সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নৈরাজ্যের বাংলাদেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে ‘বিপ্লবী’ ছাত্র-জনতা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের স্মৃতি বিজরিত ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে তারা। দিকে দিকে ভাঙা হচ্ছে মুজিবের মূর্তি। পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে শেখ হাসিনার সম্পত্তি। দেশজুড়ে আওয়ামি লিগের নেতা-কর্মীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করছে উন্মত্ত জনতা। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার মুখ খুললেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস। হাসিনার সম্পত্তি ধ্বংস না করার আবেদন জানিয়েও ফের দুষলেন দিল্লিকে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) থেকে বাংলাদেশে তাণ্ডব চালাচ্ছে হাসিনা বিরোধীরা। জনতাকে শান্ত থাকার আর্জি জানিয়ে একের পর এক বিবৃতি দিচ্ছে ইউনুস সরকার। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুখের কথাই সার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এখনও সেভাবে কোনও পদক্ষেপই করেননি প্রধান উপদেষ্টা ইউনুস। জারি রয়েছে চরম অরাজকতা। তবে গতকাল শুক্রবার ফের একবার বিবৃতি দেন ইউনুস। শান্ত হওয়ার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, “অবিলম্বে দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশের সব নাগরিককে দায়িত্বশীল হতে হবে। শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ধ্বংস থেকে বিরত থাকুন। ফ্যাসিবাদী আওয়ামি লিগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হওয়ায় কিংবা অন্য কোনও অজুহাতে দেশের কোনও নাগরিকের উপর আক্রমণ করবেন না।”
কিন্তু এই বিবৃতিতেও সব কিছুর জন্য ফের একবার হাসিনা ও দিল্লিকেই দোষ দেন ইউনুস। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা বছরের পর বছর জনগণের ওপর অত্যাচার ও নিপীড়ন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। সংগত কারণেই এটি স্পষ্ট যে বিক্ষোভকারী ও তাঁদের আত্মীয়স্বজনরা বছরের পর বছর ধরে শেখ হাসিনার নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, ফলে তাঁদের মনে ক্ষোভ রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নিয়েও তাঁর দলীয় সন্ত্রাসীদের একত্র করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, দেশের পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করতে চাইছেন। বাংলাদেশে নিপীড়নের শাসন কায়েম করা শেখ হাসিনা এখনও বাংলাদেশের পুনর্নির্মাণকে ক্রমাগত বাধাগ্রস্ত করতে চাইছেন।” বিশ্লেষকদের মতে, হাসিনার সম্পত্তি রক্ষার নামে বিবৃতি দিয়ে প্রহসনই করলেন ইউনুস।
বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে ইউনুসকে ‘বেইমান’ বলে সম্বোধন করেন মুজিবকন্যা। ৫৮ মিনিটের ভারচুয়াল বক্তব্যে তিনি বলেন, “লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে আমরা যে সংবিধান, স্বাধীনতা, পতাকা পেয়েছি — তা কয়েকজন বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে না। এই শক্তি তাদের এখনও হয়নি। এটা তো দুর্বলতার প্রকাশ। তারা দালান ভাঙতে পারে, কিন্তু ইতিহাসকে ধ্বংস করতে পারে না। ইতিহাস যে প্রতিশোধ নেয়। এ কথা তাদের মনে রাখতে হবে। যাঁরা এ সব করছেন, তাঁরা হীন মনের পরিচয় দিচ্ছেন। তাঁদের হয়তো বাংলাদেশের স্বাধীনতাও পছন্দ নয়। পাকিস্তানিদের অধীনে থাকা এবং পদলেহন করাটাই হয়তো তাঁদের পছন্দ। ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়ি থেকে জাতির পিতা স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার পর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গিয়েছিল। আমার মা অনেক কষ্ট করে এই বাড়িটির প্রতিটি ইট নিজের হাতে গেঁথেছিলেন।” হাসিনার এই মন্তব্যের পরই ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইউনুস সরকার। পাশাপাশি হাসিনাকে ‘উসকানিমূলক’ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলার বার্তা দিয়ে দিল্লিকে বিবৃতিও দেয় বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রক।
সর্বশেষ খবর
-
এআই পৃথিবীতে সেকেলে শিক্ষানীতি বদলে ফেলছে চিন, কোথায় দাঁড়িয়ে ভারত?
-
কেন বলেছিলেন, ‘স্যাটা গরম করে দেব’? উত্তর দিলেন শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় নিজেই
-
তারেক জমানাতেও বদলাল না ছবি! গোপালগঞ্জে মুজিবের ম্যুরালে কালি, বিক্ষোভে ছাত্রলিগ
-
পঙ্কজ রায়ের পুত্রকে নিয়ে কুরুচিকর পোস্ট সিএবি কর্মীর, পালটা ১০০ কোটির মানহানি মামলা প্রণবের
-
বুলডোজারের ভয়! রাতারাতি বারাসতের তৃণমূল কার্যালয় থেকে সরে গেল নামফলক