US-Iran MoU

হরমুজই সমস্যা! ইরান-আমেরিকার ৬০ দিনের শান্তিচুক্তি বাতিল, এবার কী হবে?

হরমুজ জট কাটেনি, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার নিয়েছে। এই ডামাডোলের মাঝেই গত সোমবার শেষ হল দুই দেশের শান্তিচুক্তি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১৪:০১

options
link
হরমুজই সমস্যা! ইরান-আমেরিকার ৬০ দিনের শান্তিচুক্তি বাতিল, এবার কী হবে?
ইরান-আমেরিকার ৬০ দিনের শান্তিচুক্তির মেয়াদ শেষ।

হরমুজ জট কাটেনি, বরং আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা চরম আকার নিয়েছে। এই ডামাডোলের মাঝেই গত সোমবার শেষ হল দুই দেশের শান্তিচুক্তি। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ ছিল ৬০ দিন। তবে বাস্তবে সে চুক্তি কোনও কাজে আসেনি বলেই মনে করা হচ্ছে। বরং চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র আকার নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisement

ইরান ও আমেরিকার মধ্যে হওয়া ৬০ দিনের এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধে দাঁড়ি টানা। চুক্তির মূল শর্ত ছিল, উভয় পক্ষ লেবানন-সহ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ করবে। ৩০ দিনের মধ্যে আমেরিকা হরমুজে তাদের অবরোধ তুলে নেবে। পাশাপাশি প্রস্তাব ছিল ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে ছাড়, বিদেশে থাকা সম্পত্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যদিকে আমেরিকার তরফে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালী থেকে মাইন সরাতে হবে ইরানকে, ৬০ দিনের জন্য জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা করে দিতে হবে। এবং ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করবে না।

Advertisement

প্রস্তাব ছিল ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, তেল রপ্তানিতে ছাড়, বিদেশে থাকা সম্পত্তির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।

সবকিছু ঠিকঠাক এগোলেও চুক্তিতে মূল সমস্যার কারণ হয়ে ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ। হরমুজ দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য এবং ভবিষ্যতের রূপরেখা তৈরি করতে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনার কথা বলা হয়। সেখান থেকেই সমস্যার সূত্রপাত। দুই দেশই নিজের উপকূল দিয়ে জাহাজ যাওয়ার মানচিত্র প্রকাশ করে। এখানেই বাঁধে সমস্যা ওমানের পথ দিয়ে যাওয়া একাধিক জাহাজকে নিশানা করে ইরান। পালটা হামলা শুরু করে আমেরিকা। যদিও সম্প্রতি ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, নৌপথ নিয়ে দুই দেশ সমঝোতায় পৌঁছেছে।

Advertisement

চুক্তির দ্বিতীয় সমস্যা হয়ে ওঠে লেবানন। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই লেবাননে হামলা শুরু করে ইজরায়েল। দাবি করা হয়, তেল আভিভ জানায়, এই চুক্তির আওতায় নেই। এই ডামাডোলেই শিকেয় ওঠে শান্তি সমঝোতা। এই ৬০ দিনের মধ্যে দুই দেশ একে অপরের উপর একাধিকবার হামলা চালিয়েছে। ইরানের তরফে বলা হয়েছে, আমেরিকার সেনাকে হত্যা করলে ২৮ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। হত্যাকারী মহিলা হলে পুরস্কার হবে দ্বিগুণ। সবমিলিয়ে সংঘাতের আবহেই আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হল আমেরিকা-ইরান শান্তিচুক্তি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.