Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৭ জুন ২০২৬

মনোতোষের দুই স্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার ৮০ রাউন্ড বুলেট

বাংলাদেশের আনসার বাংলা টিমের মাথা মেজর জিয়ার নির্দেশেই আসত বিস্ফোরক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৪:৪৮

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯, ১৪:৪৮

options
link
মনোতোষের দুই স্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার ৮০ রাউন্ড বুলেট zoom

অর্ণব আইচ: হামলার প্রথম ধাপ। সেই ধাপে পা রাখতেই বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের নমুনা সংগ্রহ করেছিল আল কায়দা। কোন অস্ত্র ব্যবহার করা সহজ হবে, কীভাবে সেগুলি সহজে সংগ্রহ করা যাবে, সেই সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেছিল বাংলাদেশের আল কায়দা তথা আনসার বাংলা টিমের (এবিটি) মাথা মেজর জিয়া। জিয়ার নির্দেশে বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি সংগঠনের এক নির্দেশক বা ‘মাসুল’ এজেন্ট মারফত মনোতোষ দে ওরফে জিয়ারুলকে বার্তা পাঠিয়েছিল বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও বুলেট জোগাড় করতে। সেই কাজেই নেমে পড়েছিল মনোতোষ। গোয়েন্দাদের সন্দেহ, এই অস্ত্র ও বুলেটের একটি অংশ পাচার করার লক্ষ্য বাংলাদেশ। কিন্তু তারা কলকাতা বা তার আশপাশের কোথাও হামলা চালাত, এমন সম্ভাবনা পুলিশ উড়িয়ে দিচ্ছে না। আবার তহবিল সংগ্রহের জন্য বহু জঙ্গি সংগঠন ব্যাঙ্ক ডাকাতি করে। ফলে আল কায়দা তথা এবিটির সদস্যরা পরে ব্যাঙ্ক ডাকাতির জন্য এই অস্ত্রগুলি জোগাড় করছিল, এমন সম্ভাবনাও রয়েছে।

[জঙ্গি মেজর জিয়া ও মজিদকে গ্রেপ্তারে তল্লাশি চালাচ্ছেন গোয়েন্দারা]

শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের মৈত্রবাগান ও রঘুনাথপুরে মনোতোষ তথা জিয়ারুলের দুই স্ত্রীর ভাড়া বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৮০ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করেন লালবাজারের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)-এর আধিকারিকরা। এক পুলিশকর্তা জানান, সাধারণত অস্ত্র পাচারকারীরা একসঙ্গে অনেকটা বুলেট ও অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখে। কিন্তু একসঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বুলেট উদ্ধার হওয়ার কারণটা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, মনোতোষকে বিভিন্ন ধরনের বুলেটের নমুনাই সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। তাই তার দুই স্ত্রীর আলমারির গোপন কুঠুরি থেকে উদ্ধার হয় একটি ওয়ান শটার, নাইন এমএম পিস্তলের গুলিভর্তি ডুয়েল ম্যাগাজিন, দু’টি প্যাকেটে মোট ৫০ রাউন্ড ১২ গজ বুলেট, আলাদা একাধিক প্যাকেটে .৩০৩ বুলেট, দশ রাউন্ড ৯ মিমি বুলেট, ১১ রাউন্ড .২২ ডিলাক্স বুলেট, তিন রাউন্ড ৮ এমএম ও ১১ রাউন্ড ৭.৬৫ এমএম বুলেট। সাধারণত অস্ত্র পাচারকারীরা সংগ্রহ করে ৯ মিমি, ৭.৬৫ মিমি বুলেট। যারা ওয়ান শটার বা পাইপগান ব্যবহার করে, তাদের কাছে .৩০৩ বুলেটের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু .২২ ও ৮ মিমি বুলেট সাধারণত বিশেষ ‘অর্ডার’ ছাড়া সংগ্রহ করে না পাচারকারীরা। .২২ বুলেট নিশানা অভ্যাসের জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই বুলেট মাথা বা ঘাড়ের কাছে লাগলে কারও মৃত্যু হতে পারে। আবার ৮ এমএম বুলেট বেশ কিছু বিদেশি পিস্তলে ব্যবহার করা হয়। ৭.৬২ মিমি বুলেটের পিস্তল ছোট বলে তা ব্যবহার করাও সহজ।

Advertisement

[অপরাধ জগতের কেউকেটাদের টেক্কা দেবে ‘বহুরূপী’ মনোতোষ]

গোয়েন্দারা জেনেছেন, এই অস্ত্রগুলি বিহারের মুঙ্গেরে তৈরি হলেও তার বুলেট সেখানকার অস্ত্র কারখানায় তৈরি করা সহজ নয়। এই বুলেট মায়ানমারের সীমান্ত পেরিয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের জঙ্গিদের হাত ধরে আসে মুঙ্গেরে। যদিও মনোতোষ জানিয়েছে, সে বুলেট ও অস্ত্র তার এজেন্টের মাধ্যমে পেয়েছে। সেই এজেন্ট অস্ত্রগুলি কীভাবে জোগাড় করেছে, গোয়েন্দারা তা জানার চেষ্টা করছেন। মনোতোষের কাছ থেকে ওই এজেন্টের মোবাইল নম্বর মিলেছে। সেই সূত্র ধরে ওই এজেন্টকে ধরার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[স্টেশনকে কাজে লাগাতেই হাওড়ায় ডেরা বানায় আল কায়দা জঙ্গিরা]

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.