সোমনাথ পাল, বনগাঁ: যশোর রোডের শতাব্দী প্রাচীন গাছ নিয়ে ফের ভিন্ন ভিন্ন আন্দোলন। অবরোধ, বিক্ষোভের জেরে বিপাকে পড়েছে প্রশাসন। যশোর রোড লাগোয়া বাসিন্দাদের কাছে গাছের ডাল ভেঙে মৃত্যুর স্মৃতি এখনও টাটকা। বছর কয়েক আগের ঘটনা। বনগাঁয় বর্ষার মধ্যেই শতাব্দী প্রাচীন শিরিষ গাছের মোটা ডাল ভেঙে পড়েছিল চলন্ত অটোর মাথায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অটোর তিনযাত্রীর। ওই সময় গাছের চোরা কারবারিদের উপরেই অভিযোগ আরোপ করে দায় এড়িয়ে ছিল পুলিশ প্রশাসন। চোরা কারবারিদের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে জনবিক্ষোভকেও তখনকার মতো প্রশমিত করা হয়।
[রমজান মাসের পর উঠে যাবে কংগ্রেস! অধীর দুর্গে শুভেন্দুর হুঙ্কার]
এই ঘটনার পরেই গাছ কাটার উদ্যোগ নেয় ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি ও কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক। মন্ত্রকের অধীনে থাকা ৩৫ নম্বর জাতীয় সড়ক যশোর রোড সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়। সেই মতো ঠিক হয়, রাস্তা সম্প্রসারণ করা হবে ভারত বাংলাদেশের পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে ভিআইপি মোড় পর্যন্ত। জমি জরিপের কাজও শুরু হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য যশোর রোডের দু’পাশে থাকা কয়েক হাজার শিরিষ গাছ কেটে ফেলা হবে। এহেন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের খবর পেয়েই পথে নামেন সাধারণ মানুষ। পরিবেশ বিপন্ন হতে পারে, শতাব্দী প্রাচীন গাছ বাঁচিয়ে রাস্তা সম্প্রসারণের কাজ হোক। এই দাবিতে ও গাছ কাটার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় যশোর রোড গাছ বাঁচাও কমিটি। শুনানিতে মহামান্য হাইকোর্ট গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ দেয়।
সম্প্রতি গাছবাঁচাও কমিটি তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, হাই কোর্টের আদেশ অমান্য করে পুলিশের সামনেই অবাধে চলছে যশোর রোডের গাছ কাটার কাজ। কিন্তু যশোর রোড লাগোয়া বাসিন্দারা অন্য কথা বলছেন। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিনের গাছ তাই শিকড়ের জোর কমেছে। সামান্য ঝড় বৃষ্টিতেই ভেঙে পড়ছে গাছের মোটা ডাল। প্রাণ যাচ্ছে পথচলতি নিরীহ মানুষের। ঠিক যেমনটি ঘটেছে শনিবার রাতে। ওই দিন রাতে গাইঘাটা থানার দোগাছিয়া এলাকায় যশোর রোডের ওপর এমনই এক গাছের ডাল ভেঙে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনজন। এরপরেই গাছ কাটার দাবি জানিয়ে রবিবার গাইঘাটা থানার চাঁদপাড়া এলাকায় কয়েক ঘণ্টার জন্য যশোর রোড অবরোধ করেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। বিষয়টি উপরমহলে জানানোর আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। অন্য দিকে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রবিবারই গাছ কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে বনগাঁ শহরে মিছিল করে গাছ বাঁচাও কমিটি। একদিকে গাছ কাটার জন্য বিক্ষোভ। অন্যদিকে কাজ কাটার দাবি জানিয়ে অবরোধ। এই দুয়ের মাঝে পড়ে নিতান্তই অস্বস্তিতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।
[প্রতিবেশীর বাড়িতে চোলাই মদের দোকান, প্রতিবাদ করে আক্রান্ত দম্পতি]
সর্বশেষ খবর
-
কম সুদে চটজলদি লোন পাইয়ে দেওয়ার ছক! বড়সড় প্রতারণাচক্রের পর্দাফাঁস লালবাজারের
-
‘একতরফা পদক্ষেপ নয়’, সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কে আমেরিকাকে আলোচনায় বসার বার্তা ভারতের
-
অবিশ্বাস্য লড়াইয়েও শেষরক্ষা হল না মুচোভার, ‘চেক-মেটে’ উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা
-
বীরগাথা থেকে দেশভাগের যন্ত্রণা, বাংলায় পার্টিশন মিউজিয়াম বানানোর প্রস্তাব গোপাল পাঁঠার পরিবারের
-
প্রথমে দু’হাজার, তারপর দৈনিক ৩ লক্ষ টাকা! রামমন্দিরে চুরির তদন্তে স্বীকারোক্তি অভিযুক্তের