ধ্রুবজ্যোতি বন্দ্যোপাধ্যায়: গোপনে যেন মহাযুদ্ধের প্রস্তুতি! যা আয়োজন, তাতে মহাযুদ্ধর থেকে কম কিছু না। রাজ্যজুড়ে লোকসভাভিত্তিক ৪২ পাতার ফেসবুক পেজ খুলে ঘরের মাঠে গা ঘামানোর কাজটা পঞ্চায়েত ভোটের আগেই শুরু করে দিয়েছিল তৃণমূল। সেই হাতিয়ার বড় সাফল্য এনে দিয়েছে। গ্রামের ভিত পাকা করেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মূল লক্ষ্য নিয়েছেন ২০১৯-এর লোকসভা। বাংলা থেকে দিল্লির পরিবর্তনের চাকা ঘোরানোর সেই ডাক দিয়েও দিয়েছে তাঁর দল। লড়াইয়ের সেই তোড়জোড়ের প্রথম পর্বেই দলে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটাতে চলেছে তৃণমূল।
[শাসকদলকে ভোট না দেওয়ার মাশুল! ইদে নমাজ পড়তে পারল না ৭টি মুসলিম পরিবার]
পোশাকি নাম ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়া কনক্লেভ’। টার্গেট প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাধীনতা দিবসের আগে ৪০ হাজার ‘ডিজিটাল সহায়ক’ তৈরি করা। ছাত্র-যুবদের কাঁধে ডিজিটাল বিপ্লব ঘটানোর দায়িত্ব দিয়ে বাংলাকে দেশের শীর্ষে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন মমতার দীর্ঘদিনের। বিজেপির সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে নামতে গেলে তাদের ঝোড়ো ডিজিটাল প্রচারের মোকাবিলাও সমান তালে করে যেতে হবে। তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব খুব ভাল করেই জানে, বড় প্রতিপক্ষ হিসাবে বিজেপি দলকেই শুধু নয়, তাদের ডিজিটাল সেলকে প্রথম থেকেই কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে হবে। না হলে অসম লড়াই। তাই শুধু কড়া ডিফেন্সিভ হলেই হবে না, এই টিমকে দরকারে মুহূর্তে চরিত্র বদলে নিতে হবে। হতে হবে অ্যাটাকিং অর্থাৎ আক্রমণাত্মকও।
[মমতা দিল্লি যেতেই নাটকীয় মোড় রাজনীতিতে, তৃণমূল নেত্রীর পাশে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী]
স্মার্ট, কথাবার্তায় ঝরঝরে, তুখড় বুদ্ধি, নেট ও দিন-দুনিয়া সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, দলের ছাত্র-যুব থেকে এমন ডেডিকেটেড ২০০ জনকে তাই প্রাথমিক পর্যায়ে বাছাই করা হয়েছে। তাদের একজোট করেই আগামী বুধবার কোর কমিটির বৈঠকের আগেরদিনই কলকাতার মৌলালি যুবকেন্দ্রে বসছে কনক্লেভ। যাদের ডিজিটাল দুনিয়ার ঘাঁত-ঘোঁত বুঝিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে আসবেন আইটি বিশেষজ্ঞরা। এই পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে টিসিএস ও কগনিজেন্টের কয়েকজন বিশেষজ্ঞর সঙ্গে। তৃণমূল আইটি সেলের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে ইতিমধ্যে বেশ কয়েক দফায় আলোচনাও সারা হয়ে গিয়েছে। বুধবারের প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্যসভায় দলের নেতা তথা দলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ডেরেক ও’ ব্রায়েন।
শুধু ডেরেকই নন, পঞ্চায়েত ভোটের সময় থেকে দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীরও ঝোঁক বেড়েছে দলের এই ডিজিটাল সেলের প্রতি। সময় সময় দলের হয়ে সরকারের কাজের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। গত ৭-৮ মাস ধরে দলের ৪২টি এফবি পেজ, একাধিক নিউজ পোর্টালেও রাজ্যের নানা কাজ নিয়ে প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে চলছে কেন্দ্রের জন-বিরোধী নীতির কড়া সমালোচনাও। সেই প্রক্রিয়ার গতিই আরও বাড়াতে চাইছে দল। আপাতত বিভিন্ন জেলায় তৃণমূলের সোশ্যাল মিডিয়া সেলের হয়ে সক্রিয় কর্মী রয়েছেন ৮৪ জন। সেই সংখ্যাই বাড়িয়ে ২০০ করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রশিক্ষণের পর তাঁরাই নিজেদের এলাকায় গিয়ে সংখ্যাটা আরও বাড়ানোর কাজ করবেন। জেলা, ব্লক ও বুথ-তিন স্তরেই এভাবে সদস্য বাড়িয়ে ৪০ হাজার ‘ডিজিটাল সহায়ক’-এর দল গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ায় অন্যতম ভূমিকায় রয়েছেন যুবর সর্বভারতীয় সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। এ পরও দলকে ডিজিটাল দুনিয়ায় সড়গড় করার কাজ ঠিকমতো চলছে কি না, তার তদারকির দায়িত্ব নিজের কাঁধে রেখেছেন টেক স্যাভি মমতা। দল ও তার সমর্থকদের গ্রুপ পেজ হোক বা পোর্টাল, সরকারের প্রচার থেকে কেন্দ্রের মোকাবিলা, সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চলছে কিনা, প্রতিনিয়ত তার খোঁজ রাখেন তৃণমূলনেত্রী।
[ইদে সর্বশিক্ষা মিশনের অফিস খুলে রাখার নির্দেশ, সরকারকে হেয় করার অভিযোগ]
এই মুহূর্তে তৃণমূলের হয়ে প্রচার ও বিরোধীদের সমালোচনার জন্য ১০ হাজার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ রয়েছে। প্রতিটি গ্রুপে রয়েছেন ২৫৬ জন সদস্য। সব মিলিয়ে আড়াই কোটির কিছু বেশি সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে এখন রাজ্যের শাসকদলের হয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে কাজ করছে। ডিজিটাল সহায়কের সংখ্যা বাড়লে, এই সংখ্যাও স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে বলে দলের আশা। দলের এক শীর্ষ নেতা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, “রাজ্যে এই মুহূর্তে ভোটারসংখ্যা ৬ কোটি। ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে তিন কোটির কিছু কম ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়ায় দলের আড়াই কোটি সৈনিক থাকলে, দলের প্রাপ্ত ভোট নিশ্চিত। এর পর তো রয়েছে তৃণমূলনেত্রীর নিজের স্ট্র্যাটেজি।”
সর্বশেষ খবর
-
‘স্কুলেই ফিনান্সিয়াল লিটারেসি পড়ানো উচিত’, কলকাতায় বেঙ্গল রাইজিং বিসনেস সামিটে বললেন সুকান্ত মজুমদার
-
আশঙ্কাই সত্যি! বারুইপুরে গণপিটুনিতে উসকানির অভিযোগে গ্রেপ্তার বামনেতা লাহেক আলি
-
মাকে পৃথিবী থেকে সরালেই ঘরে ফিরবে বউ, শাশুড়ির শর্ত মেনে জন্মদাত্রীকে খুনের চেষ্টা ছেলের!
-
কোভিড আক্রান্ত কুমার শানুপুত্র জান! ফের ফিরছে আতঙ্কের দিন?
-
‘না পোষালে চাকরি ছেড়ে দিন’, প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিয়ে চিকিৎসকদের কড়া ‘ওষুধ’ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর