দিল্লি ঘোষণাপত্রে মুখ পুড়ল পাকিস্তানের! শনিবার ব্রিকস মঞ্চ থেকে একযোগে পহেলগাঁও হামলার নিন্দা করল রাশিয়া-চিন-ইরান। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ফের ইসলামাবাদকে কূটনৈতিক চাপে ফেলল নয়াদিল্লি।
ঘোষণাপত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে, সীমান্ত পেরিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থ সাহায্য, এবং সন্ত্রাসবাদীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করাই এখন ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশগুলির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে সন্ত্রাস দমনের ক্ষেত্রে ‘দ্বিমুখী নীতি’কেও প্রত্যাখ্যান করেছে ব্রিকস। প্রসঙ্গত, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে প্রথম থেকেই দ্বিচারিতার পথে রয়েছে পাকিস্তান। এর মাধ্যমে সেই ইসলামাবাদকেই কড়া বার্তা দেওয়া হল বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।যৌথ বিবৃতিতে ব্রিকস দেশগুলি সাফ জানিয়েছে, যে কোনও রূপেরই হোক না কেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তারা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্রিকস মঞে যুবসমাজের উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চরমপন্থী মনোভাব ও উগ্রবাদের প্রসার নিয়ে দেশগুলি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি, এহেন কর্মকাণ্ড সমূলে উৎপাটিত করারও উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ব্রিকস সদস্যভুক্ত দেশষগুলি পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি এবং যৌথ লড়াইয়েরও বার্তা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল – পাকিস্তানের ‘ঘনিষ্ঠ মিত্র’ হিসাবে পরিচিত চিন। যথারীতি পহেলগাঁও হামলার পর অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন ‘বন্ধু’র পাশেই দাঁড়িয়েছিল বেজিং। শুধু তাই নয়, অস্ত্র-ড্রোন দিয়ে তারা সাহায্যও করেছিল। অন্যদিকে, ইসলামাবাদকে আবার সমর্থন জুগিয়েছিল ইরানও। কিন্তু এদিন ব্রিকস মঞ্চে দাঁড়িয়ে সেই পহেলগাঁও হামলারই নিন্দা করে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল বেজিং-তেহরান।
উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ২৬ নিরস্ত্রকে হত্যা করে লস্করের ছায়া সংগঠন টিআরএফের চার জঙ্গি। এই হামলার জবাবে ৭ মে ভোর-রাতে অপারেশন সিঁদুর শুরু করে ভারত। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি জঙ্গিঘাঁটি। এরপর ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির জনবহুল এলাকা এবং সেনাঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় পাকিস্তান। সেই হামলা প্রতিহত করার পাশাপাশি প্রত্যাঘাত করে ভারত। তাতেই তছনছ হয়ে যায় পাকিস্তানের অন্তত ১১টি বায়ু সেনাঘাঁটি। ভারতীয় সেনার অভিযানে নিহত হয় ১০০ জনের বেশি জঙ্গি ও ৩৫-৪০ জন পাক সেনা। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের আর্জিতে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয় নয়াদিল্লি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দাদের রাডারে মাও শীর্ষনেতা আকাশ! নজরে বাঁকুড়া-পুরুলিয়া হয়ে ঝাড়খণ্ডের জঙ্গলপথও
-
অরুণাচল থেকে লাদাখ! সীমান্ত সংঘাতের আবহে দিল্লিতে মুখোমুখি আলোচনায় মোদি-জিনপিং
-
তৃতীয় টেস্টেও হার, চুনকামের লজ্জা নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে ফিরতে হচ্ছে পাকিস্তানকে
-
জল কমতেই শুরু ব্রিজের রক্ষণাবেক্ষণ, কত দিন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে দুধিয়া সেতু?
-
‘খুব কষ্ট হচ্ছে মা, বাড়ি নিয়ে যাও’, মায়ের কাছে আর্তি বাংলাদেশের মাদ্রাসায় ‘ধর্ষিত’ নাবালকের