Spain

সমুদ্রে ১৬০০ ফুটের বিশাল ‘প্রাচীর’, অনুপ্রবেশ আটকাতে অভিনব পদক্ষেপ স্পেনের

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার অভিনব পদক্ষেপ স্পেনের। অবৈধবাসীদের রুখতে মরক্কো ও সিউটার মধ্যবর্তী সমুদ্রে ভাসমান প্রাচীর (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপন করা হবে শনিবার জানিয়েছে স্পেন প্রশাসন।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ২, ২০২৬, ১৮:১৭

options
link
সমুদ্রে ১৬০০ ফুটের বিশাল ‘প্রাচীর’, অনুপ্রবেশ আটকাতে অভিনব পদক্ষেপ স্পেনের
অনুপ্রবেশ আটকাতে সমুদ্রে ভাসমান পাঁচিল তোলার পরিকল্পনা স্পেনের।

অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এবার অভিনব পদক্ষেপ স্পেনের। অবৈধবাসীদের রুখতে মরক্কো ও সিউটার মধ্যবর্তী সমুদ্রে ভাসমান প্রাচীর (ফ্লোটিং ব্যারিয়ার) স্থাপন করা হবে শনিবার জানিয়েছে স্পেন প্রশাসন। সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়েই এই পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে। মরক্কো থেকে সিউটায় ঢুকে পড়া প্রায় ৫০ হাজার অবৈধবাসীকে ফেরত পাঠানোর পর এই ঘোষণা করেছে স্পেন। এদিকে অনুপ্রবেশের জেরে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisement

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন এই কাঠামো হবে ৫০০ মিটার (১৬০০ ফুট) দীর্ঘ। বিশাল এই ভাসমান বয়া সমুদ্রে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে দুই সীমান্তের মাঝে। জলের নিচেও এক মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে এই ভাসমান প্রাচীর। এর বাইরে স্পেনের নৌসেনার নোঙর করা বয়ার আর একটি সারি বসিয়ে গোটা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে। এর জেরে সমুদ্রপথে অনুপ্রবেশ কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠবে।

Advertisement

নতুন এই কাঠামো হবে ৫০০ মিটার (১৬০০ ফুট) দীর্ঘ। বিশাল এই ভাসমান বয়া সমুদ্রে প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে দুই সীমান্তের মাঝে।

উত্তর আফ্রিকার উপকূলে অবস্থিত সিউটা স্পেনের এক স্বায়ত্তশাসিত শহর। জিব্রাল্টার প্রণালীর মাধ্যমে স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই জনপদটি মরক্কোর সীমান্ত সংলগ্ন। প্রায়ই মরক্কো থেকে সেখানে ঢোকেন অনুপ্রবেশকারীরা। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে হঠাৎই সেই সংখ্যাটা বাড়তে শুরু করেছে দ্রুত। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতি থেকে শুক্রবার সন্ধ্যার মধ্যে ৪৮ হাজার ৩০০ জন অনুপ্রবেশকারী ঢুকে পড়েন সিউটায়। এদিকে সিউটা প্রশাসনের দাবি, সংখ্যাটা দু’দিনে সংখ্যাটা ৬০ হাজারেরও বেশি। এরপর সীমান্তের কাছে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হলে, মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে ভিড়কে পিছু হটতে বাধ্য করে এবং আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে স্পেনীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করা থেকে বিরত রাখে। সংঘর্ষের পর একটি বাস ও সাতটি গাড়ির পোড়া অংশবিশেষ দেখা গিয়েছে সেখানে। পাশাপাশি স্পেনের দিক থেকে সীমান্তের বিভিন্ন অংশে সেনার পরিবহণ থাকায় শয়ে শয়ে অনুপ্রবেশকারী মরক্কোর দিকে আটকা পড়ে যায়। আরও জানা গিয়েছে, বহু অনুপ্রবেশকারীর দাবি, সেউটায় তাঁর কোনও খাবার বা আশ্রয় পাননি। তাই ফিরে যাচ্ছেন।

Advertisement

এদিকে এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ইউরোপ। গোটা ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২০টির বেশি দেশ ইউরোপীয় কমিশনের কাছে চিঠি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীদের জরুরি বৈঠক ডাকার আহ্বান জানায়। জানা যাচ্ছে, যারা অনুপ্রবেশ করেছিলেন তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন কাজের সন্ধানে আসা তরুণ মরক্কোর নাগরিক। সিউতায় আসা ২৪ বছর বয়সি কামাল ওমর বলেন, ২০২৩ সালে গৃহযুদ্ধের কারণে তিনি সুদান ছেড়েছিলেন। গত বছর মরক্কোতে পৌঁছান। বলেন, ‘আমি মরক্কোতে ফিরতে চাই না। দয়া করে আমাদের সুরক্ষা দিন।’

কিন্তু কেন একসঙ্গে এত মানুষের ভিড় জমল সীমান্তে। দাবি করা হচ্ছে, এর নেপথ্যে রয়েছে স্পেনের সুপ্রিম কোর্টের এক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা। রায়ে বলা হয়েছিল, সমুদ্রে আটক হওয়া অভিবাসীরা যদি স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে গিয়ে কোনও বাধা অতিক্রম না করে থাকেন, তবে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত পাঠানো যাবে না। মানব পাচারকারীরা ওই রায়ের ভুল ব্যাখ্যা ছড়িয়েছে। যার জেরেই হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র পেরিয়ে ভিড় জমান সিউটায়।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.