US-India Trade Deal

ভেনেজুয়ালের তেল কিনলেই শুল্ক প্রত্যাহার! ভারত-রুশ বাণিজ্যে কাঁচি চালাতে প্রস্তাব আমেরিকার

ভারত যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমায় তবে তা শুধু তেলে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়বে। এবং এই পদক্ষেপ হয়ে উঠবে ভারতের আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণের সামিল।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১৮:৩৬

options
link
ভেনেজুয়ালের তেল কিনলেই শুল্ক প্রত্যাহার! ভারত-রুশ বাণিজ্যে কাঁচি চালাতে প্রস্তাব আমেরিকার
ভারতকে ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কেনার প্রস্তাব আমেরিকার। ফাইল ছবি

রুশ-ভারত তৈল বাণিজ্যে গাত্রদাহ আমেরিকার। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য নানা অছিলায় দিল্লির উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এবার সেই শুল্ক প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়া হল আমেরিকার তরফে। শুধু তাই নয়, ভারতের সঙ্গে আটকে থাকা বাণিজ্য চুক্তিও (US-India Trade Deal) পাকা হবে, তবে শর্ত হল, রুশ তেলে দাঁড়ি টেনে ভারতকে তেল কিনতে হবে ভেনেজুয়েলার থেকে।

Advertisement

রয়টর্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ভারতকে প্রস্তাব দিয়েছে, সদ্য মার্কিন আগ্রাসনের শিকার হওয়া ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার। অথচ ২০২৫ সালে এই ভেনেজুয়েলার থেকে তেল কেনার জন্য ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিল আমেরিকা। পরে রাশিয়ার থেকে তেল কেনার জন্য আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। সব মিলিয়ে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের কোপ পড়ে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে শুল্কের ঘায়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য তলানিতে গিয়ে ঠেকে। এই অবস্থা বদলাতেই ভারতকে রাশিয়ার তেলের বিকল্প প্রস্তাব দিল আমেরিকা। শুধু প্রস্তাব নয়, জানা যাচ্ছে ভারত মার্কিন প্রস্তাব মেনে নিলে শুল্ক প্রত্যাহারের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য চুক্তিও সম্পন্ন হবে।

Advertisement

আসলে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরকে গ্রেপ্তারের পর সেখানকার বিশাল তৈলভাণ্ডার এখন আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। রুশ তেল কেনার বিষয়ে ভারতের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা পূরণ করতে যেখানে কম দামে তেল পাওয়া যাবে সেখান থেকেই কেনা হবে। এবার সেই বিকল্পই ভারতকে দিতে চলেছে আমেরিকা। এখন ভারত যদি এই প্রস্তাবে রাজি হয় সেক্ষেত্রে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিতে হবে ভারতকে। আমেরিকার দাবি, ভারতের তেল বিক্রির অর্থেই ইউক্রেন যুদ্ধের খরচ জোগাচ্ছেন পুতিন। কূটনৈতিক মহলের দাবি, ভারত যদি রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমায় তবে তা শুধু তেলে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব পড়বে। এবং এই পদক্ষেপ হয়ে উঠবে ভারতের আমেরিকার কাছে আত্মসমর্পণের সামিল।

Advertisement

অবশ্য রয়টর্সের দাবি অনুযায়ী, সে পথে ইতিমধ্যেই হাঁটা শুরু করেছে মোদি সরকার। রাশিয়ার থেকে তেল কেনা কমাতে শুরু করেছে দিল্লি। জানুয়ারি মাসে, প্রতি দিন ১২ লক্ষ ব্যারেল রুশ তেল কেনে নয়াদিল্লি। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে তা কমে হতে পারে ১০ লক্ষ। ধীরে ধীরে মার্চে তা কমে হবে ৮ লক্ষ। ভবিষ্যতে তা ৫-৬ লক্ষ হয়ে উঠতে পারে। যদিও ভারতের সঙ্গে এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.