস জুলফিকার’। চিনের তৈরি এই যুদ্ধ জাহাজকে ব্যবহার করে মার্কিন যুদ্ধ জাহাজ ইউএসএনএস-এ হামলার পরিকল্পনা করা হয়। দুই পাক আধিকারিক গোপনে জুলফিকারে অস্ত্র পাচারের পাশাপাশি মিসাইল রুম ও অপারেশন রুমের দরজার চাবি নকল করে। যাতে কমান্ডিং অফিসারের অজান্তে গোপন কক্ষে তারা প্রবেশ করতে পারে।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১২ বছর আগে জঙ্গিদের সঙ্গে মিলে নিজেদের নৌজাহাজ ছিনতাই করে মার্কিন জাহাজে হামলার ছক কষেছিল পাক আধিকারিকরা। সম্প্রতি ভারতীয় জাহাজে হামলার পর সামনে এল অতীতের সেই কুকর্ম।

ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে রফিক ও জাখরানি জুলফিকারে ওঠেন। সেনার পোশাকে জঙ্গিরা তখন ছোট নৌকায় বন্দরের দিকে আসছিল। বিষয়টি এক অফিসারের নজরে আসতেই তিনি সকলকে সতর্ক করেন। শুরু হয় জঙ্গিদের সঙ্গে সেনার গুলির লড়াই। জাহাজের ভিতরেও শুরু হয় খণ্ডযুদ্ধ। রফিক, জাখরানি-সহ ৩ জন গুলির লড়াইয়ে নিহত হন। নৌজাহাজে থাকা অন্যান্য মারণ অস্ত্র ব্যবহারের সুযোগই পাননি তারা। হামলার প্রায় ছয় সপ্তাহ পর, করাচিতে থাকা ভারতের এক এজেন্টের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাকে ‘র’ (RAW) জানায়, হামলার সময় পিএনএস জুলফিকারে একটি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল। স্টিভ কলের দাবি, যদি সেই ষড়যন্ত্র সফল হত, তাহলে তা হত ইতিহাসে প্রথম পরমাণু অস্ত্রাগারে সন্ত্রাসী হামলা।

Advertisement

জানা যায়, জঙ্গিরা এই হামলার ষড়যন্ত্র কষেছিল ১৯৭৫ সালে সোভিয়েত নৌবাহিনীতে ঘটা এক বিদ্রোহের অনুকরণে। সেই সময় সোভিয়েত নৌসেনার এক বিদ্রোহী ক্যাপ্টেন নৌ-ফ্রিগেট ‘স্টোরোজেভয়’ ছিনতাই করে বাল্টিক সাগরে নিয়ে আসেন। এরপর অবশ্য সোভিয়েত যুদ্ধবিমান ওই জাহাজে হামলা চালায়। এক বছর পর বিচারে অভিযুক্ত ক্যাপ্টেনের ফাঁসি হয়। পাকিস্তানের সন্ত্রাসী নৌসেনা আধিকারিকরাও অবশ্য এই ঘটনার পর রেহাই পাননি। ষড়যন্ত্রে জড়িত পাকিস্তান নৌবাহিনীর জীবিত ৫ আধিকারিককে ২০১৬ সালে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও ২০২৪ সালে অজ্ঞাত কারণে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড রদ হয়ে যায়। অবশ্য সন্ত্রাসে লিপ্ত ৫ আধিকারিক এখন কোথায় তা কেউ জানে না।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.