ব্রিকসের মঞ্চ থেকেই ‘ক্ষমতার পিরামিড’ বদলের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ বলে দিয়েছিলেন, এবার বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্ব করা যাবে না। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাব এবার সরাসরি সমর্থন করে দিল খোদ রাষ্ট্রসংঘই (UN on UNSC Reform Demand)। মোদির সুরেই রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনীয় গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিচ বলে দিলেন, “মাননীয় মহাসচিব শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে। আমরাও মনে করি, নিরাপত্তা পরিষদ-সহ অন্যান্য বৈশ্বিক সংস্থার সংস্কার সময়ের দাবি। আর বিলম্ব করা যায় না।”
আরও পড়ুন:
ব্রিকসের মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভ্লাদিমির পুতিন, শি জিনপিংয়ের মতো রাষ্ট্রনেতাদের সাক্ষী রেখে বলেন, “গ্লোবাল সাউথ’-কে দীর্ঘকাল ধরে ‘পিছনের সারিতে’ বসিয়ে রাখা হয়েছে। এবার বিশ্ব শাসন ব্যবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজন। এই ‘ক্ষমতার পিরামিড’কে এমন একটি ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চে’ রূপান্তরিত করতে হবে, যেখানে প্রতিটি জাতির কথা বলার সুযোগ থাকবে, প্রতিটি সদস্যের স্বার্থ থাকবে এবং প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানবতার অগ্রগতি। রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যাবে না।”
প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনীয় গুতেরেসের মুখপাত্র স্টেফান ডুজারিচ সংবাদসংস্থা ANI-কে বলেন, “ভালো করে যদি দেখেন, মাননীয় মহাসচিব দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বলে আসছেন নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের একটি মৌলিক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। রাষ্ট্রসংঘের শান্তি ও নিরাপত্তা কাঠামোর কেন্দ্রবিন্দু এই নিরাপত্তা পরিষদ। বর্তমানে মাত্র পাঁচজন যে স্থায়ী সদস্য রয়েছে, সেটা একুশ শতকের বাস্তবের প্রতিফলন নয়। নিরাপত্তা পরিষদ হোক, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি হোক, কিংবা অন্য যে কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থা, এগুলোর কাঠামোয় ১৯৪৫ সালের পরিবর্তে ২০২৬ সালের বাস্তবতার প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। এই সংস্থাগুলিকে বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। যাতে এটি সত্যিকার অর্থে প্রতিনিধিত্বমূলক এবং আরও অধিক কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।”
এই মুহূর্তে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য দেশ রয়েছে। চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, আমেরিকা এবং ব্রিটেন। এই পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি ভারতকে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদ দেওয়ার দাবি দীর্ঘদিনের। চিন একসময় রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের বিরোধিতা করেছে, সেই চিনের প্রেসিডেন্টকে পাশে নিয়েই শনিবার মোদি নিরাপত্তা পরিষদে সংস্কারের দাবি তোলেন। প্রধানমন্ত্রীর সেই প্রস্তাবকে যেভাবে সরাসরি রাষ্ট্রসংঘ সমর্থন করল, তাতে সদস্য দেশগুলির উপর চাপ যে বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এই কমিটিতে ঠাঁই পেলে দিল্লির হাতে আসবে ভেটো ক্ষমতা। সেক্ষেত্রে চিনের সিদ্ধান্তের উপরেও ‘ছড়ি ঘোরানো’র ক্ষমতা থাকবে নয়াদিল্লির।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
জিমন্যাস্টিক্সে ফাইনালে প্রণতি নায়েক, অব্যবস্থার শিকার, একার লড়াইয়েও চমক বঙ্গকন্যার
-
সাংসদ যেন কৃষক! নিজের বাড়িতে করম পুজোয় মাতলেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো
-
‘বন্ধুত্বে’র প্রতিদান! মুকুন্দপুরে মমতাপন্থীদের ‘আক্রান্ত’ হওয়ার প্রতিবাদ কংগ্রেসের, সুগম জোটের পথ?
-
চৈতন্য ও সুলক্ষণা, ২ হস্তিশাবকের নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কেন এই নাম? জানালেন নিজেই
-
এবিভিপি-টিএমসিপি সংঘর্ষের জের! ১ মাস বন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল! বেরিয়ে গেলেন ছাত্ররা