ব্রিকস সামিটের দ্বিতীয় দিনে ভারতে উপস্থিত বিশ্ব নেতৃত্বকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর বার্তায় উঠে এল, ‘ব্রিকসে’র সংস্কারের রোড ম্যাপ। একইসঙ্গে ‘গ্লোবাল সাউথে’র অগ্রগতির পক্ষে সওয়াল করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানালেন, গ্লোবাল সাউথকে নেতৃত্ব দিতে তৈরি ভারত। তাঁর মতে, ‘আজ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি বিশ্ব সংকটের সম্মুখে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের এই সুবিধাভোগী পিরামিড ব্যবস্থাকে ভেঙে অংশীদারিত্বের মঞ্চে রূপান্তরিত করতে হবে। যেখানে কারও উপর নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হবে না। সকলে মিলে নিয়ম তৈরি করবে।’
এদিন মোদি বলেন, ”গ্লোবাল সাউথ বৈশ্বিক সংস্থাগুলির প্রথম সারিতে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছনের সারিতেই থেকে যায়। আমাদের অবশ্যই এই ‘ক্ষমতার পিরামিড’কে এমন একটি ‘অংশীদারিত্বের মঞ্চে’ রূপান্তরিত করতে হবে, যেখানে প্রতিটি জাতির কথা বলার সুযোগ থাকবে, প্রতিটি সদস্যের স্বার্থ থাকবে এবং প্রতিটি প্রচেষ্টার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে মানবতার অগ্রগতি। এই লক্ষ্যে, তিনি বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা সংস্কারের জন্য ১০টি পরামর্শ তৈরি এবং পরবর্তী ব্রিকস সম্মেলনের মধ্যে সেগুলিকে বাস্তবায়িত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন:
মোদির মতে, ‘আজ গ্লোবাল সাউথের দেশগুলি বিশ্ব সংকটের সম্মুখে থাকলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে। আমাদের এই সুবিধাভোগী পিরামিড ব্যবস্থাকে ভেঙে অংশীদারিত্বের মঞ্চে রূপান্তরিত করতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই রোডম্যাপ তৈরির সময় তিনটি বিষয় সর্বাগ্রে রাখতে হবে, তা হল, প্রতিনিধিত্ব, জবাবদিহি এবং নীতি প্রণয়ন। এই প্রতিনিধিত্ব প্রসঙ্গে রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার আর বিলম্বিত করা যাবে না। এখানে আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং সুস্পষ্ট ফলাফল থাকা উচিত। বিশ্ব অর্থনীতিকে চালিত করে এমন দেশগুলোরও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে ন্যায্য বক্তব্য রাখার সুযোগ থাকা উচিত। পাশাপাশি ব্রিকসের ধারাবাহিকতা ও সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন। যা হল প্রতিবছর সভাপতি পরিবর্তন হলেও ব্রিকসের কার্যক্রমে যেন ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য একটি ‘ত্রয়ী’ ব্যবস্থার পরামর্শ দিয়েছেন। যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সমস্যসীমা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে নথিভুক্ত করার ডিজিটাল ভাণ্ডার তৈরির প্রস্তাব দেন।
বিশ্ববাণিজ্যের গতি যাতে রুদ্ধ না হয় সেই লক্ষ্যে সমুদ্রে নাবিকদের নিরাপত্তার পক্ষে সওয়াল করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। সর্বোপরি এই সম্মেলনে গ্লোবাল সাউথকে সামনে তুলে আনার লক্ষ্যে মোদির বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। উল্লেখ্য, গ্লোবাল সাউথ হল সেইসব দেশ সেগুলি উন্নয়নশীল, কম উন্নত বা অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে। উদাহরণস্বরূপ, ভারত ও চিনের মতো দেশ সম্পূর্ণভাবে উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত হলেও তারা গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত। এশিয়া, আফ্রিকা, ল্যাটিন আমেরিকা এবং ওশিয়ানিয়ার অধিকাংশ দেশ গ্লোবাল সাউথের অন্তর্ভুক্ত।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ডিমভাত নিয়ে ঝগড়াতেই বাবা-মা’কে ‘খুন’ ছেলের, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কিনারা পুলিশের
-
বাংলাদেশে ঘাঁটি গেড়ে চিনা সাইবার অপরাধীরা! টার্গেট ভারতীয়রা? কড়া নজর গোয়েন্দাদের
-
ধরনার আগে থানার সামনে ছড়ানো গোবর! একাই শক্তিপুর থানা চত্বরে বসে পড়লেন হুমায়ুন
-
ভূমিধসের আতঙ্ক পেরিয়ে খুলে গেল সিকিমের গুরুদংমার লেক, ঘুরে আসুন পুজোর ছুটিতে
-
টেলিভিশনকে ‘ডাস্টবিন মিডিয়াম’ কটাক্ষ রোহিতের, দেবলীনার খোঁচা, ‘রনিত রায়ের ভাই একমাত্র পরিচয়’