ভূ-রাজনীতির মঞ্চে দ্রুত বদলে যাচ্ছে সময় এবং সমীকরণ। শনিবার ব্রিকস সম্মেলন থেকে সে কথাই স্পষ্ট করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল – পারস্পরিক সহযোগিতা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে আরও শক্তিশালী হওয়ার পরামর্শ। পাশাপাশি, ‘অশান্ত’ বিশ্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকেও বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বুঝিয়ে দিলেন, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনও একটি দেশের একচ্ছত্র ‘রাজত্ব’ করার দিন শেষ। কারণ, কূটনীতির পৃথিবীতে এখন তৈরি হচ্ছে শক্তির নয়া ভারসাম্য। মোদির এহেন গর্জনের মাধ্যমেই ‘শক্তিশালী’ ভারত প্রত্যক্ষ করলেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ ব্রিকসও তার পরিপক্কতা অর্জনের এক সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে। গত দুই দশকে বিশ্বমঞ্চে ব্রিকস এক স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছে। আমরা একে অপরের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করি এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এগিয়ে যাই। কাউকে বিরোধিতা করে নয়, বরং সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এখন সময় এসেছে ব্রিকসের মধ্যকার এই ঐক্য ও সর্বসম্মত অবস্থানকে বিশ্বমঞ্চে বাস্তব ও দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দেওয়ার।” ব্রিকস মঞ্চে মোদির দু’পাশে বসে দেখা যায় পুতিন এবং জিনপিংকে। বর্তমান বিশ্বে কূটনীতির মারপ্যাঁচে এই ছবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশ্লেষকদের। মোদির বক্তব্য, “ভারত মানবতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি অনুসরণ করেছে। সহনশীলতা, উদ্ভাবন এবং সহযোগিতার মতো বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি।” অন্যদিকে, ব্রিকস মঞ্চ থেকে ‘তৈল ধমনী’ হরমুজ প্রণালী নিয়েও এদিন বিশেষ বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচলকারী নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি জরুরি সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলারও প্রস্তাব দিয়েছে তিনি।
মার্কিন ডলারের ‘আধিপত্য’ এবং ব্রিকসের সদস্য দেশগুলির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকী ব্রিকস দেশগুলি ডলারের বিকল্প খুঁজলে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে মোদির বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মত বিশ্লেষকদের। এদিন সম্মেলনের শুরুতেই জিনপিং-পুতিনের সঙ্গে হাতে হাত মেলান মোদি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, ভারত তার নিজের কৌশলগত অংশীদার বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বাধীন। এছাড়া ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মাঝেই ব্রিকস মঞ্চে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের উপর নির্ভরতা কমিয়ে সদস্য দেশগুলির নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ডিমভাত নিয়ে ঝগড়াতেই বাবা-মা’কে ‘খুন’ ছেলের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিনারা পুলিশের
-
বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে চিনা সাইবার অপরাধীরা! টার্গেট ভারতীয়রা? কড়া নজর গোয়েন্দাদের
-
ধরনার আগে থানার সামনে ছড়ানো গোবর! একাই শক্তিপুর থানা চত্বরে বসে পড়লেন হুমায়ুন
-
ভূমিধসের আতঙ্ক পেরিয়ে খুলে গেল সিকিমের গুরুদংমার লেক, ঘুরে আসুন পুজোর ছুটিতে
-
টেলিভিশনকে ‘ডাস্টবিন মিডিয়াম’ কটাক্ষ রোহিতের, দেবলীনার খোঁচা, ‘রনিত রায়ের ভাই একমাত্র পরিচয়’