Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ঢাকাকে সহযোগিতার আশ্বাস নয়াদিল্লির

শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে জানালেন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৬:৩৪

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৬:৩৪

options
link
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ঢাকাকে সহযোগিতার আশ্বাস নয়াদিল্লির zoom
Advertisement

সুকুমার সরকার, ঢাকা: রোহিঙ্গা ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই সরগরম আন্তর্জাতিক রাজনীতি। বাংলাদেশ, ভারত, মায়ানমার-সহ একাধিক দেশ জড়িয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে। এমনকী উত্তাল হয়েছে রাষ্ট্রসংঘও। তবে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও মায়ানমারের নয়া চুক্তি রোহিঙ্গা সমস্যা মেটানোর দিকে নতুন আশার আলো জাগিয়েছে। আর এবার মায়ানমার থেকে প্রাণভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফেরত পাঠাতে সবরকম সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে ভারত। এ কথা জানিয়েছেন খোদ বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি।

[কলকাতায় লুকিয়ে আরও তিন জঙ্গি, ধৃতদের জেরায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য]

শনিবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে ঢাকায় বিদেশমন্ত্রকের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানেই বিদেশমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলি বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মায়ানমারের ইচ্ছা অনুযায়ী ৯২-এর চুক্তির অনুসরণেই এবারের চুক্তিটি হয়েছে। সেই চুক্তি অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবর এবং এ বছরের ২৫ আগষ্টের পর যেসমস্ত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেছে, মায়ানমার শুধু তাদেরই ফিরিয়ে নেবে। রাখাইনে থাকার ব্যবস্থা হলেই রোহিঙ্গারা চলে যাবে। বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যার্পণে একদম ঠিক সময়ে বাংলাদেশ ও মায়ানমার সম্মত হয়েছে। তাঁদের ফেরানোর বিষয়টি নিয়েই গত বৃহস্পতিবার মায়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চির সঙ্গে তাঁর দপ্তরে বৈঠকও হয়। তারপরই দু’দেশের মধ্যে ওই সমঝোতা চুক্তিতে সই হয়েছে। কবে নাগাদ পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কবে শেষ হবে চুক্তিতে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনও তারিখের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

Advertisement

[হনুমান ধরার দাবিতে পথ অবরোধ, ঘুম ছুটেছে বন দপ্তরের]

তবে জানা গিয়েছে, মায়ানমার রোহিঙ্গাদের যাচাই করার পরই ফেরত নেবে। বিদেশমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া দুই মাসের মধ্যে শুরু হবে। কিন্তু তারা কোথায় যাবে, রাখাইনে বাড়িঘর নেই। গিয়ে কোথায় থাকবে? এখনই তাই এটা সম্ভব না। সময় লাগবে। এর পাশাপাশি তিনি জানালেন গোটা বিশ্ব বাংলাদেশের সঙ্গেই রয়েছে। ভারত এবং চিনও সহযোগিতা করতে রাজি আছে। রোহিঙ্গারা রাখাইনে ফিরে গিয়ে তাদের নিজেদের বাড়িতে নয়, অস্থায়ী আশ্রয়স্থলে সীমিত সময়ের জন্য থাকবে বলেও জানান মন্ত্রী। রাখাইনে রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর পুড়ে গেছে। সে জন্য সেখানে তাদের নতুন ঘরবাড়ি তৈরি করতে চিন ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনা হয়েছে। রাখাইনে বাড়িঘর নির্মাণের বিষয়ে এই দুই দেশ মায়ানমারের সঙ্গেও আলোচনা করবে। এরপরই চুক্তি নিয়ে তিনি মুখ খোলেন। বলেন, ”এবারের পরিস্থিতি ৯২-এর চেয়ে আলাদা।” তবে কেন ৯২-এর চুক্তি কেন অনুসরণ করা হল? সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ”মায়ানমার ওই চুক্তি অনুসরণ করতে চায় বলে সেভাবেই করা হয়েছে। চুক্তির খুঁটিনাটি, ত্রুটি-বিচ্যুতি, কী কী নেই, কী হবে-এসব কথা বলে তো কোনো লাভ নেই। গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো, রোহিঙ্গাদের তাঁরা ফেরত নিতে চেয়েছেন।” এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ উপেক্ষিত হয়েছে-এমন বিতর্কের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যে চুক্তিটি হয়েছে, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।

[গোল রুটি বানানোর চেষ্টা ছোট্ট জিবার, হইচই নেটদুনিয়ায়]

এদিকে, নয়া এই চুক্তি নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন(ইইউ) বলেছে, রোহিঙ্গাদের মানবিক সংকট কাটাতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ইইউ’র পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মোঘেরিনি এক বিবৃতিতে মউ স্বাক্ষরে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, অবিলম্বে এই চুক্তির বাস্তবায়ন করতে হবে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যার্পণের জন্য মায়ানমারকে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। যদিও রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসংঘ-সহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা। রাষ্ট্রসংঘের মতে, রাখাইনের পরিস্থিতি এখনও এতটা নিরাপদ হয়নি যে সেখানে রোহিঙ্গারা ফিরে গিয়ে বাস করতে পারে। রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক কোনও সংস্থাকে পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে তাদের পক্ষ থেকে।

[জঙ্গি মেজর জিয়া ও মজিদকে গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.