India-UAE

আচমকাই পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল আরব রাষ্ট্রের, নেপথ্যে মোদির ভারতের কলকাঠি?

প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহানের আচমকা ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের অব্যবহিত পরেই এই সিদ্ধান্ত নিল উপসাগরীয় এই আরব দেশটি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ১৮:১৮

options
link
আচমকাই পাকিস্তানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল আরব রাষ্ট্রের, নেপথ্যে মোদির ভারতের কলকাঠি?
নরেন্দ্র মোদি এবং বিন জায়েদের সাক্ষাতের পরেই বিপাকে পাকিস্তান। ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানের বিমানবন্দরের বেসরকারিকরণ এবং পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত চুক্তি থেকে সরে এলে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহানের আচমকা ভারত সফর এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের অব্যবহিত পরেই এই সিদ্ধান্ত নিল উপসাগরীয় এই আরব দেশটি।

Advertisement

চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি আবু ধাবির চুক্তি বাতিল সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে পাক গণমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে আমিরশাহির সঙ্গে বিমানবন্দরের বেসরকারিকরণ নিয়ে আলোচনা শুরু করে পাকিস্তানে শাহবাজ সরকার। দীর্ঘ আলোচনার পর আমিরশাহিকে সেই দায়িত্ব দিতেও রাজি হয় পাক প্রশাসন। কিন্তু এই প্রকল্পে আবু ধাবি আচমকা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে দাবি পাক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে।

Advertisement

কিন্তু আন্তর্জাতিক রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের একাংশের অনুমান, আমিরশাহির সঙ্গে পাকিস্তানের চুক্তি বাতিলের নেপথ্যে ভারতেরই কলকাঠি রয়েছে। কারণ, চুক্তি বাতিলের ঠিক আগেই সাড়ে তিন ঘণ্টার নয়াদিল্লি সফরে এসেছিলেন বিন জায়েদ। প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে গিয়েছিলেন স্বয়ং মোদি। শুধু তা-ই নয়, দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকের পর একাধিক চুক্তিপত্রে সই করে দু’দেশ। পরে বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রী জানিয়েছেন, কৌশলগত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র, মহাকাশ অভিযান পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, গুজরাতের ঢোলেরা অঞ্চলে বিশেষ বিনিয়োগ নিয়ে চুক্তি সই হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এইচপিসিএল এবং আবু ধাবির তেল সংস্থার মধ্যে কেনাবেচা সংক্রান্ত চুক্তিও সই হয়।

Advertisement

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মত, গোটা বিষয়টির নেপথ্যে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিই জড়িয়ে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সূত্রেই যৌথ ভাবে সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার প্রসঙ্গও উঠে এসেছিল আলোচনায়। মোদি এবং বিন জায়েদ একযোগে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের নিন্দা করেছেন পাকিস্তানের নাম না করে। বিষয়টি ভারতের হাত কিছুটা শক্তিশালী করেছে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। বিদেশ সচিব জানিয়েছেন, দুই নেতা সম্মিলিত ভাবে বলেন, জঙ্গিদের যারা অর্থ যোগাচ্ছে, সমর্থন করছে তাদেরও শাস্তি দিতে হবে।

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মত, গোটা বিষয়টির নেপথ্যে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিই জড়িয়ে। কিছু দিন আগেই ‘কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সেরেছিল পাকিস্তান। যার অর্থ, কোনও একটি দেশ তৃতীয় কোনও শক্তি দ্বারা আক্রান্ত বা আগ্রাসনের শিকার হলে তাকে উভয় দেশের উপর আঘাত বা যুদ্ধ হিসাবে বিবেচনা করা হবে। শুধু তা-ই নয়, রিয়াধ (সৌদি আরব)-কে পরমাণু অস্ত্রের নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাওয়ালপিন্ডির জেনারেলরা। এতে বিপাকে পড়েছিল আমিরশাহির সরকার। কারণ পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে রিয়াধ এবং আবু ধাবির সম্পর্ক মোটেই মসৃণ নয়। তাই এই পরিস্থিতিতে আমিরশাহির কাছে ‘কৌশলগত বন্ধু’ হিসাবে ভারতই যে প্রথম পছন্দ হবে, তাতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। এই যুক্তিতে তাদের পাকিস্তানের দূরত্বও অস্বাভাবিক নয় বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক মহলের একাংশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.