সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: মহাভারতে অর্জুনের তিরে নাকি পরমাণু অস্ত্র ছিল। রাজ্যপালের এই মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। জগদীপ ধনকড়ের নিন্দায় সরব বিশিষ্ট থেকে রাজনীতিবিদরা। এবার রাজ্যপালকে কটাক্ষ করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা তথা সাংসদ অধীর চৌধুরি। ধনকড়ের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে তাঁর তোপ, ‘রাজ্যপাল পাগল। পাগলাগারদে সব পাগল থাকে না। কিছু বাইরেও ঘুরে বেড়ায়।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘মোদির হাতে অর্জুনের তির দিয়ে দেখুন, কী হয়!’
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় বলেন, “বিংশ শতাব্দীর অনেক আগেও রামায়ণে উড়ন্তযানের ব্যবহার ছিল। অর্জুনের তিরে ছিল পরমাণু অস্ত্র। মহাভারতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের বর্ণনা করেছিলেন সঞ্জয়। তাও আবার ঘটনাস্থল থেকে নয়।” ধনকড়ের এই মন্তব্যের সঙ্গে এই মহাকাব্যগুলির কোনও মিল অবশ্য খুঁজে পাচ্ছেন না নেটিজেনরা। রামায়ণে পক্ষীরাজ ঘোড়া এবং পুষ্পক রথের মতো উড়ন্তযানের উল্লেখ থাকলেও, মহাভারতে পরমাণু অস্ত্রের কোনও উল্লেখ নেই। অর্জুন মহাশক্তশালী হলেও তিনিও পরমাণু শক্তির মালিক ছিলেন কিনা, তার কোনও উল্লেখ নেই। রাজ্যপালের এই মন্তব্যে বেজায় চটেছে বিজ্ঞানমহল। বিজ্ঞানী বিকাশ সিনহা বলছেন, “রাজ্যপালের মস্তিষ্ক বিকৃতি হয়েছে। চিন্তাধারার মধ্য এই ধরনের কল্পনা ঢুকিয়ে দেওয়া বেশ বিপজ্জনক। এর অর্থ হল আমরা আগে থেকেই সব জানতাম। নতুন কিছু করছি না। ওঁর এখন এসব না করে অন্য কাজ করা উচিত।”
বুধবার রাজ্যপালকে আক্রমণ শানালেন অধীর চৌধুরিও। জানান, ‘রাজ্যপালের এহেন অলীক মন্তব্য রাজ্যের পক্ষে দুর্ভাগ্যের। আসলে উনি তো বিজেপিরই লোক। তাই এই সব কথা বলছেন। যে বাংলা থেকে চারজন নোবেল পেয়েছেন, সেই বাংলার রাজ্যপালের কাছে এমন অলীক কথাবার্তা বড়ই দুর্ভাগ্যের।’ এরপর তিনি রাজ্যপালকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘এক কাজ করুন, ওই তির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে দিয়ে দিন। তিনি যাঁকে ইচ্ছা উড়িয়ে দিতে পারবেন। কোনও ঝামেলার দরকার নেই। গবেষণার দরকার নেই, সেনাবাহিনীর দরকার নেই। শুধু প্রধানমন্ত্রী দপ্তরে বসে এক একটা করে তির ছাড়বেন, আর পাকিস্তান উড়ে যাবে, আফগানিস্তান উড়ে যাবে। যাঁকে মনে করবেন উড়িয়ে দেবেন’
সর্বশেষ খবর
-
প্রথম ম্যাচের আগে সুস্থ হবেন ইয়ামাল, বার্তা স্প্যানিশ কোচ ফুয়েন্তের
-
অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকাই কি বাংলার পরবর্তী বোলিং কোচ? বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন হতেই জল্পনা
-
মাতলার চরে সবুজের উৎসব, সুন্দরবন বাঁচাতে রোপণ করা হল হাজার হাজার ম্যানগ্রোভ
-
গ্রেপ্তারির পর কেন কোমরে দড়ি পরিয়ে ঘোরানো হচ্ছে রাস্তায়? রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চাইল হাই কোর্ট
-
‘বৈজ্ঞানিক সত্য’-র দায় নেই, ‘রাজনৈতিক সত্য’ হওয়ার