Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৬ আগস্ট ২০২৬
Purulia

১৩ বছরের টানাপোড়েন থেকে মুক্তি, সোমবার থেকেই জাইকার জল পুরুলিয়ায়

২০১৩ সালে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন ও পানীয় জল বিভাগের তৎকালীন মন্ত্রী জয়রাম রমেশের সময়ে এই প্রকল্পের অনুমোদন মেলে।

সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ২১:১১

link
সুমিত বিশ্বাস
সুমিত বিশ্বাস

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৬, ২০২৬, ২১:১১

options
link
১৩ বছরের টানাপোড়েন থেকে মুক্তি, সোমবার থেকেই জাইকার জল পুরুলিয়ায় zoom
জাইকা জল প্রকল্প পরিদর্শনে পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু।
Advertisement

দীর্ঘ ১৩ বছরের টানাপোড়েনের পর অবশেষে বহু প্রতীক্ষিত জাইকার পানীয় জল পাবে রুখাশুখা পুরুলিয়া। জঙ্গলমহলের এই জেলার ৫ টি ব্লকের একাংশ এবং পুরুলিয়া শহর এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। মানবাজার ১, পুঞ্চা, পুরুলিয়া ১, আড়শা ও বরাবাজার, এই পাঁচটি ব্লকের ৬ লাখের বেশি মানুষ তো আছেনই, সেই সঙ্গে পুরুলিয়া পুরসভা মিলিয়ে প্রায় ২ লাখের কাছাকাছি-সহ এই প্রকল্প থেকে মোট ৮ লাখ ১৩ হাজার ৪০৬ জন সুবিধা পাবেন। ফলে গ্রামীণ এলাকায় শুধু নয়, পুরুলিয়া পুরসভায় পানীয় জলের জন্য গ্রীষ্মকালে যে হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের সেই সমস্যারও সমাধান হবে। যা জঙ্গলমহলের এই জেলার মানুষজনের কাছে একটা বড় পাওনা। আগামীকাল সোমবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে উদ্বোধনের আগে মানবাজার ১ ব্লকের ধানাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের জামদা প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করেন পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো, রাজ্যের অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ ও পূর্ত বিভাগের রাষ্ট্রমন্ত্রী নদিয়ারচাঁদ বাউরি, মানবাজারের বিধায়ক ময়না মুর্মু।

এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় ১২৯৬.২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই প্রকল্পে জাইকার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্য অর্থ দিয়েছে। বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর বাঁধের জলাধার এই জলের উৎস।

২০১৩ সালে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন ও পানীয় জল বিভাগের তৎকালীন মন্ত্রী জয়রাম রমেশের সময়ে এই প্রকল্পের অনুমোদন মেলে। সেই সময় এই প্রকল্পের বিধি ছিল ভূ-গর্ভস্থ জলে এই প্রকল্প রূপায়িত হবে। ফলে সেই সময় দেখা যায় ওই জলে ফ্লুরাইড রয়েছে। ফলে ২০১৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি নতুন ভাবে আবার বরাদ্দ হয়ে দ্বিতীয়বার অনুমোদন মেলে। কিন্তু কাজ শুরু হতে ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাস লেগে যায়। কারণ একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করতে হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার শেষেও বিগত সরকারের সময়ে ঢিলেমি দেখা যায়। অনেক ধীরগতিতে কাজ চলে বলে অভিযোগ। গত বছর ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তা পূরণ হয়নি। পালাবদল হলে গত ৩ মাসে এই কাজে গতি আসে।

Advertisement

এই মেগা প্রকল্পের ব্যয় ১২৯৬.২৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকার ঋণ ৮৮৯.০৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই প্রকল্পে জাইকার কাছ থেকে ঋণ নেওয়া ছাড়াও কেন্দ্র ও রাজ্য অর্থ দিয়েছে। বাঁকুড়ার মুকুটমনিপুর বাঁধের জলাধার এই জলের উৎস। ৩০০ কিমি পাইপলাইনের মাধ্যমে পুরুলিয়ায় জল নিয়ে আসা হচ্ছে। জল উত্তোলন কাঠামো ও সংযোগকারী সেতু ১.২ কিলোমিটার। মূল জলপরিবাহী নলের দৈর্ঘ্য ২৭১ কিলোমিটার। এছাড়া জল সরবরাহ নলের মোট দৈর্ঘ্য ১৫৯৪ কিলোমিটার। প্রতিদিন ৮ ঘন্টা জল সরবরাহের সময়। এই জেলায় সবচেয়ে বড় সমস্যা পানীয় জলের অভাব। মূলত বৃষ্টির জল নির্ভর এই জেলায় অনিয়মিত ও স্বল্প পরিমাণে বৃষ্টিপাতের কারণে কার্যত খরা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পাথুরে ভূপ্রকৃতি এবং মাটির কম জলধারণ ক্ষমতার কারণে ভূগর্ভস্থ ও ভূপৃষ্ঠস্থ উভয় ক্ষেত্রে জলের পরিমাণ সীমিত।

দীর্ঘদিন এই এলাকায় নলকূপ ও নদীর তলদেশ থেকে নলের মাধ্যমে পানীয় জল সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট ছিল না। বিশেষত গ্রীষ্মকালে জলস্তর প্রায় ৪০ ফুট নেমে যাওয়ার ফলে পুরুলিয়ার এই অংশের মানুষজন ব্যাপক সমস্যায় পড়তেন। শহর পুরুলিয়ায় ২৫ এমএলডি জলের প্রয়োজন। ১২ এমএলডি পুরসভা নিজে ব্যবস্থা করে। এতদিন এই শহরে ১৩ এমএলডি পানীয় জলের অভাব ছিল। কিন্তু এবার থেকে ১২ এমএলডি জল জাইকা দেবে। ইতিমধ্যেই তা দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু উদ্বোধনের পর সরবরাহ হবে।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.