বিশ্ব শাসনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে শুল্ক। তারপরই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। মার্কিন বশ্যতা স্বীকার না করলে যে কোনও দেশের উপর ব্যবহৃত হচ্ছে সেই অস্ত্র। চাপে ফেলে দেওয়া হচ্ছে যে কোনও দেশের অর্থনীতি। আমেরিকার এই দাদাগিরি রুখতে এবার বিকল্প রাস্তা খুঁজে নিল ব্রিকস। ডলার নির্ভর বাণিজ্যের পরিবর্তে ‘দিল্লি ঘোষণা’য় উঠে এল আঞ্চলিক মুদ্রায় বাণিজ্যের বিষয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ব্রিকসের দেশগুলি নিজ নিজ মুদ্রায় একে অপরের সঙ্গে বাণিজ্য করবে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপ সরাসরি ‘ডি-ডলারাইজেশন’ না হলেও, ডলারের কফিনে প্রথম পেরেক।
ব্রিকস সম্মেলনে আলোচনার দ্বিতীয় দিনে ব্রিকস পেমেন্ট টাস্ক ফোর্স (BPTF)-কে দ্রুত, সস্তা এবং নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত লেনদেন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সদস্য দেশগুলির মধ্যে নিজ নিজ দেশের মুদ্রায় বাণিজ্য এবং নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেম- যেমন ভারতের ইউপিআই, চিনের e-CNY, রাশিয়ার ডিজিটাল রুবেলকে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আলোচনায় রাশিয়া ও ইরান সরাসরি ডলার বর্জনের পক্ষে সওয়াল করলেও, ভারতের অবস্থান ছিল, আমরা ডলারের বিরুদ্ধে নই, আমরা শুধুমাত্র বিকল্প তৈরি করছি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পদক্ষেপও আমেরিকার ঘুম ছুটিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কারণ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে একচেটিয়া আধিপত্য রয়েছে মার্কিন ডলারের। যখনই কোনও দেশ ডলারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে তখনই নেমে এসেছে মার্কিন খাঁড়া। স্বাভাবিকভাবেই ব্রিকসের এই পদক্ষেপ আমেরিকার চিন্তা বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
আলোচনায় রাশিয়া ও ইরান সরাসরি ডলার বর্জনের পক্ষে সওয়াল করলেও, ভারতের অবস্থান ছিল, আমরা ডলারের বিরুদ্ধে নই, আমরা শুধুমাত্র বিকল্প তৈরি করছি।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, নিজ নিজ মুদ্রায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য হলে ভীষণরকমভাবে উপকৃত হবে ভারত-সহ অন্যান্য দেশ। এর ফলে লেনদেনের খরচ কমবে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় টাকার ভূমিকা বাড়বে। দ্রুত লেনদেন ব্যবস্থা (Fast Payment System) এবং সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক ডিজিটাল কারেন্সি (CBDC) -র মধ্যে সংযোগ স্থাপন করলে আন্তঃসীমান্ত লেনদেন আরও দ্রুত, সস্তা এবং সুরক্ষিত হবে। মুদ্রার ওঠানামার সমস্যা থেকে ব্যবসায়ীরা রেহাই পাবেন। সর্বোপরি ডলারের আধিপত্য অনেকখানি কমবে।

উল্লেখ্য, গত বছর ব্রিকস সম্মেলনের পর ডি-ডলারাইজেশনের লক্ষ্যে কথা উঠেছিল ব্রিকস মুদ্রা চালুর বিষয়টি সামনে আসে। যার জেরে নড়েচড়ে বসে আমেরিকা। যদিও ভারত-সহ বেশ কয়েকটি দেশ জানায় ব্রিকস মুদ্রা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ভারতে আয়োজিত ব্রিকসে কোনও অভিন্ন মুদ্রার কথা বলা হয়নি বা সরাসরি বদলানোর ডাকও দেওয়া হয়নি। সূত্রের খবর, ভারতের আপত্তির জেরেই সতর্ক থেকেছে বাকি দেশগুলি।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
স্বমেজাজে কিম! মার্কিন সামরিক মহড়ার পরই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল পিয়ংইয়ং, রেগে আগুন দক্ষিণ কোরিয়া
-
পশ্চিম সিকিমে ফের ভূমিধস, অবরুদ্ধ রিম্বি-খেচুপরি সড়ক, আতঙ্কে স্থানীয়রা
-
২০ বছরের সশস্ত্র সংগ্রামে ইতি! স্বামী মদনের ডাকে বাংলায় আত্মসমর্পণের পথে মাওবাদী জবাও
-
‘পালালেও লুকোতে পারবে না’, কাশ্মীরে সেনা অভিযানে খতম জইশ জঙ্গি, উদ্ধার অত্যাধুনিক M4 রাইফেল
-
প্রদীপকে সরিয়ে মিতা! জেলা সভাপতি বদল হতেই অশান্তির ‘কালো মেঘ’ প্রদেশ কংগ্রেসে