করোনা আক্রান্ত ইটালি

বেঁচে থাকার গানই ভরসা, মৃত্যুপুরী ইটালিতে সমবেত সংগীত উজ্জীবিত রাখছে বাসিন্দাদের

আনন্দে মাতার দৃশ্য আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবেই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ১৪, ২০২০, ১৯:০৫

options
link
বেঁচে থাকার গানই ভরসা, মৃত্যুপুরী ইটালিতে সমবেত সংগীত উজ্জীবিত রাখছে বাসিন্দাদের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে গিয়েছে কবেই। ইতিহাস বুকে আগলে দাঁড়িয়ে রয়েছে দেশটা। আর আধুনিকতার স্পর্শে প্রাচীনত্বের সঙ্গে মিলমিশ হয়েছে ঝাঁ চকচকে নবীন পরিবেশের। অ্যাম্ফিথিয়েটার থেকে কলোসিয়াম, মিউজিয়াম থেকে ফ্যাশন ব়্যাম্প – অফুরান প্রাণোচ্ছ্বলতা নিয়ে সারাদিন, সারারাত কাটিয়ে দেওয়া দেশটা কেমন ঝিমিয়ে পড়েছে এখন! ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটা জীবাণু আচমকাই নরখেকো দৈত্য হয়ে নেমে এসেছে ইটালির বুকে। নাম তার – নোভেল করোনা ভাইরাস। তার দাপটে কার্যত মৃত্যুপুরী হওয়ার পথে হাঁটছে ইউরোপের এই দেশটি।

Advertisement

না, এটাই আজকের ইটালির গোটা চিত্র নয়। শ্মশানের স্তব্ধতা, নির্জনতা ভাঙছে প্রতি সন্ধেবেলাই। করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষগুলো রোজ জেগে উঠছেন। গাইছেন, নাচছেন, আনন্দ করছেন। তবে নিরাপদ দূরত্বে থেকে। এটাই জারি রেখেছে ইটালির প্রাণস্পন্দন।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: মোদির ডাকে সাড়া ইমরানের, করোনা নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে রাজি পাকিস্তান]

সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যেখানে দেখা যাচ্ছে, মফস্বলের এক গলির দু’ধারে অজস্র ফ্ল্যাটবাড়ি। রাস্তার দিকে সব ব্যালকনি। আর সেখানে দাঁড়িয়ে প্রত্যেকে মেতেছেন হইহুল্লোড়ে, একে অপরের সঙ্গে চিৎকার করে কথা বলছেন। সঙ্গে উচ্চস্বরে বাজছে স্থানীয় ভাষায় গান। গানের সুরে তাল মিলিয়ে কোমর দোলাচ্ছেন ছোট থেকে বড়, মহিলা-পুরুষ সকলে। ব্যাপারটা কী? অর্ধেক ইটালিবাসীই তো এখন কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। মারণ করোনা তাঁদের রোজকার জীবনকে এক লহমায় বদলে দিয়েছে। কাজকর্ম শিকেয় তুলে এখন গৃহবন্দি কয়েক হাজার মানুষ। তাহলে এ কী দৃশ্য?

Advertisement

[আরও পড়ুন: করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, টানা ৩৬ ঘণ্টা দিদির দেহ আগলে বসে রইলেন ভাই]

না, ঘাবড়ানোর কিছু নেই। দিনভর কোয়ারেন্টাইনের প্রতিটি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন এঁরা সবাই। কিন্তু গোধুলিবেলায় আর মন মানে না। সকলে বেরিয়ে আসেন বাড়ির ব্যালকনিতে। আশেপাশের সকলেই তখন একে অপরের অপেক্ষায়। কখন প্রতিবেশী বন্ধু বেরোবেন, হেসে একটু কথা বলার সুযোগ পাবেন। কারণ, করমর্দন বা আলিঙ্গন তো নিষিদ্ধ এখন – শিয়রে যে করোনার কাঁটা। কিন্তু আনন্দে মাততে কোনও কিছুই তো আর বাধা নয়। তাই নিরাপদ দূরত্বে একে অন্যের মুখ দেখেন, কথা বলেন। গান চালিয়ে নাচানাচি করছেন। কেউ আবার অন্যদের এই আনন্দ ভিডিও করে রাখছেন। এও তো একটা স্মৃতি। কীভাবে আতঙ্কের দিনগুলোকে আনন্দময় করে তোলা যায়, তার একটা নিদর্শন। এভাবেই তাঁরা উপভোগ করছেন বন্দিদশা। আশা একটাই, একদিন ঠিক এই পর্যায় কাটিয়ে ওঠা যাবে। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধজয় হবেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন