হাউথির ভয়ংকর যুদ্ধে আমেরিকার সাহায্য চেয়েছিল সৌদি আরব। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রিয়াদকে সাহায্যের বিষয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি। এরইমাঝেই জানা গেল, নিজেদের জ্বালানি তেলের আমদানিতে যাতে কোনও প্রভাব না পড়ে সেই লক্ষ্যে হাউথিদের সঙ্গে চুক্তি সেরে ফেলেছে ওয়াশিংটন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এর অর্থ হল সৌদিকে চোরাবালিতে ফেলে নিজেদের আখের গোছাচ্ছে আমেরিকা।
গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবে ভয়ংকর হামলা শুরু করেছে ইরান সমর্থিত হাউথি বিদ্রোহীরা। বাব-আল-মান্দেব প্রণালী ও মোখা বন্দর এখন হাউথিদের নিয়ন্ত্রণে। হরমুজে ঝুঁকি বাড়ায় এই প্রণালীই এখন সৌদির তেল রপ্তানির প্রধান পথ। আপাতত যা বন্ধ। সৌদির একের পর এক শহরে চলছে হামলা। মক্কাতেও বেজে উঠেছে সাইরেন। এই পরিস্থিতিতে সৌদি আমেরিকার সাহায্য চাইলেও আমেরিকা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা সরাসরি হামলা করবে না। এই ইস্যুতে গত রবিবার ওমানের রাজধানী মাস্কাটে আমেরিকার দূতাবাসে মার্কিন আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে হাউথির। সেখানে হাউথিরা জানিয়েছে, মার্কিন জাহাজে তারা কোনও হামলা করবে না এবং ২০২৫ সালের যুদ্ধ বিরতি মেনে চলবে তারা।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা জানিয়েছে, সৌদিকে শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে তারা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকা ও হাউথিদের মধ্যে এক অলিখিত বোঝাপড়া হয়েছে।
বৈঠকের কথা স্বীকার করে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, “আমরা হাউথিদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি।” মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রের খবর, হাউথির মারে জর্জরিত হয়ে সৌদির যুবরাজ মহম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে দু’বার ফোন করেন এবং হাউথিদের উপর বিমান হামলার আর্জি জানান। কিন্তু সে আবেদন খারিজ করেন ট্রাম্প। আমেরিকা জানিয়েছে, সৌদিকে শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবে তারা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমেরিকা ও হাউথিদের মধ্যে এক অলিখিত বোঝাপড়া হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে বাব-আল-মান্দেব প্রণালী থেকে জাহাজ চলাচলে কোনও বাধা থাকবে না, কিন্তু সৌদির জাহাজ এখন এই প্রণালীতে নিষিদ্ধ।
এদিকে হাউথির মারে পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে রিয়াদের। রিপোর্ট বলছে, তাদের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। এই অবস্থায় তারা ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে এয়ার ডিফেন্স সাহায্য চেয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সদস্য। তাদের অবস্থান এখন ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’। হাউথির বিরুদ্ধে মুখে বড় বড় বুলি ছুটলেও, ইয়েমেনে সেনা পাঠানোর বিষয়ে কোনও আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তারা। এই অবস্থায় সৌদি আরব ওমানের মাধ্যমে হাউথিদের কাছে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
হরমুজে সেনা মোতায়েনে আমেরিকাকে ‘না’ দক্ষিণ কোরিয়ার! ট্রাম্পের ‘চাপ’ উড়িয়ে দিল সিওল
-
শিশুখাদ্যেও বিষ? এবার নেসলের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ, নোটিস পাঠাল কেন্দ্র
-
বিপর্যয়ের আতঙ্ক! পুজোর পর্যটনে উত্তরকে টেক্কা দক্ষিবঙ্গের, জঙ্গলমহলও ‘হাউসফুল’
-
নন্দীগ্রাম ভোটে কংগ্রেসকে সমর্থন ‘সর্বহারা’ মমতার, জল্পনা উসকে বললেন, ‘সিস্টার পার্টি’
-
বিশ্বকর্মা পুজোর জন্য মেলেনি অ্যাম্বুল্যান্স! ভাড়া গাড়িতেই সন্তান প্রসব, উত্তেজনা পানাগড়ে