Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Bangladesh

‘খুব কষ্ট হচ্ছে মা, বাড়ি নিয়ে যাও’, মায়ের কাছে আর্তি বাংলাদেশের মাদ্রাসায় ‘ধর্ষিত’ নাবালকের

এই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিন ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামানকে আটক করা হয়েছে।

সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৯:০৭

link
সুকুমার সরকার
সুকুমার সরকার

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১৯:০৭

options
link
‘খুব কষ্ট হচ্ছে মা, বাড়ি নিয়ে যাও’, মায়ের কাছে আর্তি বাংলাদেশের মাদ্রাসায় ‘ধর্ষিত’ নাবালকের zoom
Advertisement

ফের বাংলাদেশের মাদ্রাসায় নাবালকদের যৌন হেনস্তার খবর শিরোনামে! এবার টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর মাদ্রাসায় এমনই এক ঘটনা ঘিরে শোরগোল। ওই মাদ্রাসায় নাজেরা বিভাগের ১০ বছর বয়সী এক ছাত্রকে নিয়মিত ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। দিনের পর দিন এই যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে কাতর কণ্ঠে ছেলেটি মাকে জানায়, ‘খুব কষ্ট হচ্ছে মা, আমাকে বাড়ি নিয়ে যাও।’ তাতেই সব জানাজানি হয়। ছেলের কাছে একথা শুনে শুক্রবার পরিবারের লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেছে বলে অভিযোগ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে পুলিশ।

বাংলাদেশে অধিকাংশ মাদ্রাসা আবাসিক। অভিভাবকরা ধর্মীয় পরিবেশে তাদের সন্তানদের মানুষ করতে চান। কিন্তু প্রায় সময়ই দেখা যায় শিক্ষক নামের কলঙ্ক কোমলমতি ছাত্রদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে। অনেক ক্ষেত্রে বলাৎকারের শিকার শিশুটি লাজ লজ্জার কারণে প্রকাশ করে না। তবে অতিষ্ঠ হয়ে কিংবা অসুস্থ হওয়ার পর অনেক সময় তা প্রকাশ পায়। এনিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা হলেও তা রোখা যাচ্ছে না। টাঙ্গাইলের ঘটনায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আল আমিন মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শশধরপট্টি গ্রামের আবদুল মালেক মিয়ার ছেলে। সে প্রায় তিন বছর আগে ওই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিল।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কি ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ওই শিশুকে নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সে মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে থাকত। পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিল শিক্ষক আল আমিন। এতে তার পেটে ব্যথা হয় এবং মলত্যাগের সময় রক্তপাত ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান। তখনও ছেলেটি কিছু জানায়নি।

বাড়িতে থাকার সময় একদিন সকালে শিশুটির দাদু আজিজুর রহমান বাড়ির শৌচালয়ে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি তিনি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয়ে তখনও ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি শিশুটি। পরে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদ্রাসায় রেখে যান তার মা। পরিবারের দাবি, ওই ১১ দিনের মধ্যে আটদিনই তাকে ধর্ষণ করা হয়। তাতে নাবালকের প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে মা তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন। মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ছেলের বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসক নাবালকের শারীরিক অবস্থা দেখে ধর্ষণের বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং তা জানান তার স্বজনদের কাছে। শুক্রবার শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে নিয়ে জনতার উপর হামলার নির্দেশ দেন। এনিয়ে সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

দুর্গাপুজো ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'দেবীপক্ষ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.