Pakistani Grooming Gang

‘৭০০ জন আমায় ধর্ষণ করেছে…’, পাকিস্তানি ‘গ্রুমিং গ্যাংয়ের’ পর্দাফাঁস ব্রিটেনের সংসদে

ব্রিটেনের অন্তত ৮৫টি এলাকায় এই ধরনের গ্যাংয়ের কার্যকলাপ সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। প্রশাসনও এই বিষয়ে বিশেষ তৎপরতা দেখায় না। পুলিশের চরম অবহেলা ও প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্যই এই গ্যাংয়ের বাড়বাড়ন্ত।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২, ২০২৬, ২১:১৯

options
link
‘৭০০ জন আমায় ধর্ষণ করেছে…’, পাকিস্তানি ‘গ্রুমিং গ্যাংয়ের’ পর্দাফাঁস ব্রিটেনের সংসদে

শিশু ও নাবালিকাদের উপর ভয়ংকর যৌন নির্যাতন চালানো পাকিস্তানি গ্রুমিং গ্যাংয়ের তথ্য প্রকাশ করা হল ব্রিটেনের সংসদে। ব্রিটেনে নির্যাতিতাদের বয়ান তুলে ধরে এমপি রুপের্ট লো সংসদের কাছে আর্জি জানালেন, নির্যাতিতাদের বয়ান শুনে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। ব্যক্তিগত তদন্তের ভিত্তিতে সংসদে তিনি জানান, দিনের পর দিন অসংখ্য নাবালিকা অসহনীয় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অথচ পুলিশ থেকে প্রশাসন সবাই চোখ বন্ধ করে রেখেছিল।

Advertisement

২০০৩ সালে ব্রিটেনে সাড়া ফেলে দিয়েছিল গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারি। ‘দ্য টাইমস’ প্রত্রিকায় প্রথম প্রকাশ্যে এসেছিল এই রিপোর্ট। তদন্তে উঠে আসে পাকিস্তানিরা ব্রিটেনের মাটিতে বসে চালাত ভয়ংকর এই অপরাধচক্র। ১১ থেকে ১৬ বছরে অসহায়, অরক্ষিত, শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ কিশোরীদের টার্গেট করত এই গ্যাং। সংসদে এক নির্যাতিতার বয়ান তুলে ধরেন এমপি রুপের্ট লো। যেখানে এক নির্যাতিতা বলছেন, তাঁর বয়স তখন ছিল ১২ বছর। সেই সময় তাঁর যৌনাঙ্গে মদের বোতল ঢুকিয়ে দিয়েছিল একজন। অন্য এক নির্যাতিতার দাবি, ৩ বছর ওরা তাঁকে যৌনদাসী করে রেখেছিল। তাঁর বয়স তখন ছিল ১৩ বছর। এই সময়ে ৬০০ থেকে ৭০০ জন পুরুষ তাঁকে ধর্ষণ করে। ১৫ বছরের আর একটি মেয়ে জানায়, নির্যাতনের জেরে তাঁর যোনি ও মলদ্বার দিয়ে ভয়ংকর রক্তপাত হচ্ছিল। পরিস্থিতি এতটা মারাত্মক ছিল যে বসার উপায় ছিল না।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক শিশুদের যৌন শোষণ রুখতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেন। এরপর এক বছরে ৫৫০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যৌন নির্যাতনের পাশাপাশি অত্যাচারেরও শেষ ছিল না। আর এক নির্যাতিতার বয়ান অনুযায়ী, তাঁকে একটি ভ্যানে ১৫ থেকে ২০ জন মেয়ের সঙ্গে কুকুরের খাঁচায় বন্দি করে রাখা হয়। এমনকী কুকুরকে দিয়ে ধর্ষণ করানো হয় এক নাবালিকাকে। সেই দৃশ্য দেখার জন্য সেখানে বহু লোকজন উপস্থিত ছিল। তাঁরা ঘটনার ভিডিও করছিল আর হাসছিল। এইসব ঘটনা কাউকে জানালে সপরিবারে খুন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হত। কিছু ক্ষেত্রে বর্ণবৈষম্যের ঘটনা সামনে এসেছে। এক নির্যাতিতার দাবি, এই অপরাধীরা শ্বেতাঙ্গ এবং খ্রিস্টান মেয়েদের ঘৃণ্য চোখে দেখত এবং মুসলিম মহিলারা সম্মান ও সম্ভ্রমের অধিকারী বলে মনে করত। এমনই এক ঘটনায় এক নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়লে অপরাধীর বাবা যিনি আবার ইমাম ছিলেন, তিনি তাঁর ছেলের সঙ্গে নির্যাতিতার বিয়ে ঠিক করেন এবং নির্যাতিতাকে তাঁর সন্তানের সঙ্গে কখনও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।

Advertisement

ওই সাংসদের দাবি, ব্রিটেনের অন্তত ৮৫টি এলাকায় এই ধরনের গ্যাংয়ের কার্যকলাপ সামনে এসেছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, এই গ্যাংয়ের সদস্যরা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত। প্রশাসনও এই বিষয়ে বিশেষ তৎপরতা দেখায় না। পুলিশের চরম অবহেলা ও প্রশাসনের ব্যর্থতার জন্যই এই গ্যাংয়ের বাড়বাড়ন্ত। উল্লেখ্য, এই গ্যাংয়ের কুকীর্তি প্রথম নজরে এসেছিল ব্রিটেনের ইয়র্কশায়ারের রদারহ্যাম শহরে। ১৯৯৭ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে সেখানে ১,৪০০-রও বেশি শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। অধ্যাপক অ্যালেক্সিস জে-র ২০১৪ সালের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, প্রশাসনও এই বিষয়ে কোনওরকম হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করত। রচডেল, অক্সফোর্ড, টেলফোর্ড এবং ব্রিস্টলসহ আরও প্রায় ৫০টি শহরে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়।

২০২৩ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক শিশুদের যৌন শোষণ রুখতে একটি টাস্কফোর্স গঠন করেন। এরপর এক বছরে ৫৫০ জনেরও বেশি সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে শিশুদের বিরুদ্ধে ১,১৫,০০০-এরও বেশি যৌন অপরাধের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল, যার মধ্যে ৩.৭ শতাংশ ছিল এই গ্যাংয়ের।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.