সম্যক খান, মেদিনীপুর: জামিনে মুক্তি মিললেও লকডাউনের কারণে ঘরে ফেরা হল এক বিচারাধীন বন্দির। প্রায় দেড় মাস ধরে তার ঠিকানা মেদিনীপুর শহরের কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ড। আর পেট ভরছে চেয়ে চিন্তে। এই মুক্তির চেয়ে জেলই ভাল ছিল, এখন একথাই বলছেন ওই ব্যক্তি। কারণ, তখন দু’বেলা ভরপেট খাবার তো জুটত!
জানা গিয়েছে, ওই ব্যক্তির নাম ভোলানাথ সিং। আদতে পুরুলিয়ার বাসিন্দা ওই ব্যক্তি স্ত্রী হত্যার অভিযোগে গত সাড়ে চার বছর ধরে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ছিলেন মেদিনীপুর সংশোধনাগারে। গত এপ্রিল মাসের ১ তারিখে জামিনে মুক্তি পেয়েছে সে। নিয়মমাফিক জেল থেকে তো ছাড়া পেয়েছে, কিন্তু লকডাউনের চক্করে পড়ে পুরুলিয়ায় বাড়ির দিকে এগোতে পারেনি। বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন গিয়ে দেখেছেন কোনও বন্ধ সমস্ত পরিবহন। সাড়ে চার বছর পর বাড়ি ফিরে নিজের এক কিশোরী কন্যাকে দেখার তাড়নায় ছুটে গিয়েছিলেন পুলিশের কাছেও। কিন্তু পুলিশও জানিয়ে দিয়েছেন একজন ব্যক্তির জন্য একটি গাড়ির ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়। অগত্যা তিনি এদিক ওদিক ঘুরে আশ্রয় নিয়েছেন বাসস্ট্যান্ডে। এখন সকাল হতেই তাঁর প্রধান কাজ শহরের রাজপথে বেরিয়ে পড়া খাবারের সন্ধানে। কখনও হাসপাতালের সামনে তো কখনও অন্য কোনও মোড়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন তিনি, যদি কোনওক্রমে দু’মুঠো জোটে।
[আরও পড়ুন: করোনা মুক্ত হয়েই শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকর্মী! সংক্রমণের আতঙ্কে রাস্তা অবরোধ স্থানীয়দের]
ভোলানাথের কথায়, এমন অনেক দিনও গিয়েছে যে খাবার না পেয়ে কেবলমাত্র জল খেয়েই কাটিয়ে দিতে হয়েছে, এর থেকে জেলের জীবন অনেক ভাল। এখন তিনি পথ চেয়ে বসে আছেন কখন লকডাউন উঠবে আর বাস-ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। বাড়ি ফিরে মেয়ের মুখখানা একবার দেখার জন্য ব্যাকুল তিনি।
[আরও পড়ুন: ঘরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সমস্যা, লকডাউনে পর মাঠেই পড়ানো শুরু গৃহশিক্ষকের]
সর্বশেষ খবর
-
দুই পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ট্রেকিংয়ে গিয়ে নিখোঁজ! উত্তর কাশীর এমবিএ পড়ুয়ার নিরুদ্দেশ ঘিরে ঘনাচ্ছে রহস্য
-
৩ বছর একই অফিসে কর্মরত পঞ্চায়েত কর্মীদের বদলির নির্দেশ, ১১,১৫৪টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ
-
সাইয়ের ২০০ কোটির প্রকল্প আটকে দিয়েছিল তৃণমূল! মমতা-অরূপকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক দিন্দা
-
খালি পায়ে সাড়ে তিন হাজার সিঁড়ি বেয়ে তিরুপতিতে জাহ্নবী, কেন এই কঠিন ব্রত?
-
সই-কাণ্ডে ফিরহাদের বাড়িতে সিআইডি, মিটিংয়ে কী ঘটেছিল? জিজ্ঞাসাবাদ মেয়রকে