সুকুমার সরকার, ঢাকা: বাংলাদেশে (Bangladesh) গুলির লড়াইয়ে খতম সাংবাদিক হত্যাকারী তথা মাদক পাচারকারী মহম্মদ রাজু। তবে শনিবারের এই ঘটনায় নিহত সাংবাদিকের পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করলেও ফের সমালোচনার মুখে পড়েছে বাংলাদেশের এলিট বাহিনী র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
[আরও পড়ুন: উধাও করোনা আতঙ্ক, বাংলাদেশের ২৭৮ বছরের পুরনো মন্দিরে জমজমাট বৈশাখী মেলা]
বাংলাদেশে বিচার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিরোধীদল ও মানবাধিকার সংস্থাগুলি সরকারের পাশাপাশি এলিট ফোর্স র্যাবের সমালোচনায় সরব। গত ডিসেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমালোচনার সঙ্গে র্যাব ও এর ছ’জন আধিকারিকের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। মানবাধিকার সংস্থাগুলি এজন্য যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগত জানায়। এরপর থেকে দেশে চার মাস আর কোনও বন্দুকযুদ্ধের খবর সংবাদমাধ্যমে আসেনি। গত ডিসেম্বরে র্যাবের কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় হাসিনা সরকারের কপালে বড় চিন্তার ভাজ পড়ে যায়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশে এলিট ফোর্স র্যাব গঠিত হয়। খুনি-মাদক কারবারীদের মতো অপরাধীদের নিয়ে অস্ত্র উদ্ধার বা কোনও তদন্তে গেলে হামলা ও পালটা হামলার ঘটনার সময় মৃত্যু ঘটলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ পায় যে, বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। বিএনপি-জামাত জোট শাসনামলে আওয়ামি লিগ এনিয়ে সমালোচনা করে। এরপর আওয়ামি লিগ সরকার শাসনামলে বিএনপিও তার সমালোচনা করে আসছে। এই সমালোচনার মধ্যে যুক্ত হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গত ডিসেম্বরের পর গত চার মাস ‘গুলিযুদ্ধের’ খবর পাওয়া যায়নি।
এহেন পরিস্থিতিতে ভারত সীমান্ত সংলগ্ন বাংলাদেশের কুমিল্লায় সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামি গত শনিবার গভীর রাতে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। র্যাব জানিয়েছে, ভারত সীমান্তবর্তী কুমিল্লার আদর্শ উপজেলার গোলাবাড়ি এলাকায় এই বন্দুকযুদ্ধ ঘটে। এরআগে গত বুধবার মাদক কারবারীদের হাতে সাংবাদিক নিহত হবার পর কয়েকদিন ধরে কুমিল্লার সাংবাদিকেরা নানা প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে আসছিলেন। এই ঘটনায় নিহত সাংবাদিক মহিউদ্দিন সরকারের মা নাজমা আক্তার মাদক কারবারি মহম্মদ রাজু নিহত হবার ঘটনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, তিনি তাঁর পুত্র হত্যার বিচার পেয়েছেন।
উল্লেখ্য, মানবাধিকার লংঘনমূলক কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের বিশেষ পুলিশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন এবং এর ৬ জন আধিকারীকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের অর্থদপ্তর সেখানে বলা হয় যে, বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় র্যাবের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ – আইনের শাসন, মানবাধিকার, মৌলিক স্বাধীনতা, ও বাংলাদেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে হেয় করার মাধ্যমে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে। ওই বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের বেসরকারি সংগঠনগুলি অভিযোগ করেছে যে র্যাব এবং অন্যান্য আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ২০০৯ সাল থেকে প্রায় ৬০০টি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, ৬০০-রও বেশি লোকের অদৃশ্য হয়ে যাওয়া, এবং নির্যাতনের জন্য দায়ী।
[আরও পড়ুন: দেড় দশক পর গ্রেপ্তার ঢাকায় বৈশাখী বিস্ফোরণে ফাঁসির আসামি মুফতি শফিক]
সর্বশেষ খবর
-
টিকিটাকায় ধরাশায়ী অস্ট্রিয়া, দুর্বার গতিতে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় স্পেন
-
মিড ডে মিলের মাংস দিয়ে স্যারের বিবাহ বার্ষিকীর ভোজ! শান্তিপুরের স্কুলে তুমুল শোরগোল
-
অফিসের ২৫ জনকে পুলিশি হেনস্তা! ভয় দেখিয়ে মিথ্যা বয়ান রেকর্ড, দাবি অভিষেকের
-
হোয়াটসঅ্যাপের পরে টেলিগ্রাম, সিগন্যাল! ‘ইউজারনেম’ ফিচার নিয়ে নোটিস কেন্দ্রের
-
ক্রিপ্টোকারেন্সি নিয়ে কেন্দ্র ও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মতান্তর! বৈঠকে প্রশ্ন একাধিক সাংসদের