Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ১২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • রবিবার
  • ৩০ আগস্ট ২০২৬

লাগামছাড়া যৌনাচার-ব্ল্যাকমেল করে ধৃত ‘সুলতান অফ সেক্স’

কলিকালের কামদেব!

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১৮:২০

link
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ৫, ২০১৯, ১৮:২০

options
link
লাগামছাড়া যৌনাচার-ব্ল্যাকমেল করে ধৃত ‘সুলতান অফ সেক্স’ zoom
Advertisement

মৈনাক মণ্ডল: কলিকালের কামদেব তিনি। বিচরণভূমি বাংলাদেশের ঢাকা। নিজেকে দাবি করেন ‘সুলতান অফ সেক্স’ নামে। মহিলাদের প্রলুব্ধ করে বশে আনা এবং তাদের সঙ্গে অবাধ সঙ্গমে মেতে ওঠা তাঁর বাঁয়ে হাত কা খেল। খুব সাফল্যের সঙ্গে সেই কাজ করে আসছিলেন তিনি। কিন্তু বিছানার সেই সব সঙ্গীদের ব্ল্যাকমেল করে টাকাপয়সা আদায় করা শুরু করতেই ধরা পড়ে যান। কোনও এক শয্যাসঙ্গিনী ক্রুদ্ধ হন সুলতান অফ সেক্সের উপর। পুলিশে অভিযোগ দায়ের করতেই কাজে নেমে পড়েন গোয়েন্দারা। চলে নজরদারি। তারপর পুলিশের জালে তিনি।

আসল নাম ফুয়াদ বিন সুলতান। বয়স মধ্য তিরিশ। জিম করা পেশিবহুল চেহারা। বুদ্ধিদীপ্ত চোখ। গায়ের রং তামাটে। মুখের মধ্যে একটা নৃশংসতার ছাপ। তাকে আরও আকর্ষণীয় করেছে হালকা ফ্রেঞ্চ কাট। চোখে স্টাইলিশ ফ্রেমের চশমা। প্রিয় পোশাক সাদা ফুল শার্ট আর ডেনিম। ফেসবুকেই রয়েছেন তিনি ফুয়াদ বিন সুলতান নামে। প্রোফাইলে ঢুকে একটু স্ক্রল করে নিচে নামুন, সেখানেই দেখা যাবে তাঁকে এই চেহারায়। তবে প্রোফাইল পিকচারটি রয়েছে বিখ্যাত হলিউডি নায়ক রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের সানগ্লাস পরা একটি মুখ। আসলে রবার্ট ডাউনিকেই নকল করে নিজের নানা ছবি পোস্ট করতেন সুলতান অফ সেক্স। ফেসবুক বলছে, টিভিএস অ্যাপাচে বাইকে নীল হেলমেটের এই সওয়ারি এখন বাংলাদেশ জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। কারণ তিনি টিভি ক্যামেরার সামনে, পুলিশের কাছে বুক ঠুকে কবুল করেছেন যে তিনি একজন মেল এসকর্ট। মেয়েদের যৌন তৃপ্তি দেওয়াই তাঁর কাজ।

Advertisement

[এবার ভারতীয় সেনার উপর হামলা চালিয়ে ডোকলামের দখল পেতে চায় চিন!]

বাঙালি, পাঠান, অবাঙালি ‘এলিট’ মহিলারা যাঁদের অধিকাংশই গৃহবধূ, তাঁরাই ছিলেন সুলতান অফ সেক্সের বিশ্বস্ত খরিদ্দার। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁদের চরম তৃপ্তি দিতে চেষ্টার কোনও কসুর করতেন না এই ‘বাবুমশাই বন্দুকবাজ’। বন্দুকবাজ, কারণ তিনি সঙ্গে রাখতেন লাইসেন্সবিহীন দেশি পিস্তল। তাঁর ঘরে তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ যা উদ্ধার করেছে তাতে চোখ কপালে উঠবে। নানা বয়সের মহিলাদের সঙ্গে তাঁর অবাধ যৌনাচারের ভিডিও ক্লিপিংস, প্রচুর গর্ভনিরোধক ওষুধ, পর্নোগ্রাফির ভিডিও, কয়েক বাক্স কন্ডোম, নিষিদ্ধ বই, নিজের পর্নোগ্রাফি। সঙ্গে মেথামফেটামিন, পেনিগ্রা জাতীয় মারাত্মক যৌন উত্তেজক ওষুধ। শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ও বেশিক্ষণ সঙ্গম চালানোর জন্য এগুলি নিয়মিত ব্যবহার করতেন তিনি। কখনও গোপন ক্যামেরায়, কখনও বা নিছক খেলার ছলে সহবাসের সময় তুলে রাখতেন সঙ্গমের ভিডিও। তারপর বড়লোক ক্লায়েন্টদের করতেন ব্ল্যাকমেলিং। উপরি উপার্জনের আশায় পসারটা মন্দ হয়নি। কিন্তু বিধি থুড়ি কামদেব হলেন বাম। পুলিশের উপর মহলে ঘনিষ্ঠতা ছিল সুলতানের এক সুন্দরী ক্লায়েন্টের। নিজের নাম গোপন রাখার অনুরোধে তিনি পুলিশের কাছে সব পর্দা ফাঁস করলেন। খেল খতম হল সুলতানের। ফাঁস হল, কমপক্ষে ১৫০ জন নানা বয়সি মহিলাকে যৌনসুখ দিয়েছেন সুলতান।

পুলিশের মুখপাত্র ইশতিয়াক আহমেদ জানিয়েছেন, অতৃপ্ত গৃহবধূদের তৃপ্তি দিতেন সুলতান ওরফে ফুয়াদ। তিনি নাকি ঠিক করেছিলেন, অনেক হয়েছে। ব্যভিচারে তিনি ক্লান্ত। এবার বিয়ে করবেন। তাই যৌনসঙ্গীদের মধ্যে থেকে জুটিয়েছিলেন এক সুন্দরী গার্লফ্রেন্ডও। কিন্তু সুখ সইল না কপালে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের দাবি, সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় পেশায় বিল্ডার-প্রোমোটার সুলতান যে একজন মেল এসকর্ট এবং পেশাদার যৌনকর্মী, তা জানার পরও তাঁর সঙ্গে অবাধ যৌনাচারে লিপ্ত হতেন অনেক মাঝবয়সি গৃহবধূও। সুলতানের ইনবক্স উপচে পড়ত তাঁর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য। চারটি ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করতেন তিনি। অন্তত তিনটি ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল, দুটি ফেসবুক প্রোফাইল থেকে কাজ চালাতেন ‘আমাগো দ্যাশের পোলা’। হিন্দি, বাংলা, ইংরেজিতে চোস্ত সুলতান দাবি করেছেন, মহিলারাই যদি তাঁর প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন, তাহলে তাঁর কী করার আছে? ক্যাসানোভা সুলতানের দাবি যে সত্যি তার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। কারণ কামশাস্ত্র গুলে খাওয়া সুলতানের নিয়মিত ক্লায়েন্ট ছিলেন ঢাকার অভিজাত ব্যবসায়ী পরিবারের এবং রাজনৈতিক নেতার কয়েক জন স্ত্রী এবং মেয়েও।

[বেজিংকে বড় ধাক্কা, চিনা ড্রোন ব্যবহার বন্ধ করল আমেরিকা]

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.