সঞ্জীব মণ্ডল, শিলিগুড়ি: সাত সকালেই দুর্ঘটনা। শিলিগুড়িতে কুয়োতে পড়ে মৃত্যু হল তিনজনের। মৃতদের মধ্যে দু’জন সম্পর্কে বাবা ও ছেলে। অন্যজন প্রতিবেশী। মৃতদের নাম নিরঞ্জন মাহাতো (৬০), বিক্রম মাহাতো (২৬) ও প্রতিবেশী হুবলাল শাহ (২৫)। পুলিশ ও স্থানীয়দের অনুমান অব্যবহৃত কুয়োয় জমে থাকা মিথেন গ্যাসই প্রাণ কেড়েছে তিনজনের। বাড়ির জলের পাম্পের সঙ্গে কুয়োর সংযোগ ছিল। হয়তো বৈদ্যুতিন সংযোগে কোনও গরমিল থাকতে পারে। তা থেকেই শর্ট সার্কিটের জেরেও দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ তিনটি উদ্ধার করে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শিলিগুড়ির সন্তোষী নগরে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে।
[জাদুকরের মায়াজালে রাস্তায় ঘুরল মুণ্ডহীন দেহ, বিতর্কে ‘মাজিশিয়ান ম্যানড্রেক’]
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাহাতো পরিবারের জল সরবরাহ হত বাড়িতে থাকা কুয়ো থেকেই পাম্পের সাহায্যে জল যেত রিজার্ভারে। সেই পাম্পের কোনও নাটবল্টু খুলে কুয়োতে পড়ে যায়। সেটি খুঁজে পেতেই কুয়োতে নামেন বিক্রম। দীর্ঘক্ষণ হয়ে গেলেও ছেলে উঠছে না। এই দেখে বাবা নিরঞ্জন মাহাতোও কুয়োতে নামেন। এরপরেও অনেকটা সময় কেটে যায়। ততক্ষণে ন’টা বেজেছে। খবর পেয়ে মাহাতো বাড়িতে ভিড় করেন প্রতিবেশীরা। শুরু হয়ে যায় কানাঘুষো। হয়তো অব্যবহৃত কুয়োতে জমে থাকা মিথেন গ্যাসেই অচেতন হয়ে পড়েছেন বাবা-ছেলে। এই ভেবে তাঁদের উদ্ধারে নামেন পাশের বাড়ির হুবলাল শাহ। এরপরও অনেকটা সময় কেটে যায়। ওই যুবককে উঠে আসতে না দেখে দৃশ্যতই চিন্তিত হয়ে পড়েন প্রত্যক্ষদর্শীরা। খবর যায় শিলিগুড়ি থানায়। দমকলেও খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তড়িঘড়ি তিনটি দেহ উদ্ধার করে দমকলকর্মীরা। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনজনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। এরপর মৃতদেহগুলিকে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে শিলিগুড়ি জোন ওয়ানের ডেপুটি কমিশনার গৌরব লাল জানান, মিথেন গ্যাসে দম আটকে তিনজনের মৃত্যু হতে পারে। অথবা পাম্পিং সংযোগে কোনও ফল্ট থাকতে পারে। তার জেরে শর্ট সার্কিটও হয়ে থাকতে পারে। এর যে কোনও একটি কারণে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, অন্তত এটাই প্রাথমিক অনুমান। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
মৃত যুবকের দাদা গৌরাঙ্গ মাহাতো বলেন, ‘কী থেকে কী হয়ে গেল জানি না। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ভাই ও বাবা চলে গেলেন। ভাই কুয়োতে নেমেছিল, জানতাম না। অনেক্ষণ তাকে দেখতে না পেয়েই বাবাকে জিজ্ঞাসা করি। বাবাই জানান, পাম্পের নাট খুঁজে কুয়োতে নেমেছে ভাই। তারপর কি হল, দেখে আসি বলে বাবাও নেমে গেলেন।’
[মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে কলেজেই বাদুড়ের আস্তানা, নিপার আতঙ্ক সর্বত্র]
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের